বৃহন্নলাদের অত্যাচারে থরথর করে কাঁপছেন অসহায় প্রৌঢ়া…

প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ঘড়ির কাঁটায় বিকেল সাড়ে পাঁচটা৷ আচমকা বাড়ির প্রধান ফটক ঝাঁকাচ্ছেন চারজন বৃহন্নলা৷ ছেলেরা কর্মস্থলে৷ বাড়িতে সদ্য সন্তান প্রসব করা অসুস্থ বউমা৷ কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না সত্তরোর্ধ্ব অসহায় বৃদ্ধা৷

এ দিকে ততক্ষণে গ্রিল টপকে বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যে ঢুকে পড়েছেন বৃহন্নলারা৷ চলছে, লাগাতার চিল চিৎকার৷ হাইপ্রেশার, সঙ্গে হার্টের অসুখ৷ ভয়ে, আতঙ্কে কাঁপতে শুরু করেছেন বৃদ্ধা৷ এ দিকে ততক্ষণে দরজা ঝাঁকিয়ে বৃহন্নলারা লাগাতার হুমকি দিয়ে চলেছেন, ‘‘বাড়িতে ছেলে হয়েছে৷ টাকা দিবি না মানে? ২১ হাজার টাকা নিয়ে আয়৷ না হলে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকব৷’’

শুক্রবার এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল সল্টলেকের বিএল ব্লক৷ টানা তিন ঘণ্টা বৃহন্নলাদের অত্যাচারের শিকার হলেন এক দাপুটে সাংবাদিকের মা৷ খবর পেয়ে আমরা হাজির হয়েছিলাম সেখানে৷ রীতিমতো অন্যায় আবদারের সুরে বৃহন্নলারা ক্যামেরার সামনে বললেন, ‘‘বাড়িতে সন্তান জন্মালে আমাদের টাকা দিতে হয়৷ আমরা সল্টলেকের প্রত্যেকটি এলাকা থেকেই এই টাকা নিয়ে থাকি৷ ওরা দেবে না মানে?’’

- Advertisement -

অবশেষে চার হাজার টাকায় রফা হয়৷ সাংবাদিক দেখে চার হাজার টাকা নিয়েই মুহূর্তে পগারপার বৃহন্নলারা৷ ততক্ষণে মায়ের কাছ থেকে উৎকণ্ঠার ফোন পেয়ে সাংবাদিক-ছেলে ফোন করে দিয়েছে বিধাননগর পূর্ব থানায়৷ পুলিশ আসার আগেই বৃহন্নলারা সেখান থেকে সরে পড়েন৷ তবে, চার হাজার টাকা নিলেও দাবি মতো টাকা না পাওয়ায়, যাওয়ার সময় ওই প্রৌঢ়াকে লক্ষ্য করে তাঁরা ছাপার ভাষার অযোগ্য বিভিন্ন অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করেন৷

গত সপ্তাহে এমনই ঘটনার সাক্ষী হয়েছিলেন সল্টলেকের সিজি ব্লকে এক বসবাসকারী৷ তাঁর কথায়, ‘‘মাস ফুরোলে পাঁচ হাজার টাকা মাইনে পাই৷ ওরা এসে বলছিল ১২ হাজার টাকা দিতে হবে৷ তা হলে সারা মাস খাবো কী? অনেক বুঝিয়ে শেষে এক হাজার টাকায় রাজি হই৷ কিন্তু টাকা নিয়ে আমার সন্তানকে আর্শীবাদ তো দূরের কথা, চরম অভিশাপ দিয়ে গেল ওরা৷’’

শুক্রবার, ওই বৃদ্ধার কথায়, ‘‘বাড়িতে তখন অসুস্থ বউমা, ১১ দিনের নাতি আর আমি৷ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের পাশাপাশি ওরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকার হুমকি দিচ্ছিল৷ এমনকি পাইপ বেয়ে দোতলায় ওঠারও হুমকি দিচ্ছিল৷ আতঙ্কে আমি কাঁপছিলাম৷ আপনারা এলেন বলে ওরা চার হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে গেল৷ না হলে কী যে হত, কে জানে!’’ ওই বৃহন্নলারা তাঁর বউমাকেও নিস্তার দিতে চাইছিলেন না বলে জানিয়েছেন তিনি৷

সল্টলেকের বাসিন্দাদের অনেকে বলছেন, বৃহন্নলাদের এই অত্যাচার নতুন নয়৷ পুলিশেও জানানো হয়৷ কিন্তু পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেই না৷ ফলে ওদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ৷ পুলিশ অবশ্য বলছে, অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়৷

Advertisement
---