মাঝেরহাট ব্রিজ বিপর্যয়ে দায় কার?

নিবেদিতা দে:  মঙ্গলের বিকেলেই অমঙ্গল৷ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে কলকাতার অন্যতম মাঝেরহাট ব্রিজ৷ এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মৃত্যু হয়েছে বেহালার শীল পাড়ার বাসিন্দা সৌমেন বাগ নামে এক যুবকের৷ জখম কমপক্ষে ২৫ জন৷ এদের মধ্যে ১৩ জন এসএসকেএম হাসপাতালে বাকিরা সিএমআরআই-তে চিকিৎসাধীন৷ রাজ্য সরকার আহতদের চিকিৎসার দায়ভার নেবে বলে ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ কিন্তু বিরোধী দলগুলি সহ সাধারণ মানুষের বক্তব্য ব্রিজ ভাঙা এই রাজ্যে নতুন নয়৷ তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর চার-চারটে ব্রিজ ভাঙার ঘটনা সরকারের অস্বস্তি বেড়েছে ক্রমে৷ স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে এই ব্রিজ ভাঙার দায় কার?

মঙ্গলবার দুর্ঘটনার পরই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম৷ সরেজমিনে ক্ষতিয়ে দেখে মতামত দেন, মেট্রো রেলের কাজের জন্যই অধিক মাত্রায় ভাইব্রেশন হচ্ছিল৷ আর তার জন্যই ভেঙে পড়েছে ব্রিজ৷ মন্ত্রীর পরেই ভাঙা ব্রিজ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী৷ দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে তিনিও এক বাক্যে জানান, রেল ও রাজ্য সরকারের গাফিলতির কারণেই ভেঙে পড়েছে ব্রিজ৷ বিরোধীদের মধ্যে কেউ কেউ পুরো দোষটাই রাজ্যের ঘাড়ে চাপিয়েছেন৷

ব্রিজ ভেঙে পড়ার ঘটনায় তড়িঘড়ি ইঞ্জিনিয়রদের নিয়ে নবান্নে বৈঠক করেছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম৷ বাকি ব্রিজগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখার বিষয়ে আলোচনা হয় এই বৈঠকে৷ প্রয়োজনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে কেএমডিএ বলেও জানানো হয়৷ কিন্তু ব্রিজ ভাঙার ঘটনায় প্রথম থেকেই কাঠগড়ায় উঠেছে পূর্ত দফতর৷ জানা গিয়েছে, ছয় মাস আগেই নাকি পূর্ত দফতরের ‘ফিট’ সার্টিফিকেট পেয়েছে মাঝেরহাট ব্রিজ৷ সেক্ষেত্রে কি করে ভেঙে পড়ে এই ব্রিজ৷ উঠছে এমনই প্রশ্ন৷

- Advertisement -

কিন্তু এই একে অন্যকে দোষারোপ করে কি আদপে কোন লাভ সত্যিই আছে? দুর্ঘটনার কবলে পড়ে যে তরুণের প্রাণ অকালেই ঝরে গেল দোষারোপ করে কি তার উত্তর মিলবে ? আমরা দেখেছি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি ‘মানুষের পাশে থাকতে’ বহু রাজনীতিবিদ পৌঁছে গিয়েছেন এসএসকেএম হাসপাতালে৷ সেখানে শাসক দলের রাজনীতিকরা যেমন ছিলেন, ছিলেন বিরোধী নেতারা৷ কৌতূহলী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিরোধীরা শাসকের উদ্দেশ্যে ছুঁড়েছে একাধিক প্রশ্নবাণ৷ যদিও এদিন নরমপন্হা বজায় রেখেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব৷

আমরা বারবার দেখেছি এই ধরণের দুর্ঘটনার পর রাজনীতি সরগরম হতে৷ ঘটনার দায়ভার অনুসন্ধানের থেকেও এক্ষেত্রে বড় হয়ে ওঠে একে অপরকে আক্রমণের রাজনৈতিক ইস্যু৷ যে যেভাবে পারে নিজের জমিতে চাষ করতে উঠেপড়ে লাগে৷ কিন্তু আসল তদন্তে গতি আসে না৷ যদিও এবারেও ব্রিজ ভাঙার ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী৷ ইতিমধ্যেই রেলের তরফে তদন্তের দায়ভার গ্রহণ করেছে রাইটস৷ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থা সাফ জানিয়ে দিয়েছে রেলের কোনও কাজের জন্য এই ঘটনা ঘটেনি৷ আর তাতেই ক্ষুব্ধ কেএমডিএ৷ এক্ষেত্রেও সেই দোষারোপের পালাই যেন বড় হয়ে উঠছে৷ কেএমডিএ-র অভিযোগ, রাইটস নিরপেক্ষ তদন্ত করছে না৷

কিন্তু দুর্ঘটনার দায় কার এ প্রশ্নের উত্তর যদিও অধরা৷ আগেও মেলেনি অতীতেও এর উত্তর মিলবে কিনা তার কোনও নিশ্চয়তা নেই৷

Advertisement
-----