শাসকের দুই চিঠির ‘চাপে’ ঘোষণা প্রত্যাহার কমিশনের

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দুই চিঠি৷ আর, এই দুই চিঠির জেরেই ‘ভোলবদলে’র পরেও পিছু হটল রাজ্য নির্বাচন কমিশন! একই সঙ্গে অভিযোগ, সরকার এবং শাসকদলের ‘চাপে’র কাছে নতিস্বীকার করেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার অমরেন্দ্রকুমার সিং৷ যে কারণে, মনোনয়নপত্র পেশের জন্য অতিরিক্ত দিনের ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে৷

ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা বেড়ে চলেছে৷ এই ধরনের পরিস্থিতির জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক-উদ্বেগও বেড়ে চলেছে৷ এ দিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের ‘সন্ত্রাসে’র কারণে মনোনয়নপত্র পেশ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তরফে দফায় দফায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছে৷ রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর কাছেও দফায় দফায় অভিযোগ জানিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি৷

এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে বিজেপির দায়ের মামলায় সোমবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে সুষ্টুভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে৷ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার রাতে মনোনয়নপত্র পেশের সময় একদিন অর্থাৎ, ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন৷ স্বাভাবিক কারণেই, রাজ্য নির্বাচন কমিশমনের এই ‘ভোলবদলে’র জেরে খুশির হাওয়া বইতে থাকে বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে৷

- Advertisement -

কিন্তু, মনোনয়নপত্র পেশের সময় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার সকালে প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা জানিয়ে দেয় রাজ্য নির্বাচন কমিশন৷ যার জেরে, বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তোপের সম্মুখীন এখন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার৷ এ দিকে, এই ঘোষণার বিরুদ্ধে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি৷ তার ফলে, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ওই ঘোষণার উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে আদালত৷ কিন্তু, সোমবার রাতে ‘ভোলবদলে’র পরে মঙ্গলবার সকালেই কেন পিছু হটল রাজ্য নির্বাচন কমিশন?

সূত্রের খবর, সোমবার রাতে ওই ঘোষণার পরে রাজ্য নির্বাচন কমিশনে মেল করেন তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ওই ঘোষণার পরে সোমবার রাতেই রাজ্য সরকারের তরফেও একটি মেল করা হয় রাজ্য নির্বাচন কমিশনে৷ সূত্রের খবর, নির্বাচন সুষ্টুভাবে সম্পন্ন করার কথা বলেছে সুপ্রিম কোর্ট৷ মনোনয়নপত্র পেশের সময় বৃদ্ধির কথা বলা হয়নি সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশে৷ এমনই বিষয় উল্লেখ করে ওই চিঠিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে ঘোষণা প্রত্যাহারের আর্জি জানান৷ কার্যত এই একই বিষয় রাজ্য সরকারের তরফে পাঠানো ওই চিঠিতে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

অভিযোগ, মনোনয়নপত্র পেশের সময় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত যাতে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, তার জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে বলেন কয়েকজন মন্ত্রী৷ ওই দুই চিঠি এবং মন্ত্রীদের এই ‘চাপে’র কাছে নতিস্বীকার করে মঙ্গলবার সকালে প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন৷ এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব শান্তনু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়৷ তবে, তিনি ফোন না ধরায় ওই অভিযোগের বিষয়ে রাজ্য নির্বাচনের কমিশনের কোনও বক্তব্য মেলেনি৷ ওই মেল এবং সরকার ও শাসকদলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলছেন বিরোধীরা, সেই বিষয়ে জানার জন্য সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়৷ তবে, বহুবার ফোন কল করা হলেও তিনি ধরেননি৷

এই বিষয়ে রাজ্য বিধানসভায় বাম পরিষদীয় দলের নেতা সুজন চক্রবর্তীর অভিযোগ, ‘‘তৃণমূল কংগ্রেসের চাপে মনোনয়নপত্র পেশের সময় বৃদ্ধির ঘোষণা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার৷’’ এবং, কংগ্রেসের আইনজীবী নেতা অরুণাভ ঘোষের অভিযোগ, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ঘোষণা প্রত্যাহার করেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার৷’’ এ দিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসের সামনে ঝাঁটা নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় রাজ্য বিজেপির মহিলা মোর্চা৷ নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মনোনয়নপত্র পেশের সময় বাড়ানোর ঘোষণা প্রত্যাহার করেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার৷’’ যুব কংগ্রেসও এ দিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসের সামনে বিক্ষোভে শামিল হয়৷

Advertisement
-----