কেরল বন্যা: তামিলনাড়ুর বাঁধের জল নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি: কেরলের ভয়াবহ বন্যার জন্য দায়ী তামিলনাড়ু৷ এমনই অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছিল কেরল৷ তাদের অভিযোগ ছিল মুল্লাপেরিয়ার বাঁধের জল ছাড়ার জন্যই কেরলে এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি৷

সেই মামলায় তামিলনাড়ু সরকারকে মুল্লাপেরিয়ার জলাধারের জল নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত৷
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট তাঁর অন্তর্বর্তী রায়ে জানিয়েছে মুল্লাপেরিয়ার জলাধারে ১৩৯.৯ ফুটের মধ্যে জলস্তর রাখতে হবে৷ আগামী ৩১ আগস্ট প‌র্যন্ত ওই জলস্তর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷

মঙ্গলবার কেরলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় মুল্লাপেরিয়ার জলাধারের স্লুইস গেটগুলি আচমকা খুলে দেওয়ার কারণেই নদীগুলির জলস্তর বাড়তে থাকে৷ একসাথে মোট ১৩টি গেট খুলে দেওয়া হয়৷ ফলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় পাশের রাজ্য কেরলে৷ তারপরেই এই মারাত্মক বন্যার সম্মুখীন হতে হয় ভগবানের নিজের দেশকে৷

- Advertisement -

তবে এই বক্তব্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তামিলনাড়ুর শাসক দল এআইএডিএমকে৷ ট্যুইট করে এই বক্তব্যের নিন্দা করেছে তাঁরা৷ এর পাশাপাশি কেরল ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের৷ বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী কে পালানিস্বামী বলেন কেরল কোনওভাবেই নিজের রাজ্যের বন্যার জন্য তামিলনাড়ুকে দোষারোপ করতে পারে না৷ শুধুমাত্র মুল্লাপেরিয়ার বাঁধের জন্য এতবড় বিপর্যয় হতে পারে না৷ কেরলের নিজস্ব বাঁধগুলি থেকেও প্রচুর জল ছাড়া হয়েছে৷

তবে এই তথ্য মানতে চায়নি শীর্ষ আদালত৷ শুক্রবার আদালত জানিয়েছে এই মুহুর্তে মুল্লাপেরিয়ারে ১৪২ ফুট জল রয়েছে৷ তা যেন অবিলম্বে ১৩৯ ফুটে কমিয়ে আনা হয়৷ প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র বলেন, মানুষের জীবন রক্ষাই এখন প্রধান বিষয়। সংঘাত নয়।

এই নির্দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে নতুন করে আবেদন করেছে তামিলনাড়ু৷ তাদের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে টানা বৃষ্টি চলছে রাজ্যে৷ তাই এখনই জলাধারের জলস্তর কমানো সম্ভব নয়৷ বাঁধে ২০ হাজার কিউসেক জল রয়েছে৷ এছাড়াও কেরল সরকারের আবেদনের বিরোধিতা করে তামিলনাড়ু সরকার আদালতে জানায় কেরলে বন্যার জন্য যে মুল্লাপেরিয়ার বাঁধকে দায়ি করা হচ্ছে, তার জল ছাড়া হয় ১৬ আগস্ট। কিন্তু কেরলে বন্যা শুরু হয়েছে তারও ১০ দিন আগে।

এই অচলাবস্থা কাটাতে একটি কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত৷ পরবর্তী শুনানি ৬ই সেপ্টেম্বর বলে জানা গিয়েছে৷

Advertisement
-----