বিসর্জনের আগে সিঁদুর খেলার কারণ জেনে নিন

কলকাতা: দুর্গাপুজোর ক’টা দিন আনন্দে মেতে ওঠে আপামর বাঙালী৷ মাতবেই না কেন? বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব যে৷ এখন তো খুঁটি পুজো থেকে শুরু হয় পুজো প্রস্তুতি৷ এরপর মহালয়া থেকে শুরু হয়ে যায় উৎসবের পালা৷ চলে বিসর্জনের দিন পর্যন্ত৷ দশমীর দিন ঘরে ফিরে যায় উমা৷ উমার ঘরে ফেরার বিশাদে বিষন্নতা কাটাতে আনন্দে মেতে ওঠে বাঙালী৷ মাকে বরণ করে সিঁদুর খেলে হাসি মুখে বিদায় জানায় ঘরের মেয়েকে৷ কিন্তু জানেন কি কেন বিদায়ের আগে মায়ের সঙ্গে সিঁদুর খেলা হয়?

পুরাণ মতে, মহালয়া থেকে শুরু দেবীপক্ষ৷ বছরে একবার মাত্র দশ দিনের জন্য মা দুর্গা তার ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বাপেরবাড়ি আসে৷ এক বছর পর ঘরে ফিরে আসে উমা৷ মেয়ের ঘরে ফেরার আনন্দে জোরকদমে শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি৷ সেজে ওঠে উমার ঘর৷ মেয়েকে তার পচ্ছন্দের খাবার রেঁধে খাওয়ানো হয়৷

দশমী আসতেই উমাকে তার শ্বশুড়বাড়ি পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়৷ রীতি নীতি মেনে মেয়েকে শ্বশুড়বাড়ি পাঠানো হয়৷ সিঁদুর খেলা হল অন্যতম রীতি৷ বিদায়ের আগে সিঁদুর খেলা হয় কারণ, মা দুর্গাকে বাঙালীরা বিবাহিতা নারী হিসাবে মনে করে৷ হিন্দু রীতি অনুযায়ী সিঁথির সিঁদুর আসলে বিবাহিতা নারীর চিহ্ন৷ অনেকের বিশ্বাস, যথাযথ রীতি মনে সিঁদুর খেলা হলে অকালে কোন মহিলা বিধবা হবেন না৷

বিজয়া দশমীর দিন আগে মাকে বরণ করা হয়৷ পান পাতা, সন্দেশ ও সিঁদুর দিয়ে উমাকে বরণ করা হয়৷ মুখে পান পাতা ছুঁইয়ে, সন্দেশ খাইয়ে এবং সিঁদুর পড়িয়ে করা হয় বরণ৷ একপরই বিবাহিতা বাঙালী মহিলারা মেতে ওঠে সিঁদুর খেলায়৷ আগে শুধু বিবাহিতা মহিলাদেরই সিঁদুর খেলতে দেখা যেত৷ এখন অবশ্য অবিবাহিতারাও মেতে ওঠে সিঁদুর খেলায়৷

Advertisement
----
-----