জল চেয়েছিল বাঘিনী তারপর…!

জল খেতে এসেছে বাঘিনী

নাগপুর: চড়তে থাকা পারদ ও ঝলসে দেওয়া গরমের কারণে মহারাষ্ট্র হাঁসফাঁস করেছে৷ রাজ্যের বিভিন্ন বনাঞ্চলের পরিস্থিতিও চরমে উঠেছে৷  প্রশ্ন উঠেছে, পশুদের জন্য বনবিভাগ পর্যাপ্ত পদক্ষেপ কি নিয়েছে ?  একটি ছবি অনেক কথা বলে দিয়েছে৷
তখনও সন্ধে নামেনি৷  নাগপুর থেকে ৪৬ কিলোমিটার দূরে  অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী ছিলেন পশুপ্রেমী প্রোজ্জ্বল জোসেফ৷ একটি গ্রামের কাছে গাড়ি দাঁড় করিয়েছিলেন৷ ৷ সেইসময় তিনি দেখলেন, এক বাঘিনী তৃষ্ণায় কাতর হয়ে একটা কুয়োর পাশে থাকা টিউবওয়েলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছে৷ কিছুক্ষণ সেখানেই ঘুরঘুর করে বসে পড়ে৷ তেষ্টা মেটাতে এরপর সেই বাঘিনী কুয়োর  সিমেন্টের চাতাল চাটতে শুরু করেছিল৷ প্রচণ্ড গরমে সেটা উনুনের মত তেতে থাকায় ঠিকমত চাটতেও পারছিলনা৷  টিউবওয়েলের পাশে বসে রাস্তার দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল বাঘিনীটা৷ জোসেফ বলেছেন,  ‘মনে হচ্ছিল বাঘিনীটা বলছে, আমায় একটু জল দাও৷ ভয়ে তার কাছে যেতে পারিtiger-water-3নি৷’  ৪২ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গরমে বুক শুকিয়ে যাওয়া বাঘিনীর কী অবস্থা হতে পারে, মোবাইলে তোলা ছবি তারই প্রমাণ৷ জোসেফ জানিয়েছেন, ‘ওর কাতর দৃষ্টিতে আমি খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম৷’
সেদিন জল না দিয়েই চলে গিয়েছিলেন যোসেফ৷ রাতভর বাঘিনীর কাতর দৃষ্টি তাঁকে তাড়া করেছিল৷  পরেরদিন খুড়তুতো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে আবার সেইস্থান পৌঁছে যান প্রোজ্জ্বল যোসেফ৷ সঙ্গে ছিল কিছু জলভর্তি জ্যারিকেন৷  তাই নিয়ে টিউবওয়েল জল ঢেলে সেটি চালুর চেষ্টা করেন৷ পরে নিয়ে আসেন হ্যান্ডপাম্প৷ সেটা চালিয়ে ফের জলভর্তি করা হয় টিউবওয়েলের কাছে থাকা কুয়ো৷  ঘন্টাখানেক পর তারা দুজনে ফিরে এসে দেখেন  অনেক নীলগাই,বাঁদর, বুলবুল, কাঠবেড়ালি, ময়ূর ও বিভিন্ন রকমের পাখিরা সেখানে এসেছে৷ তারা জল খাচ্ছে৷  কুয়োর কাছে তৈরি হয়েছে জীবনের ছবি৷
পশুপ্রেমী জোসেফের  অভিযোগ, টিউবওয়েলটি তৈরি করেছে বনবিভাগ৷ তারা যদি কল তৈরি করল তবে তাতে জলের ব্যবস্থা কেন করল না ?
এখন প্রতিদিন জোসেফ ও তাঁর ভাই একঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ওই কুয়ো ও টিউবওয়েলের কাছে যান৷  হ্যান্ডপাম্প চালিয়ে কুয়োটা জলে ভর্তি করে দেন৷ কাছেই বন থাকায় অনেক জীব জন্তু সেখানে জল খেতে আসে৷ জোসেফ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে অনুরোধ করেছেন তারা যেন দিনে দুবার সেই হ্যান্ডপাম্প চালিয়ে দেন৷ গ্রামবাসীও কথা দিয়েছেন৷ তবে তাঁদের অভিযোগ, এই কুয়ো ও হ্যান্ডপাম্প বসিয়েছিল বনবিভাগ৷ পরে তা চুরি হয়ে যায়৷  সেই থেকে অকেজো হয়ে পড়েছিল কুয়োটা৷ এতে স্থানীয় বন্যপ্রাণীরা অসুবিধায় পড়েছিল৷

tiger-water-1
নতুন করে কুয়ো জলে ভর্তি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছ বনের গভীর থেকে গভীরে৷ দলবেঁধে পশুরা আসছে জল খেতে৷  বিষয়টি নজরে এসেছে মহারাষ্ট্র বনদফতরের৷  নিজেদের ট্রাক্টরে করে কুয়োটার কাছে জল পৌঁছে দেওয়া হবে৷ এমনই জানানো হয়েছে৷
আর সেই বাঘিনীটা, যে জলের জন্য করুণ দৃষ্টিতে চেয়েছিল৷ সে কি এসেছিল জল খেতে ? জোসেফ জানেন না৷
হয়তো রাতের দিকে ও এসে জল খেয়ে যাচ্ছে৷

- Advertisement -

—————————

Advertisement ---
-----