ওভালে দারুণ সব ইনিংস রয়েছে কোহলির, এদিন অবশ্য পুরনো রোগ কামড়ে ধরল বিরাটকে

অ্যাডিলেড: ‘ওভালে সুপারপাওয়ার কোহলি থেকে সাবধান৷’ অজি মিডিয়ার এমন হেডলাইনে চোখ রেখে যারা মাঠে এসেছিলেন স্টার্ক বনাম কোহলির দারুণ একটা লড়াই দেখবেন বলে, দিনের শেষে তাঁদের প্রাপ্তি শূন্য৷

এই অ্যাডিলেডে দারুণ সব ইনিংস রয়েছে বিরাটের৷ শেষবার অজি সফরে এই মাঠে দুই ইনিংসে দুটি শতরান(২০১৪)৷সেবার প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ ছিল ১১৫ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ছিল ১৪১ রান৷ আরও দু’বছর আগে এগিয়ে যাওয়া যাক৷

২০১২ সালে এই মাঠে টেস্টে কেরিয়ারের প্রথম শতরান এসেছিল(১১৬রান) কোহলির৷ তাঁকে ঘিরে তাই ‘বিরাট’ প্রত্যাশা ছিলই, থাকাটাই স্বাভাবিক৷ বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান৷ কিন্তু ডনের দেশে বছর শেষে টেস্টে সিরিজে শুরুটা সুখের করতে পারলেন না বিরাট৷ফিরলেন মাত্র ৩ রানে৷ আনপ্লেয়েবেল কোনও ডেলিভারিতে আউট হলে লেখার ছিল না, কিন্তু বিরাট ফিরলেন সেই খোঁচা দিয়ে৷

রোগটা মাঝে সেরেছিল৷ ইংল্যান্ডে খোঁচা দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরার প্রবণতা কমেছিল৷সেই বিরাট ফের ফিরে গেলেন পুরনো রোগে৷ শুধু বিরাট কেন বাকিদের নিয়েও লিখতে হচ্ছেই৷প্রথম সেশনে আউট হওয়া চার ব্যাটসম্যানের চারজনই উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন৷

বিরাট, রাহানেদের উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসার প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে ‘ঘরে বাঘ, বাইরে বিড়াল’ থেকে এখনও বেড়িয়ে আসতে পারেনি ভারতীয় ব্যাটিং৷ দুই ওপেনারও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি৷বিরাটের ক্ষেত্রে অবশ্যই বলতে হচ্ছে খোয়াজার দুরন্ত ক্যাচের জন্য বিপদ সামলাতে পারেননি৷ উইকেটের পিছনে এদিন বাজপাখির মতো  বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে দুরন্ত ক্যাচ নিয়ে কোহলিকে প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখান খোয়াজা৷বাকিদের ক্ষেত্রে কিন্তু নিজেরাই অজিদের হাতে উইকেট উপহার দিয়ে আসেন৷ হতশ্রী ব্যাটিংয়ের পর এবার কিন্তু রাহানে, রাহুলদের আত্মসমালোচনার প্রয়োজন৷

অজি বোলারদের হুংকার

আর রোহিত হিটম্যান শর্মা৷ শুরুটা করলেন ,কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার অভাব৷লাল-বলের ক্রিকেটে আরও বেশি ধৈর্য্য না ধরলে কাঁটার সিংহাসন তৈরি রোহিতের জন্য ৷৩৭ রানে সেট হয়ে গিয়ে ন্যাথনের যে বলটায় ক্যাচ তুলে ফিরলেন দেখলে মনে হতেই পারে গলি ক্রিকেটের আনকোড়া কোনও ক্রিকেটারের ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংস ছিল৷ লাল-বলে সাফল্য পেতে ‘হিটম্যান’-এর মোড়ক থেকে বেড়িয়ে আসতে না পারলে কপালে দুঃখ রয়েছে মুম্বইকরের৷ তরুণ ঋষভের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য৷

--
----
--