‘শামসুদ্দিনের হাতে খুন পার্থ চক্রবর্তী, এখন বুদ্ধিজীবীরা কোথায়’

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ডোমজুরে ব্যাংক কর্মী পার্থ চক্রবর্তীর খুনের মধ্যে লাগল রাজনীতির রঙ। ব্যাংক কর্মী পার্থর খুন নিয়ে সরব হলেন ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। এই খুন নিয়ে তিনি আক্রমণ করেছেন বুদ্ধিজীবীদের।

রাজ্যে, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরের নানাবিধ ঘটনা ঘিরে প্রতিবাদে সরব হতে দেখা যায় বুদ্ধিজীবীদের। কিন্তু ডোমজুরে পার্থ চক্রবর্তীর খুন ঘিরে তাঁরা নিরব কেন? প্রশ্ন তুলেছেন জয়। তিনি বলেছেন, “একটা ২৩-২৪ বছরের কর্মীকে টাকা চাইতে গিয়েছিল বলে একটি মুসলমান ছেলে কয়েক টুকরো করল। সেই দেহাবশেষ আবার বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দিল।”

দিন কয়েক আগে হাওড়া জেলার সলপের মাকড়দহ এলাকায় ব্যাংক কর্মী পার্থ চক্রবর্তীর মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশের তদন্তে জানা যায় যে ব্যাংক ঋণের টাকা চাইতে যাওয়ায় খুন হয় পার্থকে। পুলিশ গ্রেফতার করে ওই খুনের ঘটনায় জড়িত সেখ সামসুদ্দিনকে। জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছে ধৃত শামসুদ্দিন।

এই বিষয়ে কোনও বুদ্ধিজীবীদের মনে কিছুই হয় না বলে কটাক্ষ করেছেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “পার্থ চক্রবর্তী খুনের ঘটনায় তো বুদ্ধিজীবীদের মন কাঁদে না। কোনও মোমবাতি মিছিলও দেখা যায় না।”

আরও পড়ুন- আমডাঙা কাণ্ডে জ্যোতিপ্রিয়কে আক্রমণ জয়ের

এই বিষয়ে তিনি টেনে এনেছেন মহারাষ্ট্রে মাওবাদী ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবী গ্রেফতারের ঘটনা। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে ভারভারা রাও নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সমগ্র দেশ জুড়ে। কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারকে।

সেই বিষয়টিকেও তুলে ধরেছেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, “বাংলার স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবীরা পশ্চিমবঙ্গের কোনও খবর রাখে না। তারা পরে থাকে মহারাষ্ট্র নিয়ে। তারা খোঁজে মোদী কী করল?” এই প্রসঙ্গে সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা লাইনের উল্লেখ করেছে জয়। তিনি বলেন, “বিভূতিভূষণ লিখেছিলেন যে প্রকৃত দেখতে আপনাকে কাশ্মীরে যেতে লাগে না। ঘরের বাইরে গিয়ে ওই কলা পাতার মধ্যে একটা শিশির বিন্দু পরে আছে। তাতে রোদের চমক হচ্ছে। ওইটা দেখলেই প্রকৃতি দেখা হয়ে যাবে, কাশ্মীর যেতে হবে না।”

ধর্মতলায় গোমাংস খাওয়া বুদ্ধিজীবীদেরকেও আক্রমোন করেছেন বিজেপির এই জাতীয় নেতা। তিনি বলেছেন, “আমাদের রাজ্যের স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। সেই কারণেই ব্রাহ্মণ হয়েও প্রকাশ্যে গোমাংস খাওয়ার নেকামো করে।”

----
-----