দেবময় ঘোষ, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস-বিজেপির ‘তারকা’ সাংসদের সংসদে কী অবদান? বিষয়টি নিয়ে প্রচারে নামলো সিপিএম৷ ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হয়নি৷ কবে তা প্রকাশিত হতে পারে তাও স্পষ্ট জানা যাচ্ছে না৷ সারা দেশেই শাসক এবং বিরোধীদের জোট রসায়নও পরিস্কার নয়৷ তবে এইসব কিছুর আগে থেকেই স্যোশাল মিডিয়ায় লাগাতার প্রচার চালু করেছে সিপিএম৷

ইতিমধ্যেই সংসদের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ্যে এসেছে৷ কোন সাংসদ লোকসভায় কী অবদান রেখেছেন তা জানা গিয়েছে৷ রাজ্য থেকে তৃণমূল কংগ্রেস কিংবা বিজেপির তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রী সাংসদরা লোকসভায় কী অবদান রাখলেন, সেই তথ্যেই এবার প্রচারের হাতিয়ার করতে চাইছেন কমরেডরা৷

Advertisement

উত্তর দিনাজপুর জেলা সিপিএমের ফেসবুক পেজে ইতিমধ্যেই অভিনেতা দেব বা দীপক অধিকারির সাংসদ হিসেবে অবদান প্রশ্ন তোলা হয়েছে৷ দেবকে ‘জনপ্রিয় প্রতিভাবান অভিনেতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে সিপিএমের বক্তব্য, স্বেচ্ছায় হোক বা চাপে পড়ে হোক, তাঁর অভিনেতা নিসেবে অর্জন করা জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করেই তিনি সাংসদ হয়েছেন৷ তবে তার বদলে মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছেন কী?

সংসদে দেবের পারফরম্যান্সের খতিয়ান তুলে ধরে সিপিএমের প্রচার, সংসদে বাংলার heart-throb এর উপস্থিতির হার ১০ শতাংশ, প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন তিনটি এবং চার বছরে বিতর্কে অংশগ্রহণ করেছেন দুই বার৷ ফেসবুকে দেব সম্পর্কে সিপিএমের বক্তব্য, ‘‘অবশ্যই জনপ্রিয় প্রতিভাবান অভিনেতা, কিন্তু রাজনীতির মানুষ নন। জনসেবা নয়, অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষের মনে জায়গা করে নিতেই ইনি বেশী আগ্রহী। স্বেচ্ছায় হোক বা চাপে পড়ে হোক, তাঁর অভিনেতা হিসেবে জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করে সাংসদ হয়েছেন।’’

সিপিএমের আরও প্রশ্ন, ‘‘কিন্তু এতে সাধারণ মানুষ কি আদৌ লাভবান হয়েছেন? একজন সাংসদ কে যে ভূমিকায় মানুষ দেখতে চান, আদৌ তিনি মানুষের সেই প্রত্যাশার এককণাও পূরণ করতে পেরেছেন? একবার ভেবে দেখুন, এরকম জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করে লাভ কার হচ্ছে; আপনার নাকি কোনো স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক ব্যক্তি বা দলের?’’

তবে অনেকেই মনে করছেন, অভিনেতা দেবকে ঘুরিয়ে প্রশংসাই করেছে সিপিএম৷ অভিনেতা হিসেবে জনপ্রিয়তার চরম শিখরে পৌঁছানো দেব বাংলার যুবক-যুবতীদের ‘আইকন’ তা অস্বীকার করার উপায় নেই সিপিএমের৷ Clean Image – এর দেব নিজের ব্যক্তিগত পারদর্শীতা দেখিয়েই নিজের জায়গায় টিকে রয়েছেন৷ যদিও তিনি রাজনৈতিক নেতা হয়ে উঠতে পারেননি৷ কিন্তু তাঁর কেন্দ্র ঘাটালের মানুষ তাঁকে ভালোবাসেন৷

তবে দেবকে ঘুরিয়ে সার্টিফিকেট দিলেও অভিনেত্রী এবং মেদিনীপুরের সাংসদ সন্ধ্যা রায়ের ব্যাপারে কড়া শব্দ প্রয়োগ করেছে পার্টির উত্তর দিনাজপুর জেলা সিপিএমের ফেসবুক পেজ৷ সন্ধ্যা রায় সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘‘এরকম আঞ্চলিক দল যারা শুধু কেবলমাত্র নিজেদের দলের স্বার্থরক্ষায় অযোগ্য ব্যক্তিদের সংসদে পাঠায়, এদের সংসদে পাঠিয়ে সাধারণ মানুষের কি লাভ?’’ সন্ধ্যা দেবীর সংসদে অবদান তুলে ধরেছে সিপিএম৷ তাঁর সংসদে উপস্থিতির হার ৬১ শতাংশ৷ গত চার বছরে তিনি একটিও প্রশ্ন উত্থাপন করেননি৷ অন্যদিকে গত চার বছরে তিনি মাত্র একটি বিতর্কে অংশ নিয়েছেন৷

সিপিএম সূত্রে খবর, এই সবে শুরু৷ শুধু দেব বা সন্ধ্যা রায়েই আটকে থাকবে না সিপিএম৷ খুব তাড়াতাড়ি বাকুড়ার তৃণমূল সাংসদ শ্রীমতি দেব বর্মা বা মুনমুন সেন এবং আসানসোলের বিজেপি সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র সংসদে অবদান স্যোশাল মিডিয়াতে প্রকাশ করে প্রচার চালাবে সিপিএম৷ উত্তর দিনাজপুর সিপিএমের এক জেলা কমিটি সদস্যের কথায়, ‘‘সারা বছর ধরেই তো স্যোশাল মিডিয়ায় প্রচার চালায় আমাদের টিম৷ ভোটের আগেন এগুলি বিশেষ প্রচার৷’’

----
--