অতসী মুখোপাধ্যায়: ‘হইচই আনলিমিটেড’ ছবিটিকে ঘিরে দর্শকের উন্মাদনা চরমে। ছবির টিজারেই বাজিমাত করেছেন দেব এন্টারটেনমেন্ট ভেনচার। ছবিটির পাশাপাশি গান নিয়েই একটা প্রশ্ন রয়ে গেছে। কারন ‘ককপিট’ ছবিতে আতিফ আসলাম দিয়ে গান গাইয়ে সকল কে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। আর এবার ‘হইচই আনলিমিটেড’-এ মিকা সিং কে দিয়ে গান গাওয়াচ্ছেন তিনি।

সূত্রের খবর,’হইচই আনলিমিটেডে’ এর টাইটেল ট্র্যাকটা গাইছেন মিকা সিং। প্রায় তিন বছর পর বাংলায় গাইবেন এই গায়ক । এর আগে ‘হিরোগিরি’, ‘রংবাজ’, ‘খোকা ৮২০’,’পাগলু’,’পাগলু২, ‘খোকাবাবু’ ছবিতে গান গেয়েছেন তিনি।আর এই সব কটি ছবিতেই অভিনয়ে ছিলেন দেব। আর এবার দেবের ছবিতে গান গাইবেন তিনি। এক্ষেত্রে উপরি পাওনা, অভিনয়ের পাশাপাশি এই ছবির প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন দেব।

ছবি: ট্যুইটারের সৌজন্যে

শুধু মিকা সিং নয় এই ছবিতে একটি রোম্যান্টিক সং এর দায়িত্বে রয়েছেন আরমান মালিক। ‘ক্রিসক্রস’, ‘আমার আপনজন’,’লাভ এক্সপ্রেস’ সহ বেশ কিছুতে বাঙলায় গান গেয়েছেন আরমান মালিক। আর বাকি যারা রয়েছেন তাঁদের নাম এখন টুইস্টই রাখা যাক। তবে ‘ককপিট ছবির ‘মিঠে আলো’ গান যেভাবে ট্রেন্ড করেছিল আশা করা যায় এই ছবির এই সকল হেবিওয়েট গায়কের গান ও মন ছুঁয়ে যাবে সকলের।

ছবি: ট্যুইটারের সৌজন্যে

কিছুটা ফ্ল্যাশব্যাকে গেলে আপনার অবশ্যই মনে পড়ে যাবে অ্যাকশন, রোম্যান্স, সন্ত্রাসের ছবিগুলি। তবে এবার সিরিয়াস ‘কবীর’-এর কীর্তিকলাপে প্রাণখুলে হাসবে সিনেপ্রেমীরা। অ্যাকশন, রোম্যান্স, সন্ত্রাসের পর কমেডি ঘরানায় এন্ট্রি নিল দেব এন্টারটেনমেন্ট ভেনচার্স প্রাঃ লিমিটেড।দেব প্রযোজক সংস্থার পুজো ইনস্টলমেন্ট ‘হইচই আনলিমিটেড’। কিছুদিন আগেই উজবেকিস্তানে জমিয়ে চলছিল এই ছবির শ্যুটিং।

ছবি: ট্যুইটারের সৌজন্যে

দেব জানিয়েছেন, তাঁর প্রোডাকশনের চার নম্বর ছবি এটি। তিনি আবার ফিরে এসেছেন নিজের চেনা ছন্দে। হার্ডকোর মশালা ফিল্ম, যাতে থাকবে ফুল অন কমেডি, এমনই আশ্বাস দিয়েছেন দেব। গত পুজোতে রিলিজ করেছিল ‘ককপিট’। তবে এই পুজোয় মজার ছবি ‘হইচই আনলিমিটেড’ থাকছে তাঁর তরফ থেকে। বহুদিন সিরিয়াস ছবির পর দর্শককে একটু হাসাতে তাঁর এই উপহার ‘হইচই আনলিমিটেড’।রুক্মিণী জানিয়েছেন, এই ছবি দর্শক খুবই এনজয় করবেন। ‘হইচই’ এর টিম কে তিনি উইশ করেছেন, কীর্তি সচদেব হিসাবে।

আরও পড়ুন:  ‘লায়লা-মজনু’র আদলে টিনসেল পেল নয়া চমক

অন্যদিকে ছবির পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চার জন লোক যারা তাঁদের জীবনে নানা ভাবে ফ্রাস্টেটেড। তাঁরা তাঁদের জীবন রাখতে চায়না, মরে যেতে চায়। তবে সৃজিতের ভাষায় ‘মরলে মরুন ছড়াবেন না’। না ছড়িয়ে এবার তাঁরা অন্য কোথাও চলে যাচ্ছে, তবে তাঁরা কোথায় যাচ্ছে, কে কে যাচ্ছে তাঁদের সঙ্গে সেটাই টুইস্ট এই ছবির।

অর্ন মুখোপাধ্যায় (যার সঙ্গে ‘কবীর’ ছবিতে পরিচয় হয়েছিল আপনাদের), কমেডি রয়েছে ছবিতে কিন্তু কমেডির মোড়কে একটা সিরিয়াস ম্যাসেজ ও পাওয়া যাবে ছবি থেকে।‘হইচই’-এর পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায় ছবির কাহিনীর সাসপেন্সটা ভাঙতে চাইছেন না । কিন্তু সিনেমায় কার কী চরিত্র তার ওপর থেকে যবনিকা উঠে গিয়েছে অনেক আগেই।

ছবি: ট্যুইটারের সৌজন্যে

চিত্রনাট্য অনুযায়ী, এই ছবিতে এক বড় শিল্পপতির ঘরজামাই উত্তীয় (দেব)। তাঁর স্ত্রী (কৌশানি) সমসময় পুজোপাঠ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। যা উত্তীয়র জীবনের সব থেকে বড় সমস্যা। যেমন প্রোমোটার বিজনের (খরাজ) জীবন তাঁর দুই স্ত্রীকে নিয়ে সমস্যায় জর্জরিত। আসলে বিজনের দু’বউ। কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মানসী সিনহা। অথচ কেউ কারও কথা জানে না! তাই সারাক্ষণ বিজনের একটি ভয় কাজ করে, পাছে তাঁর এক বউ অন্য বউয়ের অস্তিত্বের কথা টের পেরে যায়।

এদিকে অবিবাহিত হয়েও রিটায়ার্ড ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট অনিমেষ চাকলাদারের (শাশ্বত) জীবনে শান্তি নেই। কারণ সুদীপ্তা চক্রবর্তী। সে এ ছবির গুন্ডা। ইনি প্রায়ই অনিমেষকে হুমকি দেয় বাড়িটা তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য। অন্যদিকে বউয়ের জন্য মনে শান্তি নেই গ্যারাজ মেকানিক আজমল খানের (অর্ণ)। কারণ অভিনেত্রী হতে চাওয়া তার বউ (রোজা পারমিতা) মনে করে, এই কালিঝুলি মাখা মানুষটি তার বর হওয়ার যোগ্য নয়।

সুতরাং কারও মনেই শান্তি নেই। তাই শান্তির খোঁজে তারা সবাই উজবেকিস্তানে ঘুরতে যায়। সেখানে গিয়ে তাদের একে-অপরের সঙ্গে আলাপ হয়। এই সরফে তাদের গাইড ললিতা ঝুরঝুরোস্কির (পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়)। বিদেশে ঘুরতে গিয়ে ঘটনাচক্রে তৈরি হয় এমন সমস্যা, যা রীতি মতো হইচই বাধিয়ে দেয় তাদের জীবনে। সেটা কী? উত্তর মিলবে ছবির পর্দায়।

----
--