ফাইল ছবি

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: শুক্রবার কোচবিহারের রেল ময়দানে রথযাত্রাকে ঘিরে জনসভা হচ্ছেই৷ আদালতের রায়ে জনসভা আটকানোর কোনও কথা বলা নেই৷ তবে ওই জনসভায় অমিত শাহ আসবেন কিনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে৷ সে সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার রাতেই নেবে করবে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব ৷

তবে, একথা ঠিক যে, রথযাত্রা শুরু করা যাচ্ছে না ঠিক সময়ে৷ আদালতের রায়ে বিজেপির রথযাত্রা (গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা) শুরু করতে এখনও নয়-নয় করে একমাস লাগবে৷ কারণ, রায় অনুযায়ী জানুয়ারির ৯ তারিখ পর্যন্ত রাজ্য বিজেপি কোনও যাত্রাই করতে পারবে না৷ এই সবকিছুর পিছনে রাজ্যের ‘পিসি-ভাইপোর’হাত দেখছেন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়৷ বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের রায় জানার পর রাজ্য বিজেপির এক সময়ের এই পর্যবেক্ষকের দাবি, ‘‘সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র৷ ওই ষড়যন্ত্র করেছেন মমতা এবং তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷’’

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ফাইল ছবি)

বিজেপির রথযাত্রাকে ইদানিং ‘রাবণ যাত্রা’বলে কটাক্ষ করেছেন মমতা৷ বারবার বলছেন, ওটা ধর্মের সুরসুরি দিয়ে ভোট তোলার চেষ্টা৷ ওই রথ যেখান দিয়ে যাবে, রাস্তা পরিসুদ্ধ করে দিতে হবে৷ করতে হবে পবিত্র যাত্রা৷ তবে, রথযাত্রা প্রশাসন আটকে দেবে, এমন হুশিয়ারি তিনি দেননি৷ বরং বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কিংবা মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় বারবার বলেছেন, যে রথের পথে আসবেন চাকা তাকে পিষে দেবে৷

পড়ুন: রথযাত্রা নিয়ে হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানাল প্রদেশ কংগ্রেস

অসমের গণহত্যায় বিজেপিকে দায়ী করে আসন্ন রথযাত্রাকেই পালটা হুমকি দিয়ে বসলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কলকাতায় অসমের ঘটনার প্রতিবাদ সভায় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতির মুখে হুমকির সুর শোনা গিয়েছিল৷ তিনি বলেছেন, দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) অনুমতি দিলে রথের ‘র’-ও থাকবে না, দড়ি বা চাকা কিছুই থাকবে না৷ অভিষেকের হুমকির মুখে পালটা চ্যালেঞ্জ বিজেপির – ‘‘পিসি-ভাইপোকেই রথ টানতে হবে৷ রাজ্যে এই পরিস্থিতিই আমরা (বিজেপি) তৈরি করব৷’’হয়তো সেই কারণেই আদালত বৃহস্পতিবার প্রশ্ন তুলেছে, রথ যাত্রা নিয়ে রাজ্য সরকার এবং বিজেপির মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে কোনো সাধারণ মানুষের মৃত্যু হলে কে দায় নেবে?

ফাইল ছবি

তবে প্রশ্ন উঠেছে মামলা করতে অত দেরি করল কেন বিজেপি? বিজেপির অন্দরেই অনেকে এই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন৷ রথ যাত্রার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল প্রায় তিন মাস আগে থেকেই৷ এর মধ্যেই তিন বার রথযাত্রার দিন পরিবর্তন করতে হয়েছে বিজেপিকে৷ পাঁচ রাজ্যে ভোটের জন্য সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের সময় পাওয়া যায়নি৷ তার ওপর হোম সেক্রেটারি সহ রাজ্যের উচ্চ পদস্থ অফিসাররা বিজেপি নেতাদের সঙগ্গে চূড়ান্ত অসহযোগীতা করতে থাকেন৷ হোম সেক্রেটারি সময় দেননি৷ পুলিশকর্তারা ফোন তোলা বন্ধ করে দেন৷

পড়ুন: অনুব্রত মন্ডলের পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বীরভূম

কিন্তু এইসব কিছুর পরেও রাজ্য সরকারকে আলোচনার চেবিলে বসাতে মরিয়া ছিল রাজ্য বিজেপি৷ রাজ্য বিজেপির তরফে যে নেতারা রথযাত্রার পরিকল্পনার দায়িত্বে আছেন, তারা কেন্দ্র পার্টির নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত আদালতে যেতে চাননি৷ কিন্তু রাজ্যকে কোনও ভাবেই আলোচনার টেবিলে না বসাতে পেরে শেষে ডিসেম্বরের ৩ তারিখ আদালতে মামলা করে বিজেপি৷

--
----
--