নেতা নয়, কর্মীদের ভরসাতেই রাফয়েল আন্দোলনে নামছে প্রদেশ কংগ্রেস

কলকাতা: রাফয়েল কেলেঙ্কারিকে অস্ত্র করে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে সারা দেশে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামার কর্মসূচি নিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। বাংলাতেও সেই আন্দোলন সংগঠিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷ কিন্তু এরাজ্যে কংগ্রেসে নেতাদের দল ছাড়ার হিড়িক পড়ায় আন্দোলনের তীব্রতা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷

প্রতিদিনই প্রদেশ কংগ্রেস ভাঙছে৷ দলের নেতারা হয় তৃণমূলে না হয় বিজেপিতে গিয়ে ভিড়ছে৷ লোকসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে তত দল ছেড়ে পালাচ্ছেন নেতারা৷এই পরিস্থিতিতে দলের বাকি নেতাদের উপর ভরসা রাখতে পারছেন না প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব৷ বরং রাজ্যে বড় কোনও আন্দোলন সংগঠিত করার জন্য তারা দলের নীচুতলার কর্মীদের উপর আস্থা রাখছেন৷

আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে সম্প্রতি সমস্ত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও পরিষদীয় নেতাকে দিল্লিতে বৈঠকে ডেকেছিলেন রাহুল গান্ধী। পশ্চিমবঙ্গ থেকে সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন পরিষদীয় নেতা আব্দুল মান্নান। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে মান্নান সাহেব কংগ্রেস সভাপতির কাছে নিজেদের অসহায়তার কথা তুলে ধরেছেন৷ তিনি বলেন, পার্টির মধ্যে কে যে তৃণমূল আর কে যে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছে, তা বোঝা মুশকিল। আব্দুল মান্নান বলেন, রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী দল ভাঙানোর খেলায় মেতেছে৷ যাঁরা কট্টর তৃণমূল বিরোধী, তাঁরা বিজেপিতে চলে যাচ্ছেন।

কংগ্রেসের দাবি, বায়ুসেনার জন্য ফরাসি যুদ্ধবিমান রাফয়েল কিনতে স্বাধীন ভারতে সর্ববৃহৎ আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটেছে। আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে এই কেলেঙ্কারিকেই সামনে এনে দলের নিচুতলা পর্যন্ত বিজেপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে আগ্রহী রাহুল।

রাহুল গান্ধী৷ জয়পাল রেড্ডিকে শীর্ষে রেখে একটি কমিটি এই কেলেঙ্কারির যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে। তারাই প্রদেশ কংগ্রেসকে এই বিষয়ে প্রচার সরঞ্জাম দিয়ে দেবে। আগামী ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হবে রাফাল কেলেঙ্কারি নিয়ে বিক্ষোভ। জেলায় জেলায় কীভাবে তা রূপায়ণ করতে হবে, তারও পরামর্শ দিয়েছেন কংগ্রেস হাইকমান্ডের প্রতিনিধিরা।

হাইকমান্ডের দেওয়া এই অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে এখন বেজায় উদ্বিগ্ন প্রদেশ নেতারা৷ নড়বড়ে সংগঠনে নিয়ে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে তারা৷এক প্রদেশ কংগ্রেস নেতার কথায়, “এখন দলে কজন আর নেতা আছেন যাঁরা রাফালের মতো ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করতে পারবেন? যাঁদের ক্ষমতা ছিল তাঁরা এখন অন্য দলে৷তাছাড়া কখন কোন উইকেট পড়ে কে জানে৷ কিন্তু দিল্লি যখন বলেছে তখন মাঠে তো নামতেই হবে৷ এখন আমাদের কর্মীরাই ভরসা৷ কারণ দলের দুর্দিনে তাঁরাই আমাদের পাশে আছেন৷”

----
-----