কলকাতা: গভীর আশা জুগিয়েও কর্মী সমর্থকদের নিরাশ করেছে বাম-কংগ্রেস জোট। অনেকেই তৃণমূলের জয়কে দুর্নীতির জয় বলে মন্তব্য করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। মানুষ চোরদের পক্ষে রায় দিয়েছে বলেও অনেকে লিখেছেন নিজেদের ফেসবুক ওয়ালে। দেখে নেওয়া যাক কী কী কারণে মানুষ মুখ ফিরিয়েছে জোটের থেকে

১। ঘোঁট: তৃণমূল সুপ্রিমো যখন নিজের পরবর্তী মন্ত্রীসভা নিয়ে বৈঠক করছেন তখনও জোট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বাম-কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বাম কর্মীরা কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ভালোভাবে মেনে নেয়নি। একই দশা হাত শিবিরেও। এর সবথেকে বড় উদাহরণ হচ্ছে বর্ধমান জেলা। ওই জেলার সিপিএম নেতৃত্ব জোটের বিরোধী ছিল। পরে মত বদল হলেও তার প্রভাব ইভিএম মেশিনে পড়েছিল কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। ব্যাপক না হলেও এই প্রভাব কমবেশি গোটা রাজ্যজুড়েই পড়েছিল।

২। নোটা: ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে নিজের কেন্দ্রের কোনও প্রার্থীকেই পছন্দ করেননি ৮ লক্ষ ৩১ হাজার ৮৪৫ জন ভোটার৷ যা মোট ভোটের ১.৫ শতাংশ৷ যা শতাংশের হিসেবে বাম শরিক সিপিআইয়ের মোট প্রাপ্ত ভোট ১.৪ শতাংশের থেকেও বেশি৷ জাতীয় এবং রাজ্যের ইতিহাসে এটাই এখন রেকর্ড। সব থেকে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে রাজ্যের ২৩টি কেন্দ্রে জয়ী প্রার্থীর জয়ের ব্যবধানের থেকেও বেশি ভোট পড়েছে নোটায়৷ অনুমান করা হচ্ছে, মতাদর্শগতভাবে দুই ভিন্ন মেরুর দলের মধ্যে জোট মানুষ মেনে নিতে পারেননি৷ বাম ও কংগ্রেস দুই শিবিরের একটা বড় অংশের ভোটার এই সমঝোতা মেনে নেননি। তাঁরা অন্য কোনও দলের দিকে না ঝুঁকে নোটা-য় ভোট দিয়েছেন। যা জোটের পরাজয়ের অন্যতম বড় কারণ।

৩। শাসক ভীতি: প্রতি দফা ভোটের আগেই বিভিন্ন এলাকায় মানুষদের ভোট দিতে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কেউ কেউ সেই ভীতি উপেক্ষা করে বুথ মুখো হলেও, অনেকেই সেই সাহস দেখাতে পারেননি। সব ক্ষেত্রেই এই হুমকির শিকার হয়েছিলেন জোটের নেতারা। নেতাদের ভয়ে গৃহবন্দী হয়ে থাকতে দেখে কর্মীদের মনেও আর ভোট দিতে যাওয়ার সাহস হয়নি।

----
--