অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াই সারতে পারে ভাইরাল জ্বর

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বিনা অ্যান্টিবায়োটিকেও সারতে পারে আপনার সন্তানের ভাইরাল জ্বর। এমনটাই জানাচ্ছেন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী। বিশ্ব চিকিৎসক দিবসে তাঁর পরামর্শ অ্যান্টিবায়োটিক কম ব্যবহার করার। কারন জীবনদায়ী অ্যান্টিবায়োটিকই ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রত্যেক চিকিৎসকদের এই ভাবনাটা আসা উচিৎ বলে তিনি মনে করেন।

ভাইরাল ফিভার আগেও ছিল এখনও হয়। আগেও এমন জ্বর হলে চিকিৎসকরা ছেলে পিলেদের উপসর্গ শুনে জল পট্টি আর সামান্য কিছু ওষুধ দিতেন। তাতেই দিন চারেকেই চাঙ্গা। এখন পুরো বিষয়টাই পাল্টে গিয়েছে। জ্বর হলেই অনেক চিকিৎসকই রয়েছেন যারা কোনও কিছুর দেখেন না। ‘উপায় তো একটাই’ বলে দিয়ে দেন অ্যান্টিবায়োটিক। অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে চারদিনের বদলে দুই দিনেই জ্বর উধাও। কিন্তু পাশাপাশি শুরু হয়ে গেল পেটের সমস্যা। খাওয়া দাওয়ায় বিরক্তি, সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব। সে এক বিশ্রী অবস্থা। জ্বর গেল কিন্তু এটা আবার কি হল? ভেবে চিন্তায় পড়ে গেলেন মা-বাবা। কিচ্ছুই নয়। এটাই হল অ্যান্টিবায়োটিকের কু-প্রভাব। এটাকেই ডাঃ সুজয় জীবনদায়ী ওষুধের অপব্যবহার বলছেন। যেটার ব্যবহার এখনই কমানো দরকার।

- Advertisement -

 

সুজয় চক্রবর্তী বলেন, “সবার আগে চিকিৎসকদের এই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার প্রবণতা কমা দরকার। কারন অনেক সময়েই দেখা যায় যে জ্বর বা সর্দি-কাশির জন্য ওই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হল সেটার আদতে রোগ সারাতে কোনও ভূমিকাই নেই।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “ভাইরাল জ্বর চার পাঁচ দিন থাকে। তারপর নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। এর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার দরকার পড়ে না। অথচ তাকে দেওয়া হল ওষুধ। এরকম বার বার হলে পরে সমস্যা হতে বাধ্য।”

বেশি প্রয়োগের ফলে একটা সময় আসছে দেখা যাচ্ছে যখন আসল সময় অ্যান্টিবায়োটিকের দরকার তখন সেই প্রয়োজনীয় ডোজের ওষুধটি কাজ দিচ্ছে না। সুজয় চক্রবর্তী বলেন, “এর ফলে অনেক সময় আমাদের বাধ্য হয় বেশি ডোজের অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে রোগ নিরাময় করতে হচ্ছে।” অর্থাৎ বেশি ব্যবহারে জীবনদায়ী অ্যান্টিবায়োটিকই আবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কমিয়ে দিচ্ছে যা মারাত্মক ক্ষতিকারক।

আরও একটি সমস্যার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই অ্যান্টিবায়োটিক। সেটা চিকিৎসকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞ বলেন, “কিছু সীমিত ওষুধের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন চিকিৎসকরা, যেগুলি অ্যান্টিবায়োটিক। অন্য ওষুধেও যে সামান্য অসুখটি সারতে পারত সেটা খুঁজে দেখার চেষ্টাও কড়া হচ্ছে না।” এটিও এক ধরনের রোগ বলেই মনে করছেন তিনি।

তাই এখনই অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার কম করতে বলছেন তিনি।

Advertisement
---