রাহুল গান্ধীর ঠেলায় বুদ্ধিজীবী সঙ্গ বাড়াতে হবে অধীর-মান্নাদের

দেবযানী সরকার, কলকাতা: মধ্যবিত্ত, উচ্চ শিক্ষিত ভোট বাড়াতে রাজ্যের বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে চান রাহুল গান্ধী৷ তার জন্য ঘুম ছুটতে চলেছে অধীর চৌধুরী, আব্দুল মান্নানদের৷ এআইসিসি তাদের চিঠি দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বুদ্ধিজীবীদের আরও কাছে পৌঁছতে হবে দলীয় নেতৃত্বকে৷ সেইসঙ্গে কংগ্রেসের সদস্য নয়, অথচ সমাজে প্রভাবশালী-এমন ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত দিল্লিতে পাঠাতে হবে৷ তারপরই কংগ্রেস সভাপতি তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন৷

লোকসভা নির্বাচনের আগে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছতে চান কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। ইতিমধ্যেই ২০ জন প্রথম সারির মুসলিম বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি৷ রাহুলের বাড়িতে সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন আইএএস এমএস ফারুকি, আমির মহম্মদ, মৌলানা মুফতি, ইরফান হাবিবদের মতো মুসলিম বুদ্ধিজীবীরা।

এরপর রাহুলের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দেবেন গীতিকার জাভেদ আখতার, অভিনেত্রী শাবানা আজমি, শিক্ষাবিদ জোয়া হোসেন, সমাজকর্মী শবনম হাসমি, যোজনা কমিশনের প্রাক্তন সদস্য সইদা হামিদ এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর ‘অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি’ সৈয়দ জাফর মাহমুদের মতো প্রথম সারির মুসলিম বুদ্ধিজীবীরাও।

- Advertisement -

কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটা রাজ্যের প্রদেশ নেতৃত্বকেও এবার বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷ পশ্চিমবঙ্গেও সেই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে৷ ১২ দফা চিঠিতে বলা হয়েছে, শিল্পী, সাহিত্যিক, কবি, প্রভাবশালী আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কলেজের প্রিন্সিপাল, বণিকসভা, শ্রমিক সংগঠন এমনকী বিশিষ্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রদেশ নেতৃত্বকে যোগাযোগ বাড়াতে হবে৷ এবং সেই বিশিষ্টজনদের তালিকা যত দ্রুত সম্ভব এআইসিসিতে পাঠাতে হবে৷

বিধানভবন সূত্রের খবর, গৌরব গগৈ পশ্চিমবঙ্গে এআইসিসির পর্যবেক্ষক হওয়ার পরই বাংলার কংগ্রেস নেতৃ্ত্বের কাজের চাপ অনেক বেড়ে নিয়েছে৷ প্রতিদিনই এআইসিসি তাদের থেকে কোনও না কোনও রিপোর্ট তলব করছে৷ তারসঙ্গেই অধীর চৌধুরীদের নতুন অ্যাসাইনমেন্ট হয়েছে বুদ্ধিজীবীদের কাছে পৌঁছোনো৷ জানা গিয়েছে, বুদ্ধিজীবীদের কাছে টানতে সংবাদমাধ্যমে পরিচিত মুখ আইনজীবী অরুণাভ ঘোষকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে৷ প্রদেশ কংগ্রেসের নেতারা মনে করছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার আগে তাঁর সঙ্গে যেসমস্ত বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন তাঁদের অনেকেই এখন এই সরকারের কাজে বীতশ্রদ্ধ৷ কংগ্রেসের আশা, বুদ্ধিজীবীদের তারা পাশে পাওয়া যাবে৷

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে বুদ্ধিজীবী শিক্ষিত সমাজকে মুখ করেই ভোটযুদ্ধে বাজিমাত করতে চেয়েছিল বিজেপি। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের নির্দেশে তখন থেকেই বুদ্ধিজীবীদের টানার চেষ্টা করেছিল তারা৷ কিন্তু সেই উদ্যোগ সফল হয়নি৷ সম্প্রতি কলকাতায় এসে বিদ্বজ্জনদের নিয়ে সভা করেছেন দলের জাতীয় সভাপতি অমিত শাহ। কিন্তু সেখানে প্রথম সারির কবি, সাহিত্যিক, লেখক, অভিনেতাদের দেখা যায়নি। কংগ্রেস সেই পথে হাঁটলেও তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কতটা সফল হবে সেটা অবশ্যই সময় বলবে৷

Advertisement
----
-----