প্রথম তামিল মহিলার কুর্সি দখল ঘিরে দক্ষিণে গনগনে রাজনৈতিক আঁচ

বিশেষ প্রতিবেদন: দরকার রাজ্যপাল সি বিদ্যাসাগরের সম্মতি৷ সেটি জোগাড় করতে পারলেই নজির ঘটাবেন শশীকলা৷ প্রথম তামিল মহিলা হিসেবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন তিনি৷ ফলে শশীকলা নটরাজন (ভি কে শশীকলা) দাঁড়িয়ে আছেন ইতিহাসের দোরগোড়ায়৷ তাঁর জন্ম তামিলনাড়ুর থিরুভারুর জেলার থিরুথুরাইপন্ডি (Thiruthuraipoondi)-তে৷

 

তামিলনাড়ুর মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আগে দু’জন কুর্সিতে বসেছেন৷ প্রথম জন ছিলেন প্রয়াত তামিল কিংবদন্তী অভিনেতা ও মুখ্যমন্ত্রী এম জি রামচন্দ্রনের স্ত্রী জানকী রামচন্দ্রন৷ দ্বিতীয় জন জয়ললিতা৷ এই দুই মহিলা মুখ্যমন্ত্রী আদতে তামিল নন৷ জন্মসূত্রে জানকী রামচন্দ্রন মালয়ালি৷ তাঁর জন্ম কেরলের কোট্টায়ামে৷ আর জয়ললিতা ছিলেন কন্নড়৷ তাঁর জন্ম কর্ণাটকের মহীশূরে৷ সেদিক থেকে বর্তমানে তামিল ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসা শশীকলা নটরাজন খাঁটি তামিল৷ ফলে ‘চিন্নাম্মা’ শশীকলার সমর্থক ও নেতা- কর্মীরা প্রচার চালাচ্ছেন, এই প্রথম কোনও তামিল মহিলার হাতে যাচ্ছে ক্ষমতা৷

- Advertisement -

 

২৪ দিনের মালকিন ছিলেন জানকী:

১৯৮৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর প্রয়াত হন এম জি রামচন্দ্রন৷ এআইএডিএমকে দলে তখন তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব৷ একপক্ষ চাইছিল এম জি আরের ঘনিষ্ঠ জয়ললিতাকেই দেওয়া হোক মুখ্যমন্ত্রীর পদ৷ অন্যদিকে জয়ললিতা বিরুদ্ধ গোষ্ঠী চেয়েছিল কুর্সি পাক এমজিআর পত্নী জানকী রামচন্দ্রন৷ তীব্র ডামাডোলের মাঝে ১৯৮৮ সালের ৭ জানুয়ারি তামিলনাড়ুর প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন জানকী৷ নজির গড়েছিলেন৷ এমজি রামচন্দ্রনের মতো তিনিও জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন৷

 

তবে একেবারেই রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ৷ অভিযোগ, স্বামীর প্রতি অন্ধভক্তির কারণে এমজিআরের ‘উপপত্নী’ জয়ললিতার সঙ্গে মাখামাখি সম্পর্ক মেনে নিয়েছিলেন৷ ম্যাড্রাসে (চেন্নাই) যখন এমজি রামচন্দ্রনের মরদেহ নিয়ে বিশাল শোকযাত্রা চলছিল৷ তখন দেহ বহনকারী গাড়ি থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয় জয়ললিতাকে৷ এরপর অতি দ্রুত জানকী রামচন্দ্রনকেই মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসিয়েছিল এআইএডিএমকে৷ মাত্র ২৪ দিন রাজত্ব সামলেই কুর্সি ছেড়ে দিতে হয়েছিল মালয়ালি জানকী রামচন্দ্রনকে৷

 

ক্ষমতার কেন্দ্রে জয়ললিতা:
এমজিআরের শেষ যাত্রায় ধাক্কা খাওয়া জয়ললিতা দলের ভিতরে অবস্থান পাকা করেন দ্রুত৷ মিইয়ে যায়ে জানকী গোষ্ঠী৷ ১৯৯১ সালে প্রথমবারে জন্য মুখ্যমন্ত্রী হন৷ জন্মসূত্রে তামিল না হয়েও অতি দ্রুত তিনি তামিল রাজনীতির আন্তর্জাতিক মুখ হয়ে ওঠেন৷ পাঁচবার মুখ্যমন্ত্রী হন৷ ছিল তুমুল জনপ্রিয়তা৷

তামিল আবেগে শশীকলা:
জয়ললিতার প্রয়াণের পরই নতুন রাজনৈতিক ঘেরাটোপে তামিলনাড়ু৷ চেন্নাইয়ের রাজনৈতিক উত্তাপের আঁচ লেগেছে দিল্লিতে৷ পাশার ঘুঁটি সাজিয়ে প্রথমে দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জয়ললিতা ঘনিষ্ঠ শশীকলা নটরাজন৷ এবার লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার৷ খাঁটি তামিল তিনি৷ এখানেই কাজ করছে আবেগ৷ যে তামিল আবেগ বারবার কেন্দ্রীয় রাজনীতি সহ আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোড়ন তুলেছে৷
Though she was close aide of Jayalalithaa, late chief minister never gave her a political role. In fact in December 2011, Jayalalithaa even threw her and family members.

Advertisement
---