সত্তরে পূরণ বিশ্বযুদ্ধের অধুরা প্রেমকাহিনি

নিউ ইয়র্ক: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শুরু এই লাভ স্টোরি। তারপর সময় পেরিয়ে গিয়েছে ৭০ বছর। বদলেছে অনেক কিছু। চুলে পাক ধরেছে। কে, কোথায় কেউ জানে না। কিন্তু এত বছর পরও যে ফের দেখা হওয়া সম্ভব তা বোধহয় তাঁদেরই স্বপ্নেরও অতীত ছিল। গল্পের মত শোনালেই সেটাই এবার সত্যি হতে চলেছে। ৭০ বছর পর আরও এক বসন্তে ৯৩ বছরের প্রেমিকের সঙ্গে  দেখা হবে ৮৮ বছরের প্রেমিকার। তার জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যোদ্ধা নরউড থমাস যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়া। সেখানেই থাকেন হারিয়ে যাওয়া প্রেমিকা জয়েস মরিস।

১৯৪৪। মরিস তখন ১৭ বছরের কিশোরী। দেখা হয় তাঁর 'টমি'র সঙ্গে। ২১ বছরের মার্কিন যোদ্ধা তখন লন্ডনবাসী। একে অপরের প্রেমে পড়ে যান তখনই। তারপর যুদ্ধ শেষে আর দেখা হয়নি। এবার ভ্যালেন্টাইনস ডে তে আবার দেখা হবে দু'জনের।thomas-2

মাস দুয়েক আগে দু'জনের ছেলে তাঁদের যোগাযোগ করিয়ে দেয়। কথা হয় স্কাইপে। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক অনলাইনে কথা হয় তাঁদের। মরিস তাঁর বুড়ো প্রেমিককে দেখার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। কিন্তু থমাস জানান, তিনি যা রোজগার করেন তাতে তাঁর পক্ষে অস্ট্রেলিয়া যাওয়া সম্ভব নয়। তাঁদের দেখা করাতে ফান্ড যোগাড় করা শুরু হয়। ৩০০ জন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের কথা প্রচার পাওয়ার পর এয়ার নিউজিল্যান্ড থমাসকে বিনামূল্যে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়।

- Advertisement DFP -

থমাস বলেন, 'একদিন বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে ছিলাম। সুন্দরী যুবতীদের উপর নজর ঘোরাফেরা করছিল। টেমসের উপর সেতু দিয়ে পার হওয়ার সময় দেখি নিচে যুবতী ঘুরছে। তরতর করে নেমে এলাম। ঘোরাফেরা করতে শুরু করলাম তাদের আশেপাশে। সেখানেই দেখা ফার্স্ট লাভের সঙ্গে।' এরপর কয়েক মাস ডেটিং করে থমাস ও মরিস। দু'জনেই গভীর প্রেমে পড়ে যান। যুদ্ধ শেষে আমেরিকা ফিরে যাওয়ার সময় আসে। সেখানে গিয়ে বিয়ের কথাও বলেন থমাস। কিন্তু মরিস যেতে চাননি। কারণ তিনি তখন নার্সের ট্রেনিং নিচ্ছিলেন। এরপর থমাস অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেন। ৫৬ বছর একসঙ্গে কাটান তাঁরা। ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যু হয় থমাসের স্ত্রী'র।

আপাতত দু'জনেই খুব খুশি। দেখা হলে কি বলবেন, কি করবেন ভেবেই পাচ্ছেন না। এই বসন্তে কি তাঁরা আবার নতুন করে প্রেমে পড়বেন? ফিরে যাবেন ৪৪-এর টেমসের তিরে? উত্তেজনায় অধীর থমাস ও মরিস।

 

Advertisement
----
-----