বিশ্বের সেরা ১০ গুপ্তচর সংস্থা

নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি দেশেরই নিজেস্ব গুপ্তচর সংস্থা রয়েছে৷ বড়সড় হামলা ঠেকানো যেমন গুপ্তচর সংস্থার কাজ তেমনই শত্রুদের যাবতীয় গোপন অপারেশেনর খবর রাখা এবং প্রয়োজন পড়লে গোপন মিশন চালিয়ে শত্রুদের যাবতীয় পরিকল্পনাকে ভেস্তে দেওয়ার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের দিয়ে তৈরি করা হয় এই স্পেশাল স্কোয়াড৷ এখানে বিশ্বের এমন ১০টি গুপ্তচর সংস্থার নাম দেওয়া হল যাদের দক্ষতার জন্য বিশ্বজোড়া নাম রয়েছে৷

১০.ASIS অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ান সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস৷১৯৫২ সালে এই এজেন্সির জন্ম৷সারা বিশ্বে অস্ট্রেলিয়ার ঘোষিত কোনও শত্রু দেশ না থাকলেও জঙ্গি হামলা এই দেশেও বহুবার ঘটেছে৷ যার জন্য অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তায় এএসআইএসের গুরুত্ব অনেকটাই৷

- Advertisement -

৯.FSB রাশিয়া

রাশিয়ার ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল সময়ের ব্যবধানে গুপ্তচর সংস্থার নাম পরিবর্তন হয়৷ সোভিয়েত জমানায় প্রথম যে এজেন্সিটি ছিল তার নাম ছিল চেকা৷ সময়ের ব্যবধানে চেকা পরে হয়েছিল কেজিবি৷ পরবর্তীকালে সোভিয়েত জমনার শেষে রাশিয়ায় নতুন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্সির জন্ম হয়৷ যার নাম হয় এফএসবি৷ সেই হিসেবে কেজিবিকে অনেকেই এফএসবির পূর্বসূরী বলে থাকেন৷আমেরিকার সিআইএ এফএসবির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী৷

৮.BND জার্মানি

১৯৫৬ সালে তৈরি জার্মানির এই গুপ্তচর সংস্থা ইজরায়েল এবং লেবানানের যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল৷লেবানানের জেল থেক বহু যুদ্ধবন্দিদের মুক্তির পিছনেও জার্মানির এই গুপ্তচর সংস্থার হাত ছিল বলে মনে করা হয়৷ এছাড়াও যুদ্ধের সময় সাংবাদিকদের ওপর চরবৃত্তিরও অভিযোগ রয়েছে বিএনডি-র বিরুদ্ধে৷

৭.ISI পাকিস্তান

7এই নামটির সঙ্গে বিশ্বের সকলের পরিচয় না থাকলেও প্রত্যেক ভারতবাসীর আছে৷ ইন্টার সার্ভিস ইনটেলিজেন্স সংক্ষেপে আইএসআই পরোক্ষে পাকিস্তান সরকারকেও নিয়ন্ত্রণ করে৷১৯৪৮ সালে তৈরি হয় এই সংস্থা৷ পাকিস্তান যে বিদেশনীতীই নিক না কেন? তাতে আইএসআইয়ের প্রভাব থাকবেই৷ জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গেও আইএসআই এজেন্টদের ওঠাবসা রয়েছে৷ ভারত বিরোধী অপারেশেন আইএসআইয়ের মূল অ্যাজেন্ডা৷

৬.DGSE ফ্রান্স

ডাইরেক্টর জেনারেল ফর সিকউরিটি এক্সটারনাল৷১৯৮২ সালে তৈরি ফ্রান্সের এই সিক্রেট সার্ভিস এজেন্সি মধ্য আফ্রিকায় ফরাসি কলোনি তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিল৷ তবে ইতিহাসের পাতায় বিখ্যাত ফোর্টিন জুলিয়েট অপারেশনে ব্যর্থতার দাগও লেগে আছে এই সংস্থার সঙ্গে৷

৫.MSS চিন


কমিউনিস্ট দেশ চিনের গুপ্তচর সংস্থা এমএসএসের তাঁর বিশাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কের জন্য বিশ্বজোড়া সুনাম রয়েছে৷ ভারত,আমেরিকা এবং জাপানের মতো দেশগুলিতেই এমএসএস এজেন্টরা সব থেকে বেশি সক্রিয়৷ তাই এই দেশগুলিতেই মাঝেমধ্যেই এমএসএস এজেন্ট ধরা পড়ার খবর মেলে৷

৪.RAW ভারত

রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং৷ দক্ষতার জন্য সারা বিশ্বে ভারতের এই গুপ্তচর সংস্থার সুনাম রয়েছে৷ পাকিস্তানের আইএসআই ‘র’ এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী৷ ১৯৬৮ সালে ‘র’ এর জন্ম৷ সংস্থার প্রথম ডিরেক্টর হলেন আর কে নাও৷ স্মাইলিং বুদ্ধ,মেঘদূত,চানক্যর মতো একাধিক অপারেশনে সাফল্যর জন্য ‘র’কে বিশ্বের প্রথম সারির গুপ্তচর সংস্থা হিসেবে ধরা হয়৷ এছাড়াও ভারতের প্রথম পরমাণু পরীক্ষার সময়ও ‘র’ এর বিশাল ভূমিকা ছিল৷ এছাড়াও শ্রীলঙ্কার জাফনায় এলটিটিই দৌরাত্ম্য রুখতে ভারতের হস্তক্ষেপের সময়ও ‘র’ এর ভূমিকা অনস্বীকার্য৷

৩.MOSSAD ইজরায়েল

ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদও সারা বিশ্বে একটি প্রথম সারির গুপ্তচর সংস্থা৷ সারা বিশ্বে জিউদের রক্ষাকবচ বলা হয় মোসাদকে৷ তালিবান জঙ্গিদের নিকেশে মোসাদের বহু কোভার্ট অপারেশন সাফল্য পেয়েছে৷ তালিবান জঙ্গিদের কাছে দুঃস্বপ্নের নাম মোসাদ৷

২.MI6 ব্রিটেন

যারা জেমস বন্ড  সিরিজের ফ্যান৷ তাঁদের কাছে এমআইসিক্স অতিপরিচিত নাম৷কারণ জেমস বন্ড এমআই সিক্সের এজেন্ট৷ মিলিটারি ইন্টেলিজেন্ট সিক্স নামে এই সংস্থাকে সংক্ষেপে এমআই সিক্স বলা হয়৷ প্রযুক্তির ব্যবহারে এমআই সিক্সের জুড়ি মেলা ভার৷কোল্ড ওয়ারের সময় এমআই সিক্স যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল৷

১.CIA মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএ না থাকলে হয়ত কোনওদিনই আমেরিকা লাদেনকে খুঁজে পেত না৷ অ্যাবোটাবাদে লাদেন নিকেশ অভিযানে সিআইএ-র যেভাবে গোটা অপারেশনকে পরিচালনা করেছে তা বিশ্ব গুপ্তচর সংস্থার কৃতিত্বের ইতিহাসে একেবারের উপরের সারিতে৷ এছাড়াও আফগানিস্থান এবং ইরাকে মার্কিন সেনা অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বিশ্বের সব থেকে ধনী দেশের এই সিক্রেট ইন্টলিজেন্স সার্ভিসের৷ আর কোল্ড ওয়ারের সময় সিআইএ এজেন্টদের গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে আজও অনেক গল্পগাঁথা শোনা যায়৷

Advertisement
---