লোকসভার আগে নুন আনতে পান্তা ফুরল প্রদেশ কংগ্রেসের

দেবযানী সরকার, কলকাতা: বছর ঘুরলেই লোকসভা ভোট৷ অথচ এখনও অর্থ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি এআইসিসি নেতৃত্ব। যার ফল ভুগতে হচ্ছে বাংলার প্রদেশ কংগ্রেসকে৷ কর্মীদের বেতন দেওয়া থেকে দলের কর্মসূচী রূপায়ন, সবদিক সামলাতে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে তারা৷ ভোটের আগে সংসারে অর্থনৈতিক টানাটানি বাংলার কংগ্রেস নেতাদের ঘুম কেড়েছে৷

মোদী সরকারকে দেশ ছাড়া করার স্বপ্ন দেখছে জাতীয় কংগ্রেস৷ অথচ দেশের অনেক রাজ্যেই তাদের অবস্থা ঢাল-তলোয়ারহীন ‘নিধিরাম সর্দার’-এর মতো৷ যার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গও৷ এরাজ্যে কংগ্রেসের সংগঠন যেমন নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে তেমনই টাকার অভাবে দলের অনেক কাজই গতিহীন হয়ে পড়ছে৷

জানা গিয়েছে, প্রতি মাসে প্রদেশ কংগ্রেসকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে দেয় এআইসিসি৷ গত একবছর ধরে সেই টাকা এলেও অনিয়মিত ভাবেই আসছে৷ গত বছরই দুর্গাপুজোর আগে দু’মাস বেতন পাননি বিধানভবনের কর্মীরা। এমনকি এখনও তাঁদের বেতন ঠিক সময়ে হচ্ছে না৷ সামনেই পুজো৷ এবারও কর্মীরা বেতন নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন৷ উল্লেখ্য গত বছর পুজোয় হাইকমান্ডের নির্দেশ ছিল, প্রত্যেক বিধায়ককে এক লাখ টাকা করে দলকে দিতে হবে। যদিও এবছর এখনও সেরকম কোনও নির্দেশ প্রদেশ নেতৃত্ব পায়নি৷

- Advertisement -

তবে শুধু বেতন সমস্যাই নয়, প্রদেশ কংগ্রেসের মূল শাখার সঙ্গে সঙ্গে দলের ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশন যেমন, ছাত্র-যুব, মহিলা শাখার অনেক কর্মসূচীই টাকার অভাবে থমকে যাচ্ছে৷ বিশেষ করে বাংলার সোশ্যাল সেলও মুখ থুবড়ে পড়েছে৷ লোকসভার যুদ্ধে বাংলার তৃণমূল কংগ্রেস- বিজেপি যখন পাল্লা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার টাকা ঢালছে তখন বাংলার কংগ্রেসের সোশ্যাল সেল ধুঁকছে৷ পশ্চিমবঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার কো-অর্ডিনেটর অনুপম ঘোষ অবশ্য তাঁদের অসহায় অবস্থার কথা খানিকটা স্বীকার করে নিয়েছেন৷ তিনি বলেন, বিজেপি- তৃণমূলের মতো আমাদের অত টাকা নেই ঠিকই তবে সাধারণ মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে৷ দলের কর্মীরাও খুবই সক্রিয়৷ আর আমাদের কারও সঙ্গে কোনও প্রতিযোগিতা নেই৷

কিন্তু দেশের প্রাচীন দল জাতীয় কংগ্রেসের এই অবস্থা কীভাবে হল? একাধিক নেতার মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনী ব্যর্থতাই এই আর্থিক সঙ্কটের মূল কারণ। কেন্দ্রে এবং ২৯টি রাজ্যের ১৩টিতে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে বণিক মহলের যে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা পেত কংগ্রেস, এখন সেটা নেই। ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাণিজ্যিক আনুগত্য সরতে শুরু করেছিল। আর এখন সারা দেশে পাঞ্জাব এবং মিজোরাম, মাত্র এই দুটি রাজ্যে কংগ্রেস ক্ষমতায়। তার সঙ্গে কর্ণাটকে জেডিএস সরকারের ছোট শরিক।

প্রদেশ কংগ্রেসের এক নেতার কথায়, গোটা দেশে দলের হাল খারাপ হলেও তাও এতটা অসুবিধা হচ্ছিল না৷ কিন্তু নোট বাতিল ও জিএসটির পর থেকে ভীষণ সমস্যা হচ্ছে৷ এটা তো ঠিকই যে সমস্ত রাজনৈতিক দলই অনুদানের উপর চলে৷ তাই নোট বাতিল, জিএসটির পর মানুষের হাতে টাকা কমে যাওয়ায় পার্টির অনুদানও কমে গিয়েছে৷ তাঁর সরস মন্তব্য, আপাতত মা লক্ষ্মীর কৃপা ছাড়া আর কোনও পথ নেই৷

Advertisement
---