স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের পরে এবার দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার৷ মঙ্গলবার জেলখানার ভিতরে বন্ধুকে দিয়ে হেরোইন পাচার করার সময় হাতে নাতে ধরা পড়ে ২১ বছরের এক তরুণী৷ মধ্যমগ্রামের আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সে, তার নাম সুস্মিতা মালাকার৷ বাড়ি উত্তর ২৪ পরগণার দত্তপুকুরে৷

কয়েক বছর আগে মাদক পাচার সহ একাধিক অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলে যায় ভগীরথ সরকার৷ এই ভগীরথের বাড়ি বারাসাতের দেগঙ্গায়৷ দীর্ঘদিন জেলে বিচারাধীন বন্দি সে৷
ভগীরথের সঙ্গে দেখা করতেই মঙ্গলবার জেলে যায় সুস্মিতা বলে অভিযোগ৷ এরপর সেখানে একটি পাউডারের বোতল ও ২টি তেলের শিশি নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে তুলে দেয় সুস্মিতা৷ নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে অনুরোধ করে, যেন এই সব জিনিস তার বন্ধু ভগীরথের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়৷

- Advertisement -

কিন্তু নিরাপত্তাকর্মীদের সন্দেহ হওয়ায় বোতলটি খুলে দেখেন তাঁরা৷ সেখান থেকে উদ্ধার হয় হেরোইন৷ সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় দমদম থানাকে৷ পুলিশ ওই তরুণীকে গ্রেফতার করে৷

ধৃত সুস্মিতাকে বুধবার দুপুরে দমদম থানার পুলিশের পক্ষ থেকে বারাকপুর মহকুমা আদালতের বিচারক এন থাপার এজলাসে তোলা হয়। বিচারক ওই কলেজ ছাত্রীর জামিন মঞ্জুর করেন। ভারতীয় সংবিধানের আইন অনুসারে নিষিদ্ধ মাদক ৫০০ গ্রামের কম কোনও পড়ুয়ার কাছ থেকে উদ্ধার হলে তা মাদক পাচার আইনে জামিনযোগ্য বলে গন্য হবে। সেই কারনেই এপিসি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের কলেজ ছাত্রী সুস্মিতা মালাকারের জামিন মঞ্জুর করেন বারাকপুর মহকুমা আদালতের বিচারক৷

বারাকপুর আদালতের আইনজীবী জয় সাহা বলেন, মাদক পাচার অপরাধ হলেও যেহেতু কম পরিমানে গাঁজা উদ্ধার হয়েছে ওই কলেজ ছাত্রীর কাছ থেকে, সেই কারনে বিচারক অভিযুক্ত ওই কলেজ ছাত্রীর জামিন মঞ্জুর করেছে৷

তবে পুলিশ সূত্রে খবর ওই কলেজ ছাত্রীর বিরুদ্ধে একটি খুনের মামলা সহ মোট ৮ আটটি মামলা রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পুলিশের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন থানায় ।

দমদম থানার পুলিশ জানিয়েছে ভগীরথ সরকারের নির্দেশে নানা অপরাধমূলক কাজ করত ওই তরুণী৷ যেমন তোলাবাজি, ডাকাতি, খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ওই তরুণী৷ কয়েক বছর আগে ভগীরথের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে আলাপ হয় তরুণীর৷ তারপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ করত দুজনে৷ শুরু হয় যৌথ ভাবে অপরাধ করা৷

উত্তর ২৪ পরগনার দত্ত পুকুরের সুস্মিতা নিজের পাড়ায় ভালো মেয়ে বলেই পরিচিত, ওর গ্রেফতারি মানতে পারছেন না কেউই৷ ওর আত্মীয়দের বক্তব্য, ছোট বেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী সে। এপিসি কলেজে সংষ্কৃত অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী৷ নিজের পাড়াতে বেশ সুনাম রয়েছে সুস্মিতার। তাই এই ঘটনায় হতবাক সকলে৷

----