কেরল থেকে ফিরলেন আটকে পড়া শ্রমিকরা

স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: কেরলে ভয়াবহ বন্যায় আটকে পড়েছিলেন একাধিক রাজ্যবাসী৷ তাদের মধ্যে কেউ পর্যটক তো কেউ বা আবার কর্মসূত্রে কেরলে বসবাস করতেন৷ তাঁদের নিরাপদে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার জন্য কেরল থেকে বিশেষ ট্রেনেরও ব্যবস্থা করা হয়৷ অবশেষে কেরলে বন্যা কবলিত বাংলার মানুষ রাজ্যে ফেরেন।

বিশেষ ট্রেনের পর মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে এদের জন্য বিশেষ বাস ও খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়। এদিনের ট্রেনে কেরলের বন্যা কবলিত এলাকা থেকে ঘরে ফেরেন রাজ্যের প্রায় কয়েক হাজার মানুষ। সোমবার রাতে ত্রিবান্দম-হাওড়া বিশেষ ট্রেনে এরা হাওড়া স্টেশনে এসে পৌঁছয়।

আরও পড়ুন: পিএল রায় মানেই বাঙালির ঘুসিতে সাহেব কুপোকাতের কাহিনি

- Advertisement -

এদের ঘরে ফেরার জন্য স্টেশনের বাইরে বিশেষ বাসের বন্দোবস্ত করেছিল রাজ্য সরকারের পরিবহন বিভাগ। ট্রেন থেকে নেমে রাতে এইসব বাসে করেই বন্যা কবলিত মানুষেরা মুর্শিদাবাদ, মালদহ, নদিয়া সহ বিভিন্ন জেলায় তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। বন্যার কবল থেকে বেঁচে ফেরা এইসব মানুষের পাশে দাঁড়াতে স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

মূলত তাঁর তত্ত্বাবধানেই কেরল থেকে বিশেষ ট্রেনে আসা বন্যা কবলিত যাত্রীদের জন্য সহায়তা শিবির খোলা হয়েছিল। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহন বিভাগের সহায়তা শিবির থেকে বন্যা কবলিতদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়।

আরও পড়ুন: মমতার ‘মমতায়’ অচল দিদি বৌদিদের থ্রিলিং সন্ধ্যা

জানা গিয়েছে, এদিন ট্রেনে যারা ফিরেছেন তাঁদের অধিকাংশই সেখানে কর্মসূত্রে থাকতেন। আর বেশির ভাগই শ্রমিক৷ এরা গত কয়েকদিনের ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখ থেকে ঘরে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে। এদিন রাজ্য সরকারের পাশাপাশি হাওড়া জেলা বামফ্রন্টের উদ্যোগেও এদের হাতে শুকনো খাবার, জল তুলে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘বাংলা থেকে যারা কেরলে গিয়েছিলেন তাদের নিয়ে প্রথম ট্রেন আজকে হাওড়া স্টেশনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পরিবহন বিভাগ এদের ঘরে ফেরানোর জন্য বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। বাসের মধ্যেই খাবার, পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য বাস এখানে প্রস্তুত রয়েছে। সেই বাসে করে এদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বাংলার ছেলে যারা কেরলের কাজে গিয়ে বিপদে পড়ে গিয়েছিলেন তাদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। এরা নিরাপদে ফিরে আসছে এটা খুবই আনন্দের। তাদের সেবা করার জন্যই আমরা হাওড়া স্টেশনে রয়েছি।’’

আরও পড়ুন: কেরলে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি

তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রায় ১৫ থেকে ২০টা বাস এখানে প্রস্তুত রয়েছে। শেষ পর্যন্ত আরও যদি বাস লাগে তার ব্যবস্থাও করা হবে। সেই সঙ্গে আরও দুটি স্পেশাল ট্রেন আগামী দিনে আসবে৷ তখনও একই ভাবে পরিষেবা দেওয়া হবে৷ পরিবহন দফতর একই ভাবে তাদের পাশে সেবা করার জন্য তৈরি থাকবে বলে জানিয়েছে৷’’

এসবের পর মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা সুরেশ নামের এক ট্রেনযাত্রী বলেন, ‘‘খুব কষ্টে এসেছি। তিনতলায় ছিলাম। ভয়ংকর দৃশ্য দেখেছি। সেখানে কেরল সরকার এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আমাদের খাবারের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। আমরা তাই খেয়েই ছিলাম।’’

আরও পড়ুন: ভুয়ো খবরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হোয়াটসঅ্যাপ সিইওকে অনুরোধ মন্ত্রীর

অন্যদিকে, আজাদ শেখ নামের এক ট্রেনযাত্রী বলেন, ‘‘দিদি আমাদের বাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। খাবারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আমরা খুব খুশি। কেরল সরকারও আমাদের খুব সাহায্য করেছে। ওখানে দোকানে খাবার কিনতে পারছিলাম না। আমরা একটি মাদ্রাসায় ছিলাম। কোনও ভাবে বেঁচে সেখান থেকে ফিরেছি।’’

আরও এক যাত্রী সামিরুল নাসির বলেন, ‘‘সমস্ত কিছু জলে ডুবে গিয়েছিল। আমরা পাশের গ্রামের উঁচু জায়গায় ছিলাম। আমরা কোনও মতে ফিরে এসেছি।’’

আরও পড়ুন: মোদীর হাত থেকে বাজপেয়ীর চিতাভস্ম নিয়ে ফিরবেন দিলীপ

Advertisement ---
---
-----