স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: দিনে দিনে বেড়ে চলেছে শহরের তাপমাত্রা৷ তীব্র গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে উঠছে শহর থেকে জেলার মানুষদের৷ আর এর মধ্যেই কোথাও কোথাও জলকষ্টের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেছেন বাসিন্দারা৷

কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ ডিগ্রি বেশি। সর্বনিম্ন ২৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের চেয়ে যা ২ ডিগ্রি বেশি বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন: জেলায় বৃষ্টির দেখা মিললেও শহরে চড়বে পারদ

অভিযোগ, গরম বাড়তেই হাওড়া পুরসভা এলাকায় পানীয় জলের চাহিদা প্রকট হয়েছে৷ কোনও সমস্যা নেই বলে পুরসভা দাবি করলেও বেশ কিছু ওয়ার্ডে জলকষ্ট দেখা দিয়েছে৷ ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে বাসিন্দাদের সমস্যা এতটাই বেশি যে সেখানে সমস্যা সমাধানে নিয়ম করে জলের গাড়ি পাঠাতে হচ্ছে পুরসভাকে৷

পাশাপাশি, দাশনগরে বালিটিকুরির কালীতলা, সুরকিমিল, ঘোষপাড়া, বকুলতলা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় গরমে জলকষ্ট দেখা দিয়েছে। এলাকায় একটি পুকুর থাকলেও সেই পুকুরের জল পৌঁছয় না ওই এলাকাগুলিতে৷ পুরসভা সপ্তাহে দু’দিন জলের গাড়ি পাঠালেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম৷ ফলে বাধ্য হয়ে ১০ টাকা দিয়ে ১৫ লিটার জল কিনে পান করতে হচ্ছে স্থানীয়দের৷ আবার অন্যদিকে পুরসভার জলের গাড়ি এলেও কে জল নেবে এই নিয়ে মারামারি চলছে এলাকায়৷

আরও পড়ুন: নিউটাউনে অভিনব কায়দায় চুরিতে গ্রেফতার ২

এই প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা জোৎস্না বারুই বলেন, ‘‘জলের জন্য রোদে বেরিয়ে কষ্ট করছি৷ খাবার জল পাচ্ছি না৷ জলের জন্য মারামারি হচ্ছে৷ কী খারাপ অবস্থা৷ খুব কষ্টে আছি৷ পদ্মপুকুরের জল এখানে পাইপ লাইনে আসে না৷ তাই রোডে বেরিয়ে জল আনছি৷’’ আরেক বাসিন্দা রীণা সর্দার বলেন, ‘‘জলের জন্য অসুবিধা হচ্ছে৷ রোদের মধ্যে জলের জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি৷ বাড়িতে টাইম কলে জল আসছে না৷ হুড়োহুড়ি করে জল নিতে হচ্ছে৷ সপ্তাহে দু’দিন জলের গাড়ি আসে৷ গরমে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছি৷’’

স্থানীয় বাসিন্দা গীতা চক্রবর্তী বলেন, ‘‘কাউন্সিলর কোনও কাজ করেনি৷ আমরা এখানে জলের জন্য সকাল ৭টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে৷ জলের গাড়ি ঢুকল ১০ টায়৷ গরমে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে খুবই কষ্ট৷ রান্না হয়নি৷ স্নানের জল পর্যন্ত বাড়িতে নেই৷’’

আরও পড়ুন: রোলাঁ গারোয় শারাপোভার প্রত্যাবর্তন

এলাকার কাউন্সিলর সুব্রত পোল্লে বলেন, ‘‘দীর্ঘদিনের জলের সমস্যা একটা রয়েছে৷ ওখানে পদ্মপুকুরের জল যায় না৷ পিডাব্লুডি পাম্প হাউসের জল ওখানে যায়৷ তবে, ওখানকার বাসিন্দাদের পদ্মপুকুরের মিষ্টি জলের চাহিদা আছে৷ তাই আমি কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে ট্যাঙ্কে করে পদ্মপুকুরের জল ওখানে পাঠাই৷ কিন্তু পর্যাপ্ত জলের জোগান দিতে পারিনি৷ তার জন্য তিনটি পাম্প হাউস করা হয়েছে৷ ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ওটা চালু হয়ে যাবে৷ লোকের বাড়িতে জল পৌঁছে যাবে৷ তখন আর কারও অসুবিধা হবে না৷’’

----
--