মানসী সাহা, কলকাতা: ‘জঙ্গল আমাকে বরাবর কাছে টানে। পদে পদে ভয়, হিংস্রতা, সৌন্দর্য সব মিলিয়ে জঙ্গল এক বিরাট সম্পদ……’ ‘উডস ওয়ে’ ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি প্রদর্শনীতে এসে এমনটাই জানালেন, টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী গার্গী রায়চৌধুরী।

লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন। চারফ্রেমে বন্দি জঙ্গলের বন্যতা। তাই নিয়ে শহর কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে সম্প্রতি হয়ে গেল ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি এক্সিবিশন ‘উডস অ্যাওয়ে’-এর উদ্বোধন। উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী গার্গী রায় চৌধুরী, অরুনিমা, সঞ্জয় ভাদুরী  সহ শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
কোথাও বাঘ ছুটছে শিকারের পিছনে৷ ক্লান্ত সিংহ হাই তুলছে গুহা মুখে৷ হরিণের ভীতু চোখ! গাছের কোঠরে পেঁচা! নীল-সবুজ রাঙা পাখি। এক কথায় এক টুকরো জঙ্গল উঠে এসেছে কংক্রিটের এই শহরে।

ভারত ও আফ্রিকার জঙ্গলের হিংস্রতা ক্যামেরায় বন্দি করেছেন ফটোগ্রাফার জয়দীপ সুচন্দ্রা কুণ্ডু, শিলাদিত্য রায় চৌধুরী ও ধীমান ঘোষ। আগামী তিন দিন ধরে চলবে এই প্রদর্শনী।

লেন্সে বন্দি বন্যপ্রা: ফটোগ্যালারি দেখতে ক্লিক করুন

ওয়ালে ট্যাঙানো বন্যতা দেখে মুগ্ধ অভিনেত্রী অরুনিমা বলেন, ‘এখানে এসে আমার খুব ভাল লাগছে। আমি কখনও জঙ্গলে যাইনি। এখানে এসে মনে হচ্ছে এখন আর এই কথাটা বলা যাবে না’। যদিও ছোট থেকে অনেকবার জঙ্গলে ঘুরতে গিয়েছেন৷ হাতি দেখেছেন৷ কিন্তু ‘উডস অ্যাওয়ে’তে এসে নিজের চোখ ফেরাতে পারচ্ছে না গার্গী। অবাক চোখে শুধু জানান, ‘অসাধারণ’!

বিষয়টা যখন বন্যপ্রানী, তখন স্বাভাবিক প্রশ্ন উঠে আসে তাদের সংরক্ষণের৷ তাঁদের বিপন্নতার। চিত্রগাহক ধীমান ঘোষ বলেন, ‘গ্লোবালাইজেশনের ফলে সব থেকে বেশি ক্ষতি হচ্ছে জঙ্গলের প্রাণীদের। বিপন্ন হয়ে গিয়েছে বহু প্রজাতি। কিন্তু এতে আখেরে ক্ষতি হচ্ছে আমাদের। কারণ, এই গ্রহের রক্ষার জন্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। ‘উডস অ্যাওয়ে’ তারই এক ক্ষুদ্র প্রয়াস’।
ছবি: শশী ঘোষ

----
--