জুম্মাবারে হাসিনার নামাজের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা বিশ্বভারতীর

বাসুদেব ঘোষ, বোলপুর: চলতি মাসে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নামাজ পড়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।

আগামী ২৫ তারিখ বীরভূমের বোলপুরের বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সমাবর্তন উপলক্ষে বসতে চলেছে চাঁদের হাট। ওই দিন শুক্রবার অর্থাৎ ইসলাম নিয়ম অনুসারে যা জুম্মাবার। সপ্তাহের বিশেষ নামাজ হয় ওই দিনে। পড়শি দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপাসনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিন সকাল সাড়ে দশটা থেকে শুরু হবে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের অনুষ্ঠান। যা চলবে বেলা ১২টা পর্যন্ত। এরপরে মোদী-হাসিনা উদ্বোধন করবেন ‘বাংলাদেশ ভবনে’র। তারপরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

- Advertisement -

বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে রমজান মাস চলছে। এরই মাঝে পবিত্র জুম্মাবারে নিয়ম মেনে দুপুরের নামাজ পাঠ করতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই কারণে বাংলাদেশ ভবনের পাশেই একটি ঘরে মুজিব তনয়ার জন্য নামাজ পাঠের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের পরে দুই প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে। দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক যাতে আরও মজবুত হয় সেই বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা চুক্তির বিষয়েও আলোচনার সম্ভবনা রয়েছে। এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাঝেই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাত করার কথা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

যদিও সমাবর্তন অনুষ্ঠানের পরের যাবতীয় কর্মসূচি স্থির হবে আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখা হাসিনার নামাজের উপরে ভিত্তি করে। সেই কারণে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে কোনও চূড়ান্ত নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা হয়নি।

নির্ধারিত সূচি অনুসারে, কলকাতা থেকে বিশেষ হেলিকপ্টারে বোলপুরে পৌঁছাবেন নরেন্দ্র মোদী এবং শেখ হাসিনা। সকাল দশটা নাগাদ তাঁদের বোলপুরে পৌঁছানোর কথা। সেখানে উদয়ন গৃহে কবি কক্ষে গুরুদেবের মূর্তিতে মাল্যদান করবেন। অদূরেই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বিশ্রামের জন্য পৃথক ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ কপ্টারের অবতরণের জন্য বোলপুরে দু’টি মাঠের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একটি হল কুমীরডাঙার মাঠ এবং অপরটি পূর্ব পল্লী মেলার মাঠ। যদিও সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে অন্তিম মুহূর্তেও সব পরিকল্পনার বদল হতে পারে। এমনটাই জানা গিয়েছে বিশ্বভারতী সূত্রে৷ যদিও ইতিমধ্যেই বিশ্বভারতীর নিরাপত্তার দায়িত্ব চলে গিয়েছে এসপিজির হাতে৷

Advertisement ---
-----