কার্শিয়াং: এপ্রিলে পাহাড়ে পুরসভা ও পঞ্চায়েত ভোটের সম্ভাবনা৷ ভোটকে পাখির চোখ করে এর আগেও পাহাড় সফরে গিয়ে উন্নয়নের বার্তাকেই হাতিয়ার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়|  রবিবারও কার্শিয়াঙের সভা থেকে পাহাড়কে ঢেলে সাজানো হবে বলেও দাবি করলেন তিনি৷ আজ, সোমবার দার্জিলিঙের ম্যালে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ১২০তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে একাই বার্তা দিলেন মমতা৷ মন্তব্য করেন, ‘‘পাহাড় ছাড়া বাংলা সম্পূর্ণ নয়৷ পাহাড় আমাদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা জুড়ে আছে। আমরা বারবার অনেক ভালোবাসা নিয়ে ফিরে আসি৷’’

এদিন পাহাড়ের বিভিন্ন জনজাতির উন্নয়নকে সামনে রেখে ফের তিনটি বোর্ড গঠনের কথা ঘোষণা করেন মমতা৷ বলেন, ‘‘বিভিন্ন জনজাতির উন্নয়ন বোর্ডের জন্য আমরা প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি৷ আমরা আরও ৩টি নতুন উন্নয়ন বোর্ড তৈরি করছি এবং এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১০ কোটি টাকা৷ পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যেই ১২টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে৷ কার্শিয়াঙে একটি এডুকেশনাল হাব তৈরি হচ্ছে। শীঘ্রই কালিম্পং নতুন জেলা হবে। শীঘ্রই মিরিক নতুন সাব-ডিভিশন হবে৷ আগামী মাসে আমি আবার পাহাড়ে আসব৷ তখনই কালিম্পঙকে নতুন জেলা হিসেবে ঘোষণা করব৷ আমরা পাহাড়ের উন্নয়ন চাই। আমরা চাই যুব-সম্প্রদায়ের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আমার এগিয়ে চলেছি৷’’

এদিন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ১২০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘‘গত ৩ বছর ধরে আমরা পাহাড়ে নেতাজীর জন্মজয়ন্তী পালন করছি৷ স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবসের মত নেতাজীর জন্মদিনও আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ৷ নেতাজী দেশের নেতা ছিলেন। প্রকৃত নেতা কখনো বিভেদ করে না। কোনও বিভেদকারী দেশের নেতা হতে পারে না৷ আজাদ হিন্দ বাহিনীর সেনানীদের প্রতি আমি আমার শ্রদ্ধা জানাই৷ নেতাজী দূরদর্শী ছিলেন। দেশের ভবিষ্যতের ব্যাপারে নেতাজীর পরিকল্পনা ছিল সুস্পষ্ট। তিনি প্ল্যানিং কমিশনের পরিকল্পনা করেছিলেন৷ আমরা প্রতি বছর নেতাজীর জন্মদিন পালন করি কিন্তু তাঁর মৃত্যুদিন সম্পর্কে কোন তথ্য আমাদের জানা নেই৷ রাজ্য সরকার নেতাজী সংক্রান্ত সমস্ত ফাইল প্রকাশ করেছে৷ নেতাজী পাহাড়ে যে বাড়িতে থাকতেন তা সংস্কারের জন্য আমরা ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছি৷’’

এদিন তিনি আরও বলেন, ‘‘সরকার সবসময় চায় শান্তিতে থাকুক উত্তরবঙ্গ৷ সেজন্য আমি বারবার ছুটে আসি পাহাড়ে৷ কোনোদিন অশান্তি করে উন্নয়ন হতে পারে না৷ আমি চাই, আমার ভাই বোনেরা সুখে বসবাস করুক৷’’

রবিবার কার্শিয়াঙের সভা থেকে ৩৪টি প্রকল্পের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী| চা শ্রমিকদের জন্য ১০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন তিনি৷  এছাড়াও গুরুং, খাস ও পাহাড়িয়া মাইনোরিটিদের জন্য কার্শিয়াঙ থেকে নতুন তিনটি বোর্ড ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ নতুন বোর্ড ঘোষণার পাশাপাশি হিমালয়-তরাই ডুয়ার্স স্পোর্টস ফেস্টিভ্যালের বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণাও করেন তিনি৷

----
--