দেবযানী সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ শিবসেনার পক্ষ থেকে বুদ্ধিজীবীদের শূকরের মাংস খাওয়ানোর কর্মসূচি আখেরে তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করবে বলে মন্তব্য করলেন কংগ্রেস নেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী অরুণাভ ঘোষ৷ কংগ্রেসের আরও এক নেতা শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, মহারাষ্ট্রে শিবসেনা উদারতার কথা বলছে অথচ এখানে উল্টো কাজ করছে৷

ভাষা ও চেতনা সমিতির আহ্বানে ২০১৫ সালের ৩০ অক্টোবর ধর্মতলায় প্রকাশ্যে গোমাংস খেয়েছিলেন বুদ্ধিজীবীদের একাংশ৷ ধর্মনিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে এবার তাদের শূকরের মাংস খাওয়ার জন্য ‘নিমন্ত্রণ’ করতে চলেছে এরাজ্যের শিবসেনা৷ তাদের এই কর্মসূচীকে কটাক্ষ করে অরুণাভ ঘোষের বক্তব্য, “আমি কী খাব সেটা কী শিবসেনা ঠিক করে দেবে? শূকরের মাংস খেয়ে কী জোর করে হিন্দুত্ব প্রমাণ করতে হবে? আর গরু খেলে হিন্দুত্ব চলে যায় কোথায় লেখা আছে?

গোমাংসে প্রতিবাদী বুদ্ধিজীবীদের এ বার বরাহর মাংস খাওয়াবে শিবসেনা

উত্তরপ্রদেশে গরু খাওয়া বন্ধ করেছে কিন্তু মোষ কাটছে৷ গরুও দুধ দেয়৷ মোষও দুধ দেয়৷ তাহলে কেন মোষ কাটা হচ্ছে? যার যেটা খাওয়ার ইচ্ছা সে খাবে৷ আসলে এসব করে ওরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করছে৷ রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব বলেছিলেন, ধর্মটা হল ঘরের কোণে, বনে আর মনে৷ আমার মনে হয় এটাই এখন করা উচিত৷ পাবলিক করা উচিত নয়৷”

এ রাজ্যে শিবসেনার সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র অশোক সরকার kolkata24x7.com-কে তিনি বলেছেন, “হিন্দুত্ব রক্ষায় আমাদের এই কর্মসূচি৷ যে সব বুদ্ধিজীবী ধর্মতলায় প্রকাশ্যে গোমাংস খেয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, শূকরের মাংস খেয়ে প্রতিবাদ জানানোর জন্য তাঁদের আমরা আমন্ত্রণ জানাচ্ছি৷ আগামী শুক্রবার বিকালে প্রকাশ্যে শূকরের মাংস খাওয়ানোর জন্য আমরা কর্মসূচি নিয়েছি৷’’ তিনি জানিয়েছেন, কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং কবি সুবোধ সরকারকেও শূকরের মাংস খাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে৷” উল্লেখ্য এই দু’জন বিশিষ্টজন ধর্মতলায় দাঁড়িয়ে গোমাংস খেয়েছিলেন৷

শিবসেনার এই কর্মসূচীর তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা শুভঙ্কর সরকার৷ তিনি বলেন, “সরকার যদি সবার খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারে তাহলে সরকার বলতে পারে এটা খাবে, ওটা খাবেনা৷ সরকারই যখন একথা বলতে পারে না তখন কোন সংগঠন কী বলছে তার কোনও গুরুত্ব নেই৷ বিজেপি যে কটাদিন ক্ষমতায় সেই কটাদিন এসব হবে৷ তারপর বন্ধ হয়ে যাবে৷”

তবে এআইসিসির এই নেতা মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গবাসীর মনে এর কোনও প্রভাব পড়বে না৷ তিনি বলেন, “এরাজ্যের মানুষ অনেক সচেতন৷ এখানে রাজনৈতিক সন্ত্রাস আছে কিন্তু ধর্মীয় সন্ত্রাস নেই৷ অন্যান্য মহারাষ্ট্রে শিবসেনা তো অনেক উদারতার কথা বলছে, কিন্তু এখানে এসব কেন করছে বুঝতে পারছি না৷”

----
--