ফুলেফেঁপে বেড়েছে ধনীর সম্পত্তি, গরিবরা সেই তিমিরেই

নয়াদিল্লি: দেশের মোট সম্পত্তির ৫০ শতাংশই এখন মাত্র ৯ জন ধনীর হাতে৷ ২০১৮ সালে ভারতের কোটিপতিদের সম্পত্তির পরিমাণ প্রতিদিন ২.৫ বিলিয়ন অর্থাৎ ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা বেড়েছে৷ এই একই সময়ে ভারত সহ গোটা বিশ্বের সাধারণ মানুষের সম্পত্তির পরিমাণ অনেকটাই কমেছে৷ অর্থনীতির উন্নতিতে লাভ হয় কেবল বড়লোকদের৷ এটাই সম্পত্তি বিরোধী সংস্থা অক্সহামের সমীক্ষার নির্যাস৷

সোমবার ডাভোসে অক্সহাম তাদের সমীক্ষার ফল প্রকাশ করে৷ তাকে বলা হয়েছে গত বছর দেশের এক শতাংশ ধনীদের সম্পত্তির পরিমাণ ৩৯ শতাংশ বেড়েছে৷ এই একই সময়কালে দেশের ৫০ শতাংশ জনগণের সম্পত্তির পরিমাণ ৩ শতাংশ বেড়েছে৷

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দুই শ্রেণির মধ্যে আর্থিক বৈষম্য ধরা পড়েছে অক্সহামের রিপোর্টে৷ সেখানে বলা হয়েছে বিশ্বে কোটিপতিদের সম্পত্তির পরিমাণ ১২ শতাংশ বেড়েছে৷ সেখানে গরিবদের সম্পত্তির পরিমাণ ১১ শতাংশ কমেছে৷ বর্তমানে বিশ্বের ধনী ব্যক্তি হলেন আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজস৷ তার সম্পত্তির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১১২ বিলিয়ন ডলার৷ তার এক শতাংশ সম্পত্তির পরিমাণ বৃদ্ধিকে ১১৫ মিলিয়ন লোকের বাস ইথিওপিয়ার স্বাস্থ্য বাজেটে বরাদ্দ অর্থের সমান বলে তুলনা করা হয়েছে সমীক্ষায়৷

দাভোসে পাঁচ দিন ব্যাপী ওয়ার্ন্ড ইকোনমি ফোরাম শুরু হতে চলেছে৷ তার আগে প্রকাশিত এই সমীক্ষায় ভারতের অর্থনীতি নিয়ে আরও বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে৷ রিপোর্টে প্রকাশ, ২০০৪ সাল থেকে গরিব ১০ শতাংশ মানুষ দেনায় ডুবে৷ সংস্থার এক্সিগিউটিভ ডিরেক্টর উইনি বিয়ানিয়ামার কথায়, ভারতের মুষ্টিমেয় লোকের হাতেই দেশের অর্থ৷ আর গরিবদের নুন্যতম চাহিদা মেটাতে কালঘাম ছুটে যায়৷ দেশের জাতীয় সম্পদের ৭৭.৪ শতাংশ ১০ শতাংশ মানুষের হাতে৷

এই স্ল্যাবটিকেও যদি ভাঙা হয় তাহলে দেখা যাবে জাতীয় সম্পদের ৫১.৫৩ শতাংশ মাত্র ১ শতাংশ অর্থাৎ ৯ জন ধনীর হাতে৷ আর দেশের ৬০ শতাংশ জনগণের হাতে রয়েছে ৪.৮ শতাংশ জাতীয় সম্পদ৷ অক্সহ্যাম তাদের রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, দেশের সেরা ১ শতাংশ ধনী ও বাকি মানুষের মধ্যে আর্থিক বৈষম্য আরও বেড়ে যায় তাহলে দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় ধস নামতে বাধ্য৷ দেশের বিলিয়ানের সংখ্যা আরও ১৮ জন বেড়েছে৷ সব মিলিয়ে ভারতে এখন বিলিনিয়ারের সংখ্যা ১১৯৷ তাদের সম্মিলিত সম্পত্তির পরিমাণ ৪০০ বিলিয়ন ডলার৷