টুটুর মন্তব্যে হারল ‘মোহনবাগানের মেয়ে’

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: কাম্য ছিল কোনও বিতর্কিত মন্তব্য। কাম্য ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলকে নিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে কোনও ‘কটু’ মন্তব্য। কিন্তু পুত্র সন্তান তুল্য জয়, হারের সমান মেয়ে! এত ‘আঁতেলেকচুয়াল’ কথাবার্তা টুটু বোসের মুখে আসে কি ?

এমন মন্তব্যই এল। কিন্তু এমন সময়ে এল সেই মন্তব্য যখন বিশ্বজুড়ে চলছে নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিয়ে লড়াই। তিনি ভুলে গেলেন চিরঞ্জিত অভিনীত ১৯৮৯ সালে ‘ইস্টবেঙ্গলের ছেলে’ যদি হিট হয়ে থাকে ১৯৭৬এর ‘মোহনবাগানের মেয়ে’ ছবিটি সেই তালিকাতেই পড়ে।

জীবন সিনেমার মতো। কিন্তু সব সিনেমা জীবন হয় না। সেটা বোধহয় ভুলে গেছিলেন টুটু বোস। আসলে আবেগ। এই বিষয়টা বহু বিখ্যাত মানুষকে বিভিন্ন পর্যায়ে ফেলেছে। কখনও খারাপের দিকে কখনও বা ভালোর দিকে। ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে জিদানের সেই ঢুঁশো, সৌরভের লর্ডসের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে জামা ওড়ানো, ১৯৯৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল হারের পর বিনোদ কাম্বলির কান্না, ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ের পর ধোনির শূন্যদৃষ্টি সবই আবেগের চিত্র। রাজনীতির ময়দানে আবার এমন আবেগতাড়িত হয়ে ‘ছড়িয়ে মাঠ ময়দান এক করা’-র লক্ষ লক্ষ উদাহরণ রয়েছে। টুটু বসু মুখ ‘ফসকে’ যা বলে ফেললেন তা যথেষ্ট বিতর্কিত।

- Advertisement -

আট বছর পর কলকাতা লিগ ঘরে তুলে আবেগের বশে মেয়েদের খর্ব করলেন ‘জাতীয় ক্লাব’ মোহনবাগান কর্তা। আবেগ যেন সব ভোলায়। কে বাংলা কে বেঙ্গল। কোনটা জয় কোনটাই বা হার সব ঘেঁটে ‘ঘ’ । মেয়েরা গলায় হার পড়তে পারেন, কিন্তু মেয়েরা কিভাবে পরাজয়ের প্রতীক হতে পারে সেটা বিশ্ববাসীকে জানালেন টুটুবাবু। ইস্টবেঙ্গল – মোহনবাগান একটা আবেগ। কিন্তু এত বছর লিগ না জিতে মোহনবাগানের মেয়ে হয়ে থাকা এবং হঠাৎ এক বিকালে লিগ জিতে তার ছেলে হয়ে ওঠা! এ কেমন রূপান্তর টুটু বাবুই জানেন।

ঘটনাটা কি ? কয়েকদিন আগেই গোষ্ঠী কোন্দলে জর্জরিত ছিল যে সবুজ-মেরুন তাঁবুর অন্দরমহল, সেখানেই যেন আনন্দের রোশনাই। বহু প্রতীক্ষার ফসল ক্লাবের কলকাতা লিগ জয়। আট বছর পর ট্রফি জয় আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে বাগান তাঁবুতে। সবুজ-মেরুন শিবিরে অকাল দেওয়ালি। আট বছর পর মোহনবাগানের লিগ জয়ে উচ্ছ্বসিত টুটু বসু।

খাতায় কলমে এই মুহূর্তে মোহন সভাপতি না থাকলেও দলের জয় এখনও সমানভাবে উপভোগ করছিলেন তিনি। প্রথমার্ধের খেলা শেষেই তিনি লিগ জয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন৷ বিরতিতেই লিগ জয় নিয়ে তাঁর ‘রসিক’ প্রতিক্রিয়া, ‘সাত বছর ধরে মেয়ে হচ্ছিল৷ হঠাৎ একটা ছেলে হয়েছে৷ কেমন লাগবে ভাই তেমন হলে? আমার ঠিক তেমনই লাগছে৷।’

বিতর্ক যে হয়ে গিয়েছে মোহনবাগানের কর্তারাও সম্ভবত বিষয়টা বুঝে গিয়েছেন অঞ্জন মিত্র থেকে ক্লাবের অঙ্গ সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায় কেউ ফোন ধরলেন না। ক্লাবের জুনিয়র দলের কোচ অমিয় ঘোষ ফোন ধরে প্রথমে বললেন, “এটা মোটেই ঠিক হয়নি। এটা যুক্তি নেই।” আবার আবেগ। এবার সামলে নিলেন কোচ। বললেন, “সামনে ভোট। আমি এইসব বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না। ” ততক্ষণে যা হবার হয়ে গিয়েছে।

Advertisement
---