সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: তিনি ভগবানের দেখা পেয়েছিলেন। নিজ স্ত্রীর মধ্যে দেখেছিলেন ঈশ্বরীর রূপ। সেই রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব যখন আলিপুর চিড়িয়াখানায় গিয়ে সিংহ দর্শন করেছিলেন তখন তাঁর এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়েছিল। ১৫০ বছরের চিড়িয়াখানা ইতিহাসে সেই কাহিনি আজও ঘুরে বেড়ায়।

দেবী দুর্গার বাহন সিংহ। তাকে চাক্ষুষ দেখে তিনি মোহিত হয়ে পড়েছিলেন। খুব কম জনই জানেন সেই কথা। চিড়িয়াখানায় তাঁর আগমনের স্মৃতিফলক মনে করায় সেই ‘অমৃত’ কথা।

Advertisement

এশিয়ার অন্যতম বড় এই চিড়িয়াখানা কখনও বাঘ সিংহের ক্রসবিড, কখনও মার্মোসেট চুরি, শিবা নামক বাঘের নর ভক্ষণ সহ নানাবিধ ঘটনার সাক্ষী থেকেছে। প্রাচীনতম গজ কচ্ছপও ঘুরে ফিরে বেড়াত৷ এসবই হালফিলের ঘটনা৷

কিন্তু ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের চিড়িয়াখানা দর্শনের কথা তো তেমন উঠে আসেনি৷ মহানগরের গর্বের স্থান দর্শন করে গিয়েছেন বহু বিখ্যাত মানুষ। তাঁদের অন্যতম রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব। নতুন করে সেজে ওঠা চিড়িয়াখানায় বসানো ফলকে ধরা আছে সেই কথা৷ সেখান থেকে জানা যায়, ঠাকুরের পদধূলি চিড়িয়াখানায় পড়েছিল ১৮৮৪ সালে। তখন চিড়িয়াখানার বয়স প্রায় ১০ বছর৷ ২৪ ফেব্রুয়ারির এক শীত শেষের সকালে তিনি এসে হাজির হয়েছিলেন আলিপুর চিড়িয়াখানায়।

কথামৃতে সেই দিনের কাহিনি বর্ণিত রয়েছে। সেখান থেকে জানা যায়, দক্ষিণেশ্বরে এসে তিনি শিবনাথ শাস্ত্রী মহাশয়কে শহরের নতুন আকর্ষণের স্থল চিড়িয়াখানা দর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ঠাকুরের কথা ফেলতে পারেননি শাস্ত্রী মহাশয়। এদিকে তাঁর একটি জরুরি কাজও ছিল। অনেক ভাবনাচিন্তার পর তিনি স্থির করেন পরমহংসদেবকে তাঁর গাড়ি করে কিছুটা পথ এগিয়ে দেবেন। এরপরের দায়িত্ব শিষ্য নরেনের৷

কথামৃতের উল্লেখ থেকে জানা যায়, ওইদিন সুকিয়া স্ট্রীট অবধি রামকৃষ্ণকে এগিয়ে দিয়েছিলেন শিবনাথ শাস্ত্রী। এরপরে তাঁকে ওই গাড়ি করেই আলিপুরের চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসেন নরেন।

এ তো গেল আসার গল্প৷ ভিতরে কী ঘটেছিল ? জানা যায় চিড়িয়াখানা ঢুকেই রামকৃষ্ণ দেবী দুর্গার বাহন সিংহকে চোখের সামনে দেখে মোহিত হয়েছিলেন। সোনালী কেশরের পশুরাজকে দেখে ‘সিংহ জগজ্জননীর দেবী দুর্গার বাহন’, এই কথা বারবার আওড়াতে থাকেন। এরপর দেখতে থাকেন শুধু সিংহটিকেই। সেদিন তিনি আর কোনও পশু দেখেন নি। দেবীর বাহনকে দেখেই তাঁর মন ভরে গিয়েছিল।

চিড়িয়াখানা দর্শনের কথা শুনিয়েছিলেন ঘনিষ্ঠদের। শ্রীম ঠাকুর রচিত কথামৃত থেকে জানা যায় তিনি বলেছিলেন, “চিড়িয়াখানা দেখতে লয়ে গিছলো। সিংহ দর্শন করেই আমি সমাধিস্থ হয়ে গেলাম। ঈশ্বরীর বাহনকে দেখে ঈশ্বরীর উদ্দীপন হল-তখন আর অন্য জানোয়ার কে দেখে। সিংহ দেখেই ফিরে এলাম।”বাকিটা ইতিহাস।

সিংহগুলো কি কেশর ফুলিয়ে দাঁড়িয়েছিল ? কে জানে…

----
--