আল্লা নামে শান্তি লাভ দিলীপের, পরিবর্তনে খ্যাতি ইউসুফের

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: নাম একটাই। কিন্তু একজন সেই নাম ত্যাগ করে বিখ্যাত হলেন। অপরজন ওই নামকেই জীবনের সঙ্গে জুড়েই দেখেছিলেন সাফল্যের মুখ। পৌঁছেছিলেন খ্যাতির শিখরে। একজন এ আর রহমান, অপরজন দিলীপ কুমার। অস্কার জয়ী সঙ্গীত পরিচালক রহমান খ্যাত হয়েছিলেন দিলীপ নাম পরিবর্তন করে মুসলিম হয়ে। বিখ্যাত দিলীপ কুমার আবার মহম্মদ ইউসুফ খান নাম পরিবর্তন করেই খ্যাতি লাভ করেন বলিউডে।

১৯৮৮ সাল, সঙ্গীতপ্রেমী দিলীপের বয়স তখন সবে কুড়ি পেরিয়েছে। সামনে নিজের প্রথম অ্যালবাম ‘দিন ইসাই মালাই’-এর মুক্তি। এমন সময়েই আবার বোনের গুরুতরভাবে অসুস্থ। অদ্ভুত দোলাচলের মাঝে হাল ছেড়ে দিয়েছিল পরিবার। অগত্যা হাজির হওয়া শেখ আবদুল কাদের জিলানি নামে মুসলিম পীরের কাছে। পীরবাবা দিলীপের বাবাকে বাঁচাতে পারেননি। তবু মায়ের বিশ্বাস এই পীরবাবাই বদলে দিতে পারে সবকিছু। সেই বিশ্বাস নিয়ে হাজির হল কাদরি নামে খ্যাত পীরবাবার কাছে।

ম্যাজিক, সেরে উঠল দিলীপের বোন। পীরের সদুপদেশ ও সাহায্য স্বাভাবিকভাবেই প্রভাবিত করে তরুণ দিলীপকে ধর্মান্তরিত হতে। তিনি ও তার পুরো পরিবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। দিলীপ হয়ে যান এআর রহমান।

এর মাঝেও একটা পর্ব ছিল যেখানে দ্বিতীয়বার নাম পরিবর্তন হয় দিলীপের। জ্যোতিষে বিশ্বাসী দিলীপের ধর্ম পরিবর্তনের পর নাম হয় আবদুল রহমান। এক জ্যোতিষী এ আর রহমান নাম রাখতে উপদেশ দেন। আবদুল রহমানে আবার অতিরিক্ত ‘র’ কিভাবে? নাম তো এ রহমান হওয়া উচিত। এ আর রহমান হবে কী করে?

জ্যোতিষী বলেছিলেন, রহমানের আগে দুটি আদ্যক্ষর যোগ করতে। এতেই অতিরিক্ত শব্দ জুড়ে আবদুল হন এ আর রহমান। আরও পরে আবদুল নামও পরিবর্তন হয়ে বিখ্যাত তবলা বাদক আল্লা রাখার নামে আল্লা রাখা রহমান নাম নেন। এভাবেই এ এস দিলীপ কুমার থেকে ওরফে আবদুল রহমান ওরফে আল্লা রাখা রহমান ওরফে এ আর রহমানের পর্যায়ক্রমিক নামান্তর ঘটে। এ আর রহমান নিজেও অনেক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “ইসলাম আমাকে শান্তি দিয়েছে। দিলীপ রূপে আমি একটা হীনম্মন্যতায় ভুগতাম। এআর রহমান হয়ে আমার মনে হয় পুনর্জন্ম লাভ করেছি।” ১৯৬৭-র ৬ জানুয়ারি এমন দিনেই জন্মগ্রহণ প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালকের।

আবার অভিনেতা মহম্মদ ইউসুফ খান আদতে পরিপূর্ণ মুসলিম পরিবারের। রন্ধ্রে রন্ধ্রে অভিনয় এবং প্রচুর স্বপ্ন নিয়ে মহম্মমদ ইউসুফ চলে এলেন মুম্বইতে। বম্বে টকিজ হয়ে কাজ করতে শুরু করলেন। সেখানেই পরিচয় কিশোর কুমারের দাদা অশোক কুমারের সঙ্গে। দাদামণির অভিনয় দেখে শিখলেন ‘মেথড অ্যাক্টিং’। তৎকালীন বিখ্যাত অভিনেত্রী দেবীকা রানি তাঁকে নাম পরিবর্তন করতে বলেন। তাঁর পরামর্শ ছিল হিরোর ‘মহম্মদ ইউসুফ খান’ এমন বড় নাম জনতার অপছন্দ হতে পারে। যদি কিছু করতে চাও কিছু এমন নাম নাও যেটা আকর্ষণীয় হবে। সামনেই দেখছেন অশোক কুমারকে। কুমারের আগে আগে জুড়ে দিলেন দিলীপ। হিন্দু নাম নেওয়ার পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি মহম্মদ ইউসুফ খানকে। হয়ে যান সকলের প্রিয় ‘দিলীপ সাহেব’।

-------
----