৩ ফেব্রুয়ারি সিপিএমের ব্রিগেডের মঞ্চে কারা থাকবে?

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: আগামী ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জনসভা করতে চায় সিপিএম৷ এই মর্মে ব্রিগেডের নিয়ন্ত্রক সেনাবাহিনীর কাছে অনুমতি চেয়েছে সিপিএম৷ পার্টি সূত্রে খবর, আগামী বছর এই সভার জন্য অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে চায় সিপিএম৷ তবে এটি সিপিএমের সভা নাকি বামফ্রন্টের সভা তা এখনও পরিষ্কার হয়নি৷

তবে বছরের শুরুতেই, জানুয়ারির ১৯ তারিখে ব্রিগেডে সভা করবে তৃণমূল কংগ্রেস তা অনেক আগে থেকেই ঠিক হয়ে রয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করে রেখেছেন – সমস্থ অ-বিজেপি রাজনৈতিক দল কলকাতায় এক মঞ্চে একত্রিত হবে৷ যেখানে বামেরাও ব্রাত্য নন৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে ফেব্রুয়ারির 3 তারিখ সিপিএম বা বামফ্রন্টের মঞ্চে কোন নেতারা থাকবেন – তা নিয়ে অনুমানের ‘মালা গাঁথা’ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে৷ প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে – কংগ্রেস থাকবে কী? মঞ্চে যদি কংগ্রেস থাকে তবে বাম শরিকরা থাকবে তো?

লোকসভা ভোটমুখী দেশে বাংলায় সিপিএমের রাজনৈতিক অবস্থান সুস্থিত নয়৷ কারণ কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা অদৌ হবে কী না, বা হলে কী ভাবে হবে তা নিয়ে বাংলার কংরেডদের প্রশ্ন থেকে গিয়েছে৷ লোকসভার নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হওয়ার আগে এই জটিলতা কাটাতে মরিয়া বাংলার সিপিএম৷ বিশেষ করে যখন বামজোট স্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নিয়ে সদর্থক কথা বলছেন না৷ ২০১৬ সালে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোট থেকে ‘লাভের গুড়’ খেয়েছিল কংগ্রেসই৷ জোটেও থেকে ভোট কমেছিল সিপিএম সহ বামদলগুলির৷

বাম শরিকদের আবার কংগ্রেসের হাত ধরা নিয়ে কিছুটা হলেও আপত্তি রয়েছে৷ ফরওয়ার্ড ব্লক নেতারা তো সরাসরি বলে দিয়েছেন – শরিকদের সঙ্গে আলোচনা না করে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হলে, ব্লক ৪২টি আসনে প্রার্থী দেবে৷ অন্যান্য শরিক নেতার কথাতেই পরিষ্কার, কংগ্রেসকে নিজেদের আসন ছাড়তে রাজি নয় তাঁরা৷ শরিকদের রাজি করানো সিপিএমের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে, তা অনেক নেতাই মানেন৷

খিছুদিন আগেই, সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআই দফতরের সামনে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য বামফ্রন্টে মতবিরোধ তুঙ্গে উঠেছিল৷ সিপিএম ছাড়া বামফ্রন্টের তিন বড় শরিক সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক এবং আরএসপি সূর্যকান্তের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল৷ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক কেন ‘Confusion’ তৈরি করছেন, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল৷

প্রতীকী

২০১১ সালে রাজ্যের ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হয় সিপিএমের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট৷ কিন্তু অন্য বাম শরিকদের সাফ কথা, ক্ষমতা গেলেও ‘দাদাগিরি’ করার স্বভাব যায়নি সিপিএমের৷ রাজ্য সম্পাদক বামফ্রন্টকে তোয়াক্কা করছেন না৷ এমনকী বামফ্রন্টের আহ্বায়ক বিমান বসুও খবর রাখছেন না যে, ‘সূর্য মিশ্র’ কখন কোথায় কী কথা বলে বেড়াচ্ছেন৷ নিজের অলক্ষেই বাম ঐক্যের ক্ষতি করছেন৷

ইদানিং শরিক নেতাদের একাংশের মতামত, যেখানে সিপিএম নেই সেখানে যদি বাম মনস্ক ভোটার কংগ্রেসকে ভোট দিতে যান তবে বাকি দলগুলির কী হবে? বামফ্রন্টের এই অবস্থা হল কেন? শরিক দলের নেতার বক্তব্য, সিপিএমকে মনে হচ্ছে বাকি বাম শরিকদের সঙ্গে লড়তে হবে৷ সিপিএমকেই ছেড়ে কথা বলা হবে না, কংগ্রেসকে কী করে ছাড়া হবে?

কিছুদিন আগেই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যে প্রশ্নটা বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে তা হল, কংগ্রেসের সঙ্গে আসম সমঝোতা করে বামদলগুলির কী লাভ হয়েছে৷ কংগ্রেসের ভোট বাম দলগুলির দিকে আসেনি৷ তা চলে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে৷ নিশ্চিত বামফ্রন্টের ভোটও কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে৷ ধ্বসে গিয়েছে বাম দলগুলির ভোট ব্যাংক৷

ফাইল ছবি

যে পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে আলোচনা হয়েছে তা এসেছে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে৷ ওই নির্বাচনে সিপিএম ১৯.৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল৷ সিপিআই ১.৫ শতাংশ, আরএসপি ১.৭ শতাংশ এবং ফরওয়ার্ড ব্লক ২.৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল৷ রাজ্যে সম্প্রতি হয়ে যাওয়া পঞ্চায়েত নির্বাচনে মাত্র একটি (উত্তর দিনাজপুর) জেলা পরিষদ আসন পেয়েছে বামফ্রন্ট৷ কংগ্রেস পেয়েছে ৬টি৷ এই পরিপ্রেক্রিতে ফেব্রুয়ারির 3 তারিখ সিপিএম বা বামফ্রন্টের মঞ্চে কোন নেতারা থাকবেন – তা অনেক প্রশ্নের উত্তর দেবে৷

----
-----