ঘুরতে ঘুরতে কপালকুণ্ডলার দেশে

উইকেন্ড ট্যুরের প্ল্যান করছেন? হাতে খুব কম সময়, কিন্তু ঘুরতে যেতেও মন চাইছে? তবে আর দিঘা বা বকখালি নয়৷ এবার একটু আলাদা স্বাদ পেতে চাইছেন৷ তাহলে মন দিয়ে পড়ুন এই প্রতিবেদনটি৷

মনে পড়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসে নবকুমারের সেই কথা! আহা কি দেখিলাম! জন্ম জন্মান্তরেও ভুলিব না! এবার গন্তব্য স্থল হোক দরিয়াপুর-বাঁকিপুট৷ যা ছিল বঙ্কিমচন্দ্রের বিখ্যাত উপন্যাসের পটভূমি৷ কলকাতার খুব কাছে সুন্দর নির্জন সমুদ্র সৈকত পেতে বাঁকিপুটের তুলনা নেই৷ চারিদিক জনমানব শূন্য৷ কান পাতলেই শুনতে পাওয়া যায় সমুদ্র তরঙ্গের উচ্ছ্বাস৷ পাখিদের ডানার ঝাপটা আর কলকাকলি সেই পরিবেশে আরও মাধুর্য মেশায়৷ সব মিলিয়ে নিজেকে উজাড় করে দেয় বাঁকিপুট৷

আরও পড়ুন: breaking: ছাইবোঝাই জাহাজ ডুবল মহিষাদলে

- Advertisement -

যেখানে বসে থাকলেও আপনার একঘেয়েমি আসবে না৷ এই দৃশ্য সত্যি জন্ম জন্মান্তরেও ভোলা সম্ভব নয়৷ বর্তমানে দিঘা, মন্দারমণি বা বকখালি সব সৈকতেই হাজারো মানুষের ভিড়৷ যেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করাই দায় হয়ে ওঠে৷ আর এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণেই বাঁকিপুটকে প্রথম দর্শনেই আপন করে তুলবে৷ সঙ্গে পাওনা বঙ্কিম উপন্যাসের কাপালিকের মন্দির৷ দরিয়াপুর লাইটহাউস থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে এই মন্দির৷ তবে মন্দিরটি সংস্কার করার পর চেহারায় বেশ পরিবর্তন হয়েছে৷

দরিয়াপুর লাইট হাউসের অনতি দূরেই বয়ে চলেছে রসুলপুর নদী৷ তবে পেটুয়াঘাটে জায়গাটা এখন ‘দেশপ্রাণ ফিশিং হারবার’ নামেই পরিচিত৷ বাঁকিপুট যাওয়ার আদর্শ সময় বলতে সারা বছর৷ এখনও পর্যটকদের ভিড় এখানে তেমন শুরু হয়নি৷ তবে থাকার হোটেল ভালই রয়েছে৷ থাকার জন্য সব থেকে আদর্শ জায়গা বাঁকিপুট বা দরিয়াপুরের লাইট হাউস৷ তবে এখানে আগে থেকে বুকিং করে যেতে হবে৷ নাহলে ঘর পাওয়ার সম্ভাবনা একটু কম৷ আর লাইট হাউস বাদে বাঁকিপুটে থাকার একটাই হোটেল রয়েছে৷ নাম ‘ঝিনুক রেসিডেন্সি’৷ এক্ষেত্রে আপনি গিয়েও ঘর বুক করতে পারেন৷

আরও পড়ুন: ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্রোপচার, প্রাণ ফিরে পেল দশের মৌমিতা

কিন্তু যাবেন কিভাবে? কলকাতা থেকে বাঁকিপুটের দূরত্ব ১৭০ কিলোমিটার৷ সরাসরি গাড়িতে গেলে সময় লাগবে প্রায় তিন ঘণ্টা৷ তবে গাড়িতে গেলে খরচ তুলনামূলক বেশি৷ পকেট ফ্রেন্ডলি ট্যুর করতে চাইলে অন্যভাবেও যেতে পারেন৷ প্রথমে কোনও দিঘাগামী বাস বা ট্রেনে চেপে নেমে পড়ুন কাঁথিতে৷ সেখান থেকে বাঁকিপুট মাত্র ১৫ কিলোমিটার৷ কাঁথি থেকে একটি গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছে যেতে পারেন বাঁকিপুট৷ এরপর উপভোগ করুন কপালকুণ্ডলার পটভূমিকে৷

Advertisement
---