জয়ী বিজেপি প্রার্থীর শংসাপত্র ‘ছিনিয়ে নিল’ তৃণমূল!

ছবি: প্রতীকী

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল বাঁকুড়ার ইন্দপুরের ভেদুয়াশোলে। মঙ্গলবার ভেদুয়াশোল গ্রামপঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন চলছিল৷ বিজেপির অভিযোগ, পুলিশের সামনে তাদের দলের টিকিটে নির্বাচিত চন্দনা বাউরির বিজয়ী শংসাপত্র ছিনিয়ে নেয় তৃণমূলের লোকজন৷ পুলিশ সেখানে নীরব দর্শকের ভূমিকা নেয় বলে অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের৷

এরপরই বিজেপি ও সিপিএম একসঙ্গে পথঅবরোধ করে৷ জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ইন্দপুর, বাঁকুড়া-১ ও বাঁকুড়া-২ ব্লকের ১১টি গ্রামপঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন-সহ প্রধান নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়৷ এদিকে ভোটের সময় বিভিন্ন জায়গায় যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সে কথা মাথায় রেখে সবক’টি পঞ্চায়েতেই ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন৷

আরও পড়ুন: OMG! সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ব্যোমকেশ!

- Advertisement -

অভিযোগ, এরপরও পুলিশের উপস্থিতিতে ভেদুয়াশোলে উত্তেজনা ছড়ায়৷ বিজেপির জয়ী প্রার্থীর শংসাপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ ও তার জেরে পঞ্চায়েত অফিস সংলগ্ন রাজ্য সড়ক অবরোধের ঘটনায় পুলিশের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এলাকার লোকজন৷

১৭ আসনের ভেদুয়াশোল গ্রামপঞ্চায়েতে তৃণমূল সাতটি, বিজেপি ছ’টি, সিপিএম তিনটি ও নির্দল প্রার্থী একটি আসনে জয়লাভ করেন। সিদ্ধান্ত হয় বিজেপি ও সিপিএম হাত মিলিয়ে পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন করবে৷ কিন্তু এরমধ্যেই বিজেপির এক জয়ী সদস্যের শংসাপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে৷

বোর্ড গঠনের দাবিতে ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বিজেপি ও সিপিএম কর্মীরা বাঁকুড়া-খাতড়া ভায়া ইন্দপুর রাজ্য সড়কের উপর ভেদুয়াশোলে পথ আটকান৷ এরজেরে একের পর এক যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি আটকে পড়ে৷ চরম সমস্যায় পড়তে হয় পথচারিদের৷

আরও পড়ুন: অধীরকে গুরুত্বহীন করে তৃণমূলকে কাছে টানলেন মৌসম

বিজেপি নেতা অচিন্ত্য সিংহ, পবন লোহারদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতে ও পুলিশের ‘সহযোগিতা’ নিয়েই তাঁদের জয়ী সদস্যর হাত থেকে তৃণমূলকর্মীরা শংসাপত্র ছিনিয়ে নিয়েছে৷ এমনকী পঞ্চায়েত অফিসের মূল ফটক আটকে তৃণমূল কর্মীরা স্লোগান দিলেও বিজেপির নির্বাচিত সদস্যদের সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি৷ একই সঙ্গে বোর্ড গঠনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তৃণমূলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে ওই হলঘরে বিজেপি সদস্যদের ঢুকতে বাধা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ৷

তৃণমূল অবশ্য বিজেপির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে৷ নিজেদের ‘শৃঙ্খলাপরায়ণ’ দলের সদস্য দাবি করে তৃণমূল নেতা সুদর্শন গোস্বামী বলেন, তৃণমূলের কেউ বিজেপি সদস্যের শংসাপত্র ছিনতাই করেনি। ওই কাজ সিপিএম কর্মীরা করেছেন৷ বিজেপি-সিপিএম একসঙ্গে এদিন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন: মোমো বলেছে ফোন নম্বর ‘হ্যাকড’, ভয়ে কাঁপছেন বাঁকুড়ার মৃণ্ময়

এদিন দুপুর গড়িয়ে চলে অবরোধ৷ এর জেরে স্থগিত রাখা হয় বোর্ড গঠনের কাজ৷ এদিকে মঙ্গলবারের মধ্যেই বোর্ড গঠনের কাজ সেরে ফেলতে চায় প্রশাসন৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী টহলদারি চালাচ্ছে৷

Advertisement
---