ইংরেজদের ‘বার্তা’ দিতে ব্যাট হাতে মাঠে নেমেছিলেন বিশ্বকবি

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: তিনি বিশ্ববন্দিত কবি। তাঁর লেখা গানের কথা ও সুরে মোহিত হয়েছে বিশ্ববাসী। বাঙালির গর্ব। সেই তিনিই আবার ইংরেজদের স্বাধীনিতা আন্দোলনের বার্তা দিতে ব্যাট হাতে ক্রিকেট মাঠে খেলেছেন! কলমের পাশাপাশি বিশ্বকবির ব্যাটও চলেছে ক্রিকেট মাঠে।

শুনতে অবাক লাগতে পারে। রবীন্দ্রনাথ ব্যাট হাতে নাকি ক্রিকেট খেলছেন। একদমই ঠিক। বসুমতী পত্রিকার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সেরকম কথাই বলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ঘটনার সময়কাল ১৯৩০ সাল। সেই প্রথমবার এবং সেটাই শেষবার। কবি কাঠের ব্যাটে হাত দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য স্বদেশী আন্দোলন। কবির শিল্প জগতে সহস্র প্রতিভার বিচ্ছুরণের ভিড়ে কোথাও হয়তো হারিয়ে গিয়েছিল তাঁর ব্যাট হাতে কেরামতি দেখানোর কীর্তি। সেই প্রতিভার ‘প্রমাণ’ মিলেছে বাংলার সবথেকে পুরনো সংবাদপত্র বসুমতির পাতায়।

কলমের বদলে ক্রিকেট ব্যাট ধরেছেন রবীন্দ্রনাথ। কল্পনাতিত। সত্যিই কল্পনা করা যায় না যে রবি ঠাকুর ক্রিকেটের জনক ডব্লিউ.জি.গ্রেস মার্কা দাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ক্রিজে। এরপর বোলার বোল করল। বিশ্বকবি অসাধারন স্ট্রেট ড্রাইভ হাঁকালেন। সবুজ ঘাসের গালিচা চিড়ে বল এগিয়ে যাচ্ছে। ফিল্ডার অনেক চেষ্টা করল রান বাঁচাবার। বোলার হতাশ। বল বাউন্ডারির বাইরে। কবি মুচকি হেসে আবার ফিরে গেলেন স্ট্যান্স নিতে। কল্পনাতিত ঘটনা, কল্পনাতেই লেখা হয়েছে।

- Advertisement -

প্রতিবেদক লিখেছেন, কল্পনার সেই ক্রিকেট ম্যাচ খেলা হয়েছিল তৎকালীন বিহারের অন্তর্গত ধানবাদের ছোট্ট একটি শহর গোমহে। রবীন্দ্রনাথের দলে ছিলেন ভিজিয়ানাগ্রামের মহারাজা, পাতিয়ালার মহারাজা, নবাব পতৌদি (ক্রিকেটার বাবা), কোচবিহারের মহারাজা এবং দলীপ সিংজি। তাঁরা খেলতে এসেছিলেন নিজস্ব বিমানে চড়ে। ঘটনা হল বিশ্বকবি নিছক বেড়াতে গিয়েছিলেন গোমহে। কবি সেই ভ্রমণকাহিনীকে এমন সাজিয়ে গুছিয়ে দিয়েছিলেন প্রতিবেদক।

সানাই ঢাক ঢোল পিটিয়ে খেলা শুরু হিয়েছিল। মেয়েরাও উপস্থিত হয়েছিলেন খেলা দেখতে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ছিলেন যারা রাজপরিবারের সঙ্গে এসেছিলেন খেলা দেখতে। রবীন্দ্রনাথের দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ক্ষিতি সেন অর্থাৎ অমর্ত্য সেনের বাবা এবং বিধুশেখর শাস্ত্রী।

তখন ইংরেজ রাজত্ব চলছে ভারতে। তাই প্রতিবেদক কিছুটা জাতীয়তাবাদের রূপও দিয়েছেন। কবি বিদেশি খেলায় অংশ নিলেন। কিন্তু হাতে ছিল দেশি কাঠের তৈরি ব্যাট। মাথায় পড়েছিলেন হ্যাটের বদলে পাতার তৈরি টোকা।

উক্ত ঘটনা লেখকের মস্তিষ্ক প্রসূত। তবে বাংলার প্রথম ক্রীড়া সাংবাদিক ব্রজরঞ্জন রায় আবার নিজের লেখার ব্যকারণ থেকে শুরু করে শব্দচয়নের জন্য সাহায্য নিতেন বিশ্বকবির। কবিও তাঁকে ভালো লেখার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। ক্রিকেটের বহু প্রতিবেদন লেখার সময় তাঁকে সাহায্য করেছেন.

Advertisement ---
---
-----