দেশের প্রতি কতটা শ্রদ্ধা থাকলে এমনটা করা যায়! রবিবার সন্ধ্যায় কোকেভেলির টেনিসি ফেয়ার যে দৃশ্যের সাক্ষী থাকল তা অনেককেই চমকে দিয়েছে। এদিন অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন সকলের সঙ্গে নিজের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়াল অ্যাভেরি প্রাইস।

কিন্তু কে এই অ্যাভেরি প্রাইস? সকলের সঙ্গে প্রাইসের একটাই তফাত। তার সর্বক্ষণের সঙ্গী হুইলচেয়ার। দশ বছর বয়সী প্রাইসের এই আচরণে আবেগতাড়িত হয়ে চোখ ভিজেছে অনেকেরই।

এদিন দেমোলিসন ডার্বিতে জাতীয় সঙ্গীতচলাকালীন সকলে লক্ষ্য করেন প্রাইস হুইলচেয়ার ছেড়ে কোনোরকমে সাহায্য ছাড়া উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এই অল্প বয়সে তার জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি এবং দেশের প্রতি ভালবাসা অবাক করেছে সকলকে। তার এই অবাক কীর্তির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছে।

আভেরি এক বিরল রোগে আক্রান্ত। হেরিডেটারি স্পাস্টিক পারাপ্লেগিয়া সিনড্রোম। বেশিরভাগ সময়ই তাকে হুইলচেয়ারের সাহায্য নিতে হয়। এমনকি অনেক সময় সে নিজে সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারে না। চিকিৎসকদের মতে, প্রাইসের অবস্থা অনেকটাই সেরিব্রাল পলসিতে আক্রান্ত রোগীদের মতো। কিন্তু শত বাধা হার মেনেছে আভেরির দেশের প্রতি ভালবাসার কাছে।

একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাতকারে আভেরি প্রাইস জানিয়েছে, ‘ আমি সাধারণত জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন হুইলচেয়ারে বসেই বুকে হাত রেখে দেশের প্রতি সম্মান জানাই। কিন্তু সেদিন আমি সবার সাথে উঠে দাঁড়াতে দাড়াই। কারণ আমি দেশের জন্য দাঁড়াতে চাই।’

এদিকে আভেরির এই আচরণে গর্বিত তার মা-বাবাও। আভেরির বাবা স্টিফেন প্রাইস যিনি সেদিন জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানের এই আচরণে আমি আপ্লুত। নিজের অসমর্থতা সম্পর্কে অবগত থাকার পরেও যে সে উঠে দাঁড়াতে চেয়েছে আমি তা দেখে অবাক হয়েছি। তবে তার মধ্যে দেশাত্ববোধ বরাবরই খুব প্রবল।’

জেনি লেহ, সেদেশের জনৈক সঙ্গীত শিল্পী, যিনি সেদিন পুতনাম কান্ট্রি ফেয়ারে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন তিনি আভেরীর এই কীর্তিকে ‘অসাধারণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। সুত্রের খবর, সম্প্রতি নাসভেলী মেডিকেল সেন্টারে একটি অপারেশনের পর সে নিজে হাঁটা শুরু করেছে।

----
--