মিষ্টি জলের ইলিশের খোঁজে সরকারি বিজ্ঞাপন

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: মিষ্টি জলের ইলিশ মাছের জন্য বছরভর বিজ্ঞাপন দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বর্ষার সময় মাছ প্রিয় বাঙালির পাতে ‘হট ফেভারিট ডিশ’ ইলিশ। সারা বছর রুই, কাতলা, পার্শে দিয়ে মন ভরালেও, বর্ষার সময় ইলিশ অতি আবশ্যক! ইলিশের মরশুমে সেই স্বাদ যাতে বাঙালির মিস না হয়, তার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার।

‘ছোট ইলিশ কিনবেন না’, এমন সতর্কবার্তার মাধ্যমেই বর্ষার সময় মিষ্টি জলের স্বাদযুক্ত ইলিশকে বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। এমনই জানানো হয়েছে৷ ইলিশের প্রতি বাঙালির বাড়তি ভালোবাসা রয়েছে। তার প্রথম কারণ অবশ্যই, স্বাদ। মাছ ব্যবসায়ীদের অভিমত অনুযায়ী, সারা বছরে একবারই ভালো মানের ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। তাই এই একবারই ইলিশ মাছ চেটেপুটে নেওয়ার চেষ্টা করে বাঙালি। বছরে এই একবারই যাতে সেরা মাছটা বেশি পরিমাণে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই প্রচেষ্টায় নেমেছে সরকারও।

কিন্তু, এই সতর্কতার কারন কী? রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, “ইলিশ মিষ্টি জলের মাছ। বড় অবস্থায় এর স্বাদ সেরা থাকে। বছর পাঁচেক আগে দেখা যেত ছোট ইলিশ সমুদ্র থেকে তুলে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।” এটাই একসময় মরশুমে ইলিশের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণ হয়ে উঠেছিল বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী৷

- Advertisement -

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “ইলিশ ডিম দেয় মিষ্টি জলে। তখন ডিম দেওয়ার জন্য সে গঙ্গার মিষ্টি জলে আসে। সেটাই সেরা মাছ। এ বার বড় হওয়ার আগেই যদি তাকে ধরে নেওয়া হয়, তা হলে আগামী মরশুমের জন্য চাহিদা থাকলেও, তা যোগান দেওয়া যাবে না। এটা আগে হত। সেটা যাতে না হয়, তাই সারা বছর প্রচার চালানো হয়।”

গত চার বছর ধরেই এই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্য সরকার। এর ফলে কাজ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, “ ছোট ইলিশ মানে দেড়শো-দু’শো গ্রামের৷ এই ওজনের ইলিশ বিক্রির খবর গত কয়েক বছরে পাইনি। এই বছরেও এখনও তেমন কোনও অভিযোগ নেই। কিন্তু প্রচারটা আমরা চালিয়ে যাব।”

মানিকতলা বাজারের বড় মাছ ব্যবসায়ী বাবলু দাস বলেন, “ওই দু’শো গ্রামের মাছ আমাদের বাজারে আসে না। এখন চাহিদাও নেই। যে কটা আসে সেগুলোর ওজনও এক কেজির কাছাকাছি।” বিক্রি কেমন? তিনি বলেন, “দিনে একটা, দু’টো বিক্রি হয়। তবে, এখন স্বাদও ভালো নয়। খুব ইচ্ছা হলে লোকে কেনে। কিন্তু, ছোট স্বাদহীন এই ইলিশ মাছ আমরা বিক্রি করি না।”

Advertisement
---