সমস্যা কাঁধে নিয়ে এগিয়ে চলেছে ‘রয়্যাল’ ক্যালকুটা পোলো ক্লাব

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: শুধুমাত্র ভারতের রাজপরিবারেই জনপ্রিয় ছিল এই খেলা। ঐতিহ্যবাহী সেই খেলাকে নিয়ে ইংরেজ বণিকের দল ক্লাব তৈরি করেছিল এই মহানগরে। ‘ক্যালকুটা পোলো ক্লাব’ । কিন্তু সেই ঐতিহ্যবাহী পোলো ক্লাব আজ স্থানচ্যুত। উড়ালপুলের নীচে তুলনামূলক ছোট স্থানে সেই ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ক্লাবের বর্তমান কর্মকর্তারা।

পোলো ক্লাবের বর্তমানে স্থান পেয়েছে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর খিদিরপুর কানেক্টর উড়ালপুলের তলায়। সেখানেই প্রায় দেড়শো ছাত্র ছাত্রীকে নিয়ে চলছে পোলো খেলোয়াড় তৈরির প্রশিক্ষণ। ক্লাবের সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরানো জায়গাটি জায়গাটি সেনা অধিগ্রহন করেছে। তাদের জায়গা দেওয়া হয়েছে ব্রিজের তলায়। শহরের ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতিষ্ঠানকে খুঁজে পাওয়াই সমস্যা। স্থানীয়রা ছাড়া অনেকেই জানেন পোলো ক্লাব রয়েছে এখনও রেসের মাঠেই। ঐতিহ্যের চাদরকে গায়ে জড়িয়ে এগিয়ে চলেছে প্রায় ১৫৭ বছরের পুরনো এই ক্লাব।

- Advertisement DFP -

আসঘর খান গত পাঁচ বছর ধরে কলকাতার ক্ষুদেদের পোলো খেলা শেখাচ্ছেন। তিনি বলেন, “এখনও আমাদের ক্লাবের পরিস্থিতি যথেষ্ট ভালো। স্থান পরিবর্তন হলেও ঐতিহ্যে বাধা পড়েনি। এখনও প্রতিদিন প্রায় দু’হাজার জন পোলো খেলা শিখছেন এই ক্লাবে।” এক সময় ভারতীয় সেনার হয়ে সীমান্তে লড়েছেন। অবসরের পর এখন পোলো শিক্ষক। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলেছেন পোলো প্রশিক্ষক। তিনি বলেন, “গরমের সময়ে ভোর পাঁচটা থেকে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। বিকালে ৪টে থেকে শুরু হয় প্রশিক্ষণ।”

নতুন শিক্ষানবিশদের হাতে পিঠে গড়েন আসঘর খান। প্রথমে ঘোড়ায় চড়া শেখানো হয়। ঘোড়াকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার পদ্ধতি শেখানো হয়। তারপরে হাতে ওঠে আসল স্টিক। তবে এরপরে কাঠের ঘোড়ায় বসিয়ে পোলোর কাঠের বল মারা অভ্যাস করেন। কোচ বলেন, “প্রথমে ঘোড়ায় বসিয়ে দিয়ে বল মারতে দিলে স্টিক ঘোড়ার পায়ে মেরে দিতে পারে শিক্ষানবিশরা। এতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। তাই এই ব্যবস্থা।” এরপর ভালো খেলতে শুরু করলে ক্লাব ওই খেলোয়াড়কে পাঠিয়ে দেয় কলকাতা থেকে বজবজের বড় পোলো ময়দানে।

একসময় রাজাদের খেলা ছিল পোলো। কিন্তু এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। আসঘর খান বলেন, “পোলো শরীর গঠনে সাহায্য করে। মনের জোড় বৃদ্ধি করে।”

তবে খরচের পরিমাণও যথেষ্ট। একজন পোলো খেলোয়াড়ের জন্য চারটি ঘোড়া লাগে। একটি ঘোড়ার জন্য খরচ ৩০ হাজার টাকা। পাশাপাশি দুধ, ডিম , ফল বেশী করে খেতে হয়। কারন শারীরিক গঠনে এই ধরনের খাবার সাহায্য করে। ফাস্ট ফুড খাওয়া নিষেধ। কারন চেহারা ভারী হলে ঘোড়ায় চড়তে সমস্যা হয়। ঘোড়াকেও স্বাস্থ্যবান বানাতে ভিটামিনের সঙ্গে বেশী করে গাজর, যবের মতো খাবার বেশী পরিমানে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঘোড়াকে বালি স্নান করানো হয়। তারপরে ম্যাসেজ করা হয়। তবেই সে ঘোড়া লম্বা ‘রেসের’ জন্য প্রস্তুত হয়।

জায়গার অভাব তবু সমস্যার আঁচ পড়েনি ঐতিহ্যের পোলো ক্লাবে। খরচ অনেক বেশী , তবুও আগামী প্রজন্ম এগিয়ে আসছে এই খেলা শিখতে। ১৫৭ বছরে ক্যালকুটা কলকাতা হয়েছে। কিন্তু পোলো ক্লাবের সাবেকিয়ানা, রাজকীয় ঘরানা, ঐতিহ্য এখনও অটুট।

Advertisement
----
-----