জলপাইগুড়ি: হাতি মৃত্যুর ঘটনা প্রায় রোজই শিরোনামে৷ অধিকাংশক্ষেত্রেই সেই মৃত্যু ট্রেনে কাটা পড়ে৷ এমনও হয়েছে হাতি করিডোরে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গিয়েছে দাঁতালের৷ এ নিয়ে বনদফতরের সঙ্গে রেলের বিতণ্ডা কম হয় না৷ তবু দিনের শেষে কিন্তু বলি হতে হয় একটা নিরপরাধকেই৷ বহু সচেতনতা, বহু আলোচনা-মেলেনি সমাধানসূত্র৷

আরও পড়ুন: রাতের পাখি আমি: স্বস্তিকা

Advertisement

রবিবার বিশ্ব হস্তী দিবসে আরও একবার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এগিয়ে এল পশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে লড়াই করে এমন এক সংগঠন৷ নাম SPOAR (Society for protecting Ophiofauna & Animal rights)৷ লোকসঙ্গীত, পথনাটিকার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিল সচেতনতার বার্তা৷

জলপাইগুড়ির ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় তারা পরিবেশন করে টুকরো টুকরো অনুষ্ঠান৷ ডুয়ার্সের ওদলাবাড়ি, গজোলডোবা, লাটাগুড়ি, চালসাকে বেছে নেওয়া হয় অনুষ্ঠানের জন্য। আসলে এই জায়গাগুলিতে হাতির আনাগোনাও বেশি৷ হাতির নিরাপত্তাও ততটাই প্রশ্নের মুখে৷

আরও পড়ুন: বিজেপি অফিসে ভাঙচুরে নাম জড়াল তৃণমূলের

SPOAR-এর এদিনের অনুষ্ঠানের লক্ষ্যই ছিল হাতির বিচরণক্ষেত্রের মধ্যে থাকা লোকালয়গুলিতে হাতি সম্পর্কে সচেতনতা প্রসার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হাতির প্রতি সহনশীলতা বাড়ানো৷ এই এলাকাগুলিতে হাতি-মানুষ সংঘাতের প্রবণতা কমিয়ে আনা।

SPOAR এর সদস্যদের একটি নাট‍্যদল “মানবসংঘাতে হাতির অপমৃত্যু” বিষয়টি নিয়ে একটি পথনাটিকা করে৷ প্রখ‍্যাত বেতারশিল্পী নীলকমল বারুই উত্তরবঙ্গের হাতি ও প্রকৃতি বিষয়ে লোকসঙ্গীত পরিবেশন করেন। Wildlife Trust of India (WTI)-এর Right of Passage প্রকল্পের অধীনে গৃহীত কর্মসূচির আওতায় এই অনুষ্ঠান৷

হাতি মৃত্যু নিয়ে বরাবরই রেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে বনদফতরের৷ দফতর সূত্রে খবর, বনকর্মীরা স্থানীয় রেল অফিসে বারবার সতর্কবার্তা দিলেও তা তেমন গুরুত্ব পায় না৷ এমনকী নিজস্ব নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে বনদফতর হাতির পাল আসার সঙ্কেত পেলে বাল্ক এসএমএসের মাধ্যমে তা ডিআরএম অফিসেও পাঠায়৷ কিন্তু তাতেও লাভ হয় না৷ এলাকার লোকজনের অভিযোগ, হাতির বিচরণক্ষেত্র দিয়েও যে গতিতে ট্রেন যাতায়াত করে তাতে বেঘোরে প্রাণ তো যাবেই৷ তবে এ বিষয়ে রেলের কোনও আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি৷

আরও পড়ুন: গোষ্ঠী কোন্দলেই মাঠে মারা যাচ্ছে অমিত শাহের স্বপ্ন!

https://youtu.be/SsUN6kfJlf0

----
--