রক্তের রিপোর্টে ডেঙ্গু, মৃত্যুর শংসাপত্রে লেখা হল সেপসিস

স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভরতি হয়েছিলেন ৫০ বছর বয়সী কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়। রক্ত পরীক্ষার পর জানা গেল তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। চার দিনের লড়াইতে একাধিক হাসপাতাল ঘুরে হার মানে তাঁর শরীর। কিন্তু মৃত্যুর শংসাপত্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে লেখা হল সেপসিস।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার শ্যামনগরের বাসিন্দা ছিলেন কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়। তাঁর পরিবারের সূত্রে জানানো হয়েছে যে গত বুধবার বিকেলে তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে বৃহস্পতিবার তাঁকে বারাকপুর বিএন বসু হাসপাতালে ভরতি করা হয়।

শুক্রবার সকালে হাতে আসে রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট। জানা যায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়। ওই দিন রাতের দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। ফের পরীক্ষার পরে জানা যায় যে তিনি মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে রেফার করে বিএন বসু হাসপাতাল।

- Advertisement -

শুক্রবার রাতের উদ্বগজনক অবস্থায় কৃষ্ণা দেবীকে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভরতি করা হয়। শনিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। বিকেলের দিকে থেমে যায় কৃষ্ণা দেবীর লড়াই। পরলোকে গমন করেন তিনি। ওই হাসপাতাল থেকে কৃষ্ণা দেবীর মৃত্যু সম্পর্কিত যে শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে সেখানে তাঁর মৃত্যুর জন্য সেপসিস নামক রোগের উল্লেখ করা হয়েছে।

কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর শংসাপত্র

সেপসিস একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। এই রোগের কারণে কিডনি বা ফুসফুসে রক্তচাপ কমে যায়। রক্তচাপ কমে গিয়ে জ্বরও হতে পারে। রোগ প্রতিষেধক ক্ষমতা না থাকলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

রক্তের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে ডেঙ্গুর

যদিও সেপসিসের তত্ত্ব মানতে নারাজ তাঁর পরিজনেরা। কৃষ্ণা দেবীর বোন শিপ্রা আদক বলেছেন, “রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে ডেঙ্গু লেখা ছিল। বিএন বসু হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও একই কথা বলেছিলেন।” তাহলে মৃত্যুর শংসাপত্রে যে সেপসিস লেখা? এই বিষয়ে শিপ্রা দেবী বলেছেন, “আমি এখনও কোনও শংসাপত্র দেখিনি। হাতে না পেয়ে কিছু বলতে পারছি না।” যদিও এই বিষয়ে বিএন বসু হাসপাতাল বা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুখ খোলেননি।

Advertisement ---
---
-----