শিব বাঘছাল পরে কেন তপস্যা করে জানেন?

বাঘছালের উপরে শিব ঠাকুরকে ধ্যানমগ্ন দৃশ্য খুবই পরিচিত৷ বাঘছাল পরেই বনে জঙ্গলেও ঘুরে বেরান শিব ঠাকুর৷ কিন্তু কেন এই বেশ সেটি হয়তো অনেকেরই অজানা৷

তেত্রিশ কোটি দেবতার একেক জনের একেক রকমের বেশ। তবে এর মধ্যে শিব ঠাকুরের পোশাক কিন্তু বেশ ‘ইউনিক’। বাঘছালকে পোশাক হিসেবে পরতে দেখা যায় একমাত্র তাঁকেই। মাথায় জটা, জটায় সাপ আর পরনে বাঘছালই অন্যান্যদের থেকে আলাদা করে দেয় শিব ঠাকুরকে। কথিত আছে, এই বাঘছালের জন্যই শিব ঠাকুরের মধ্যে এত শক্তি৷

পুরাণ অনুসারে, শিব ঠাকুর নগ্ন অবস্থায় বনে বাদারে ঘুরে বেরাতেন৷ কিন্তু তখনও তার এই শক্তিশালী রূপ প্রকাশ্যে আসেনি৷ একদিন শিব ঠাকুর ঘুরতে ঘুরতে একটি বনে গিয়ে উপস্থিত হন৷ সেই বনে অন্যান্য ঋষিরাও উপস্থিত ছিলেন৷ তারা তাদের স্ত্রীদের নিয়ে নিশ্চিন্তে সেখানে তপস্যা করে দিন কাটাতেন৷ সেই বনেই নিজের মতন বিচরণ করতেন দেবাদিদেব মহাদেব৷ কিন্তু আচমকাই একদিন এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে পরেন বনের অন্যান্য ঋষিরা৷ তাদের বউরা শিবকে দেখে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে বলে মনে করেন ঋষিরা৷ সেই কারণে তারা একটি পরিকল্পনা করেন৷ শিবকে ফাঁদে ফেলার জন্য৷

- Advertisement -

বনের মধ্যেই তারা একটি জায়গায় লম্বা গর্ত করে রাখেন৷ আর শিব ঠাকুরকে শায়েস্তা করতে সেই গর্তের ভিতরে একটি বাঘকেও রেখে দেন তারা৷ স্বভাবতই বনে বিচরণ করতে করতে সেই গর্তে বাঘের সামনে পরে যান শিব৷ কিন্তু শিব ঠাকুর তার ক্ষমতা দিয়ে অনায়াসেই সেই বাঘটিকে হত্যা করেন৷ আর সেই সঙ্গে বাঘের চামড়া নিজের গায়ে জড়িয়ে নেন৷

এই ঘটনার পরই হতবাক হয়ে পরেন বনের সাধুরা৷ তারা বুঝতে পারেন ওই শিব ঠাকুর সাধারণ কোনও মুনি ঋষি নন৷ তার রয়েছে অসামান্য ক্ষমতা৷ ভগবান ছাড়া উনি কেউ নন৷ মুনি ঋষিরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে শিব ঠাকুরের পায়ে আছড়ে পরে ক্ষমা চেয়ে নেন৷ এরপর থেকেই শিব ঠাকুর বাঘছাল পরে থাকতেন৷ তবে, সেটি শুধু পোশাকের জন্যই নয়৷ নিজের ক্ষমতা বোঝাতে এই পোশাকটি ব্যবহার করতেন তিনি৷