ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মহানগরের রাস্তায় ছুটল একাধিক গাড়ির বিশাল কনভয়৷ সামনে দু’টি পাইলট কার৷ পিছনে আবার কমান্ডোদের গাড়ি৷ তার পিছনে ছুটছে বুলেট প্রুফ কার৷ সব মিলিয়ে ১০-১২টি গাড়ির কনভয়৷ যেন মনে হবে কোনও ভিভিআইপি ব্যক্তি যাচ্ছেন৷

ভিভিআইপি তো বটে! তবে আক্ষরিক অর্থে ভিভিআইপি বলতে যা বোঝায় তা নয়৷ যাকে কনভয়ে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তিনি ভিভিআইপি বন্দি৷ আমেরিকান সেন্টারে হামলার প্রধান ষড়যন্ত্রকারী এবং খাদিম কর্তা অপহরণে যাবজীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী আফতাব আনসারি৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৬ই জানুয়ারি আলিপুর জেলের ১ নম্বর সেলে থাকাকালীন হৃদরোগে আক্রান্ত হন আনসারি৷ জেলের ডাক্তারদের পরামর্শে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ এদিন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি৷ হাসপাতাল থেকে জেলে নিয়ে যাওয়ার জন্যই এত নিরাপত্তার আয়োজন করা হয়৷

এদিন কমান্ডো প্রহরায় আফতাবকে আলিপুর জেলে নিয়ে যাওয়া হয়৷ রীতিমতো ভিভিআইপিদের মতো বিশাল কনভয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল তাঁর জন্য৷ ছিল পাইলট কার, বুলেটপ্রুফ গাড়ি, প্রিজন ভ্যান৷ এই প্রিজন ভ্যানে করে তাঁকে জেলের সেই ১ নম্বর কুঠুরিতে নিয়ে আসা হয়৷ গোটা যাত্রাপথে ছিল কমান্ডো প্রহরা৷ স্বাভাবিকভাবে আফতাবের মতো আসামীকে নিরাপদে জেলে নিয়ে আসা নিয়ে প্রবল টেনশনে ছিল জেল কর্তৃপক্ষ৷ শেষমেশ নিরাপদে তাঁকে জেলে নিয়ে আসায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন তাঁরা৷

হাসপাতালে থাকাকালীনও নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা ছিল৷ হাসপাতালের রুমের বাইরে রীতিমতো অস্থায়ী বাঙ্কার করা হয়েছিল৷ দু’জন ডাক্তার ও নার্স ছাড়া আর কাউকে আফতাবের ঘরে প্রবেশের অনুমতি ছিল না৷ হাসপাতাল সূত্রে খবর, আফতাবকে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্ট করার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা৷ কিন্তু তাতে রাজি হননি আফতাব৷ ডাক্তারদের অনুমান বয়সজনিত কারণে (বয়স ৪৫) সম্ভবত তিনি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্ট করার ঝুঁকি নিতে চাননি৷

প্রায় এক সপ্তাহ মতো এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আফতাব৷ এদিন ডাক্তারদের পরামর্শে তাকে জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়৷ হাসপাতাল থেকে বেরনোর সময় আফতাবের পরনে ছিল মাঙ্কি টুপি, লাল সোয়েটার এবং ট্রাউজার৷ প্রিজন ভ্যানে করে তাঁকে আলিপুরের এক নম্বর কুঠুরিতে রাখা হয়৷ এই কুঠুরিতেই সর্বক্ষণ কারারক্ষীদের নজরদারিতে থাকেন আফতাব৷ কুঠুরির ভিতর সিসিটিভিও রয়েছে৷

এদিকে গোটা বিষয়টি নিয়ে আলিপুর সংশোধনাগারের এক আধিকারিক জানান, গত ৬ই জানুয়ারি বুকে ব্যথা অনুভব করায় জেলের ডাক্তারদের পরামর্শে আফতাবকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানকার ডাক্তাররা সব দেখে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্ট করার কথাও বলেন৷ কিন্তু আফতাব তাতে রাজি হয়নি৷ এদিকে চিকিৎসার পর ডাক্তাররা তাকে জেলে নিয়ে যাওয়ার সবুজ সঙ্কেত দেয়৷ তাই এদিনই আফতাবকে জেলে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়৷’’

---