কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ছোট ঘটনা ছাড়া মানুষ শান্তিতেই ভোট দিচ্ছেন: পার্থ

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তখনও ভোটের লড়াইয়ে ঝরেনি ৯টি প্রাণ৷ আগের রাতে অবশ্য দক্ষিণ ২৪ পরগণার নামখানায় সস্ত্রীক সিপিএম কর্মী দেবু দাস ও তাঁর স্ত্রী ঊষা দাসকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে শাসকের বিরুদ্ধে৷ সকালে ভোট শুরুর ২০ মিনিটের মধ্যেই তৃণমূল-নির্দল প্রার্থীর গোষ্ঠীর সংঘর্ষের মাঝে পড়ে কোচবিহারের শুক্তাবাড়িতে মাথা ফেটেছে এক মহিলা ভোটারের৷ উত্তর ২৪ পরগণার দেগঙ্গার চাঁপাতলায় শাসকদলের হাতে কংগ্রেস প্রার্থী মহিদুল ইসলামের আক্রান্তের খবর এসেছে৷ রায়গঞ্জ থেকেও এসেছে গুলিবিদ্ধের খবর৷ গড়বেতার রসকুন্ডুতে সেক্টর অফিসারকে মারধর করা হয়েছে৷ বিভিন্ন জেলা থেকে বুথ দখল, বোমা বাজি, বিরোধীদের মারধর, ব্যালটবাক্স পুকুরে ফেলে দেওয়ার খবর আসতে শুরু করেছে৷ ভোটকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রক্তাক্ত হতে শুরু করেছে বাংলা৷

ঠিক তখনই সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করলেন, ‘‘দু’একটা বিক্ষিপ্ত ছোট ঘটনা ছাড়া এখনও পর্যন্ত বড় ধরণের কোনও ঘটনা ঘটেনি! মানুষ শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট দিচ্ছে৷ বরং বিজেপির হামলায় আমাদের এক কর্মী মারা গিয়েছেন৷’’ দাবি করেছেন, ‘‘কেউ বোমা বানাতে গিয়ে মরেছে৷ বিরোধীরা নাকি বলছে তাদের স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে৷ পরিকল্পনা মাফিকভাবে বিরোধীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে কিভাবে নির্বাচনকে কলঙ্কিত করা যায় সেই চেষ্টা চলছে বিজেপির নেতৃত্বে এবং কংগ্রেস, সিপিএম তাদের সাহায্য করছে৷ এটা অত্যন্ত দুঃখের৷’’

ছোটখাটো গোলমালের খবর এলেই প্রশাসন দ্রুত সেখানে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে জানিয়ে কমিশনের ভূমিকা সম্পর্কেও সন্তোষ প্রকাশ করে তৃণমূলের মহাসচিব দাবি করেছেন, ‘‘বিগতদিনে বামফ্রন্টের আমলে চিন্তা করে দেখুন পঞ্চায়েত নির্বাচন কিভাবে রক্তস্নাত হয়েছে৷’’

পার্থবাবু এই দাবি করার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিভিন্ন জেলা থেকে আসতে শুরু করেছে একের পর এক ভোটের বলির খবর৷ মুশির্দাবাদ,নদীয়া, দুই চব্বিশপরগনা, দক্ষিণ দিনাজপুর, নদীয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর একের পর এক জেলা থেকে আসতে শুরু করেছে বোমা-গুলির জেরে প্রাণহানির খবর৷ একাধিক বুথ দখলের খবর এসেছে৷ বুথ দখলকে কেন্দ্র করে গুলি-বোমাবাজিতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন৷ তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপি, সিপিএম ও তৃণমূলের কর্মীরা৷ তবে সিংহভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগের তির উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে৷

সবমিলিয়ে বেলা যত গড়িয়েছে ততই রক্তাক্ত হয়েছে বাংলার ভোট৷ তবে পার্থবাবুর ‘বিক্ষিপ্ত ছোট ঘটনা, বড় ধরণের কোনও ঘটনা ঘটেনি’ মন্তব্যের মধ্যে ব্যতিক্রম কিছু দেখছেন না ওয়াকিবহাল মহল৷ কামদুনি কিংবা পার্কস্ট্রিটের প্রসঙ্গ মনে করিয়ে দিয়ে তাঁরা বলছেন, ওই সময় মুখ্যমন্ত্রীর মুখে শোনা গিয়েছে, ‘ছোট ঘটনা’, ‘সাজানো নাটক’ এর মতো বিশেষণ৷ এমনকি সাম্প্রতিক অতীতে জি ডি বিড়লায় শিশু নির্যাতনের ঘটনার সময়ও মুখ্যমন্ত্রীর মুখে শোনা গিয়েছিল ছোট ঘটনা৷ যা নিয়ে জোর বিতর্ক হয়েছিল রাজ্যজুড়ে৷ স্বভাবতই, দলের মহাসচিবের এহেন মন্তব্যের মধ্যে ‘দোষে’র কিছু দেখছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷