প্রবল ক্ষমতাবান হওয়া সত্ত্বেও কেন অভিমন্যুকে বাঁচাতে পারেননি শ্রীকৃষ্ণ?

টিভির পর্দায় বা সিনেমায় আমরা যারা মহাভারত দেখেছি তাদের কাছে অন্যতম দুঃখের একটি বিষয় অর্জুন ও সুভদ্রার পুত্র অভিমন্যুর মৃত্যু৷ অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে শ্রী কৃষ্ণ এত বলবান হওয়া সত্ত্বেও কেন অভিমন্যুকে সাহায্য করল না?  কেন তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে অর্জুনকে আগে থেকে কোনও আভাস দিলেন না শ্রী কৃষ্ণ?


আমরা জানি যে, ভগবান কৃষ্ণ ও অর্জুনের কাছ থেকে অস্ত্র শিক্ষা লাভ করছিলেন অভিমন্যু৷ কিন্তু জন্মের আগে মাতৃ গর্ভে থাকার সময় চক্রব্যূহে ঢোকার পদ্ধতি শুনে নিয়েছিলেন অভিমন্যু, জানতেন না বাইরে আসার পদ্ধতি৷ এর পেছনেও রয়েছে গল্প৷ অর্জুন যখন শুভদ্রাকে চক্রব্যূহে ঢোকার পদ্ধতি বলার পরেই অর্জুনকে থামিয়ে দিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ৷ বলতে দেননি বাইরে আসার পদ্ধতি৷ এরপরে যুদ্ধের তেরোতম দিনে চক্রব্যূহ তৈরির ফন্দি আঁটেন কৌরবদের অস্ত্র গুরু দ্রোণাচার্য৷ তিনি কৃষ্ণ ও অর্জুনকে ব্যস্ত রেখে চক্রব্যূহ বানিয়ে ফেলেন সেনাদের দিয়ে৷  মৃত্যু হয় অভিমন্যুর৷


কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ কী পারতেন না অভিমন্যুকে রক্ষা করতেন? আসল সত্যি হল- অভিমন্যু ছিল চন্দ্র দেবের ছেলের মনুষ্য অবতার৷ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সময় ভগবানদের অনুরোধে তাঁর ছেলেকে পৃথিবীতে মনুষ্য অবতারে জন্মানোর আদেশ দিয়েছিলেন চন্দ্র দেব৷ শর্ত ছিল একটাই- ষোলো বছর বয়সের পরে সে আ পৃথিবীতে থাকতে পারবে না৷ ফলে জন্মের আগে থেকেই মৃত্যুর সময় অবধারিত ছিল অভিমন্যুর৷ একমাত্র ত্রিকালদর্শী শ্রীকৃষ্ণ জানতেই এই সত্যি৷ সেই কারণেই তিনি অর্জুন ও শুভদ্রার কথা থামিয়ে দিয়েছিলেন৷

Advertisement ---
---
-----