স্বপ্নভঙ্গের উচ্চ মাধ্যমিক ফল, সংসদের বাইরে বিক্ষোভ পড়ুয়াদের

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার স্বপ্ন বজবজ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী সায়নী হালদারের৷ পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব়্যাংক ২৯২৪৷ কিন্তু, তার পরও স্বপ্নভঙ্গ করে দিল উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল৷ নিয়ম মেনেই রিভিউ বা স্ক্রুটিনি করতে পরামর্শ পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক সংসদের৷

উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে বাংলায় ৮৩, ইংরাজিতে ৭৩, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে ৭৬ পেয়েছে সায়নী হালদার৷ কিন্তু, তিনটি বিষয়ে এত ভাল নম্বর পেয়েও অংকে ৯, পদার্থবিদ্যায় ১৩ ও কেমিস্ট্রিতে ১৪ নম্বর দেওয়া হয়েছে তাকে৷ তবে শুধু সায়নী হালদার নয়৷ একই ধরনের সমস্যা নিয়ে শনিবার দুপুর ১২ টা নাগাদ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের বাইরে জমায়েত করেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ছাত্রছাত্রীরা৷

সংসদে এসে প্রথমে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের সমস্যা জানিয়ে সমাধানের আবেদন করতে চায় তারা৷ কিন্তু, তাদেরকে সংসদের তরফ থেকে বলা হয় সভাপতি সহ সংসদ কর্তৃপক্ষের কেউ আসেনি৷ তাদের সঙ্গে সংসদের কর্মীরা কথা বলে তাদের সমস্যা জানতে চায়৷ সমস্যা জেনে তারা বলে, ‘কিছু করা যাবে না৷’ তাদের বলা হয়, আরটিআই, স্ক্রুটিনি বা রিভিউ করতে৷ তবে, ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করলেও অভিভাবকদেরও ঢুকতে দেওয়া হয়নি সংসদের অফিসে৷ সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয় kolkata 24×7-এর ক্যামেরা পারসনকেও৷

- Advertisement -

অভিযোগকারী ছাত্রছাত্রীদের দাবি, ‘‘রিভিউ বা স্ক্রুটিনি করতে দিলে এক মাস সময় লাগবে ফলাফল প্রকাশ হতে৷ অথচ, আজ শনিবার থেকে শুরু জয়েন্টের কাউন্সিল৷ যদি একমাস পড়ে রেজাল্ট আসে তাহলে আমরা কোথায় যাব?’’

বারাসাত পিয়োনাদ বালিকা বিদ্যালয়ের তিয়াসা কর্মকারের আবার অন্য সমস্যা৷ না, সে ফেল করেনি৷ রেজাল্টে সে পাশ করে গিয়েছে৷ কিন্তু, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার স্বপ্ন দেখা তিয়াসার অংকের নম্বর ১৮৷ অর্থাৎ, স্বপ্নের বিষয়ে পড়ার জন্য যে বিষয়টি সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেই বিষয়টিতেই ফেল করেছে সে৷ পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট প্রবেশিকা পরীক্ষায় ৬১৯৭ ব়্যাঙ্ক করেছে তিয়াসা৷ ফার্মেসিতে তার ব়্যাঙ্ক ৪১১৪৷ তিয়াসা বলে, ‘‘আমার তো ৬ নম্বর দরকার৷ সেই ৬ নম্বর দিয়ে দিলেই তো আমি ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়তে পারি৷’’

নিউ বারাকপুর কলোনী গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী পুষ্পা সরকারের রেজাল্টে অকৃতকার্য লেখা রয়েছে৷ সে প্যারা মেডিক্যাল পরীক্ষায় বসতে চায়৷ কিন্তু, তার ফর্ম পূরণ করতে প্রয়োজন উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্টের৷ পুষ্পা সরকার বলে, ‘‘আমাদের ১ মাস অপেক্ষা করার সময় নেই৷ যদি খুব তাড়াতাড়ি এই সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে মরে যাওয়া ছাড়া আমার কাছে আর কোনও রাস্তা খোলা নেই৷’’ সংসদের বাইরে থাকা পড়ুয়াদের প্রায় প্রত্যেকেরই বিজ্ঞান শাখার বিষয়গুলিতেই নম্বর কম এসেছে৷ তাদের দাবি, বিজ্ঞানের বিষয়গুলির উত্তরপত্র ঠিক করে দেখা হয়নি৷

Advertisement ---
---
-----