রাজ্যের ৪২টি আসনেই প্রার্থী দেবে ফরওয়ার্ড ব্লক?

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: আগামী লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে বামফ্রন্টের আসন সমঝোতা হলে তা মানবে না ফরওয়ার্ড ব্লক৷ একাই লড়বে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনে৷ বামফ্রন্ট দলগুলির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সিপিএমকে একথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ব্লক৷

অন্যদিকে, সিপিআই ও আরএসপি-এর মতামত কিছুটা ভিন্ন৷ সিপিআই মনে করেছে, বামফ্রন্টের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হলে তা আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই হতে হবে৷ আসন সমঝোতা কীভাবে হবে, তা ঠিক হতে হবে আলোচনার মাধ্যমেই৷

তবে বাম ঐক্য ভাঙার পক্ষে নয় বামফ্রন্টের কোনও দলই৷ ফ্রন্টের দলগুলির বক্তব্য, বাম রাজনীতির এই খারাপ সময়ে সংঘবদ্ধ থাকাটাই জরুরি৷ আসন সমঝোতায় না থাকলেও, ফরওয়ার্ড ব্লক জানিয়েছে, কমরেড অশোক ঘোষ বামফ্রন্টের অন্যতম প্রতিষ্টাতা৷ সিপিএমের সঙ্গে মতের মিল না হলেও বামফ্রন্ট ছাড়ার কোনও কারণ নেই৷

- Advertisement -

পড়ুন: হুমায়ুনকে গেরুয়া শিবিরে পাঠিয়ে নিজের জন্য ইট পাতলেন অধীর: শুভেন্দু

চার দশকের বামফ্রন্টে মতপার্থক্য নতুন বিষয় নয়৷ মতপার্থক্যের চোরা স্রোত জ্যোতি বসু, অশোক ঘোষ, অনিল বিশ্বাস, বিমান বসুর কাছে এসেই ধাক্কা খেয়েছে বারবার৷ জ্যোতি, অশোক, অনিল নেই৷ বিমান বসুও বয়সকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন নিয়মিত৷ বাম ঐক্য ধরে রাখতেও রীতিমতো হিমশিম রাজ্যের নেতারা৷

এরমধ্যেই কিছুদিন আগেই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের প্রশ্নে তুমুল বিতর্কে জড়িয়েছে বামদলগুলি৷ বামফ্রন্টে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার নজির এর আগে একাধিক রয়েছে৷ শেষ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছিল ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে৷ উল্লেখযোগ্য ভাবে বলা যেতে পারে, সেই সময়ও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ছিল আলোচনার মূল বিষয়৷ তবে প্রধান চার পার্টি বাদ দিয়ে বাকি ছোট বামদলগুলি সাধারণত এই আলোচনায় অংশ নেয় না৷

কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের প্রশ্নে ফরওয়ার্ড ব্লক এবং সিপিআই কার্যত বামফ্রন্টকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে৷ ফরওয়ার্ড ব্লক পরিষ্কার জানিয়েছে, ২০১৯ নির্বাচনে যদি বামফ্রন্ট, কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা চায়, তবে তাতে থাকবে না ফরওয়ার্ড ব্লক৷ সেই ক্ষেত্রে, রাজ্যের প্রতিটি কেন্দ্রেই তাহলে আলাদাভাবে প্রার্থী দেবে ব্লক৷ ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বামফ্রন্টের মধ্যেই থাকব৷ কারণ বামফ্রন্টটা আমাদের সকলের৷ ব্লক নেতৃত্ব কোনও ভাবেই ফ্রন্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসার কথা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জানায়নি৷ কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে আসন ভাগাভাগিতে আমরা নেই৷ যদি তাই হয়, তবে আমরা একাই লড়ব৷’’

পড়ুন: সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলের পথে প্রাক্তন সাংসদ

সিপিআই-এর রাজ্য সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ‘‘বামফ্রন্টের সঙ্গে কংগ্রেসের আসন রফা হতেই পারে৷ কিন্তু তা কী রকম হবে, আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে৷ কিন্তু যাই হোক, কোনও মতেই আমরা বাম ঐক্য ভাঙার পক্ষে নই৷’’ আরএসপি-এর রাজ্য সম্পাদক ক্ষিতি গোস্বামী এই দূর্দিনে বাম ঐক্য ঘরে রাখার পক্ষে৷ তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমরা চাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই যা হবার হোক৷’’

তবে আক্রমণ যে মূলত সিপিএমের দিকেই আসতে চলেছে, তার আঁচ আগে থেকেই পেয়েছেন সিপিএম নেতারা৷ আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের মুজাফ্ফর আহমেদ ভবনের বাসিন্দারা সেই কারণে আগে থেকেই মন্তব্যে নারাজ৷ রাজ্যে সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র প্রশ্ন শুনতেই চাননি৷ সূর্যবাবুর একমাত্র উত্তর,‘‘আমি ফোনে কিছু বলি না …৷’’

তবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যে প্রশ্নটা বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে তা হল, কংগ্রেসের সঙ্গে আসম সমঝোতা করে বামদলগুলির কী লাভ হয়েছে৷ কংগ্রেসের ভোট বাদ দলগুলির দিকে আসেনি৷ তা চলে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে৷ নিশ্চিত বামফ্রন্টের ভোটও কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে৷ ধ্বসে গিয়েছে বাম দলগুলির ভোট ব্যাংক৷

যে পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে আলোচনা হয়েছে তা এসেছে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে৷ ওই নির্বাচনে সিপিএম ১৯.৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল৷ সিপিএই ১.৫ শতাংশ, আরএসপি ১.৭ শতাংশ এবং ফরওয়ার্ড ব্লক ২.৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল৷ এক সিনিয়ার বামফ্রন্ট নেতার বক্তব্য, ‘‘মহেশতলা উপনির্বাচন দেখলেন তো! যদি কংগ্রেসের ভোট সিপিএম পেত, তবে পার্টি তৃতীয় স্থানে বসে থাকতো না৷ এটা লজ্জার বিষয়৷’’

২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কং জোট ৭৬টি আসন পেয়েছিল৷ বামফ্রন্টের ঘরে এসেছিল ৩২টি, যেখানে কংগ্রেস জিতেছিল ৪৪টি আসন৷ বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হন আব্দুল মান্নান৷

Advertisement
---