সিধুকে জড়িয়ে ধরে জানেন কী বলেছেন পাক সেনাপ্রধান?

নয়াদিল্লি: শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারত থেকে তিন ক্রিকেটার বন্ধুকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের নয়া প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কপিল দেব ও সুনীল গাভাস্কার সেই আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিলেও, শপথ অনুষ্ঠানের সামনের সারিতে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে নভজ্যোত সিং সিধুকে।

সিধু কেন ইমরানের আমন্ত্রণে সাড়া দিলেন, তা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে প্রচুর। তাঁর ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভও দেখানো হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। তবে বিতর্ক চরম পর্যায়ে পৌঁছয়, যখন সিধুর সঙ্গে পাক সেনাপ্রধানের আলিঙ্গনের ছবি প্রকাশ্যে আসে। যে পাক সেনা প্রতিনিয়ত ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশে মদত দিচ্ছে, সেই শত্রুপক্ষের বাহিনীর প্রধানকে কেন এভাবে আলিঙ্গন করলেন সিধু? সেই বিতকফ গড়িয়েছে অনেক দূর।

কিন্তু কী কথা হল দু’জনের। ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটারকে কী বললেন পাক সেনার সর্বেসর্বা কামার জাভেদ বাজওয়া? এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিধু জানিয়েছেন, পাক সেনাপ্রধান তাঁর দিকে এগিয়ে এসে বলেন, ”আমি একজন জেনারেল, তবে আমিও ক্রিকেটার হতে চেয়েছিলাম।” এভাবেই বাক্যালাপ শুরু হয় দু’জনের।

- Advertisement -

এরপর নাকি জেনারেল বাজওয়া বলেন, ”আমরা শান্তি চাই।” যদিও এসব লোক দেকানো কথায় চিঁড়ে ভেজেনি দিল্লির। পাকিস্তান যতদিন পর্যন্ত না সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ করবে, ততদিন পর্যন্ত ভারত কোনোরকম আলোচনাতেই বসতে রাজি নয়। এখানেই শেষ নয়, পাক আর্মি চিফ নাকি সিধুকে বলেছেন, ”২০১৯-এ পাকিস্তানের কর্তারপুরে অবস্থিত গুরু নানকের সমাধিস্থল গুরদোয়ারা দরবার সাহিবে যাওয়ার জন্য করিডর খুল এদেবে ইসলামাবাদ।” ওই বছরেই গুরু নানকের ৫৫০ তম জন্মবর্ষ পালিত হবে। এরকম আরও অনেক ভাল চিন্তাভাবান নাকি পাকিস্তানের আছে বলে জানিয়েছেন জেনারেল বাজওয়া। উল্লেখ্য, ভাতর-পাক সীমান্ত থেকে তিন কিলোমিতার দূরে অবস্থিত ওই শিখ তীর্থক্ষেত্রে যাওয়ার করিডর খুলে দেওয়ার জন্য বারবার কেন্দ্রকে চাপ দদেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন শিখ সংগঠন।

তবে, সিধুর মতে, আলোচনাতেই আশার আলো দেখছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে বেদ উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, বেদ অনুসারে, যদি কোনও যোগাযোগ না থাকে, তাহলে বিশ্বাসের অভাব হয় ও সন্দেহ তৈরি হয়।

Advertisement
---