গাছে মধুবনী চিত্র এঁকে গাছ বাঁচাচ্ছেন মহিলারা

বিহার: গাছ লাগান ও গাছ বাঁচান আন্দোলনে এখন সামিল হন বহু মানুষ কারণ তাঁরা জানেন পরিবেশ ও পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখতে গাছের প্রয়োজনীয়তা৷ কিন্তু যাঁরা এখনও এবিষয়ে সচেতন নন তাঁদের সচেতন করতেই এক অভিনব কায়দায় গাছ বাঁচাচ্ছেন মহিলারা৷ গাছে মধুবনী চিত্র এঁকে মানুষের মনে তৈরি করছেন ‘গাছ বাঁচাও’ মানসিকতা৷

শুধু বিশ্ব পরিবেশ দিবসের দিনেই নয়৷ তাঁরা কাজ করেন রোজ৷ বহু বছর ধরে করে চলেছেন এই কাজ৷ অনবরত গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে৷ সেই তুলনায় চারা গছ লাগানো বা তাকে বাঁচানোর তাগিদ নেই মানুষের মনে৷ তাই স্বাভাবিক ভাবেই গাছের সংখ্যা কমে আসছে দিনের পর দিন৷ সবাই দেখি সবাই জানিও৷ কিন্তু তার প্রতিকারে বা গাছ কাটা বন্ধ করতে এগিয়ে আসে কত জন? এগিয়ে এসেছেন বিহারের সুপোল জেলার ত্রিবেনীগঞ্জ এলাকার মহিলারা৷ প্রতিটি বড় গাছের গুড়িতে মধুবনী পেন্টিং করেন তাঁরা৷

এই এলাকায় মহিলাদের একটি দল রয়েছে৷ তাঁরা মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে আলাদা ভাবে ভাগ হয়ে বিভিন্ন এলাকায় রঙ তুলি নিয়ে পৌঁছে যান৷ একসঙ্গে তিন চারজন বসে আঁকতে শুরু করেন বিভিন্ন চিত্রকলা৷ আঁকার মধ্যে দিয়েই ফুটিয়ে তোলেন তাঁদের বক্তব্য৷ এলাকার মহিলাদের এই ভাবে গাছ বাঁচাতে এগিয়ে আসতে দেখে অনেকেই ভূয়সী প্রশংসা করেন তাঁদের৷ এর ফলে মানুষের মধ্যে আগারে থেকে সচেতনতাও অনেক বেড়েছে৷

- Advertisement -

এই প্রয়াসের পেছনে যাঁর হাত রয়েছে তিনি হলেন মিথিলা পেন্টিং এর জনক মহাসুন্দরী দেবীর পরিবার৷ মিথিলা পেন্টিং এর জন্য মহাসুন্দরী দেবী ২০১১ সালে পদ্ম বিভূষণ উপাধিতে সম্মানিত হন৷ তবে তিনি এখন বেঁচে নেই৷ কিন্তু তাঁর এই আদর্শকে সামনে রেখে এগিয়ে চেলেছেন তাঁর পুত্রবধূ৷ তিনি আজও দৃঢ় প্রত্যয়ী হয়ে গাছ বাঁচানোর পথে হেঁটে চলেছেন৷ তিনিই গাছ কিভাবে বাঁচানো যায় সেই নিয়ে এলাকার মহিলাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করেছেন৷ মহাসুন্দরী দেবীর দেখানো পথে চলায় ও মহিলাদের সঙ্গে নিয়ে গাছ বাঁচানোর এই প্রয়াসে ত্রিবেনীগঞ্জের সাবডিভিশন অফিসার তাঁকে সব রকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷ মহাসুন্দরী দেবীর পুরো পরিবার এবং এলাকার মহিলারা মিলে বৃক্ষ রক্ষার এই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন৷ প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে তাঁরা এই কাজে অনেকটাই সফল৷

Advertisement
---