রাস্তা নয়, সাক্ষাৎ নরক……!

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: কোনও চরম শত্রু আছে ? বা এমন কেউ যাকে আপনি দুচোক্ষে দেখতে পারেন না। তাহলে তাঁকে বজবজ রোডের জিঞ্জিরা বাজারে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিন। নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে নরক যন্ত্রণা ভোগের স্বাদ আপনি তাকে দিয়ে দেবেন। এমনই অবস্থা সেখানকার রাস্তার।

বজবজ রোড ধরে একটু গেলেই দেখা মিলবে মর্তের নরকের। বাস থেকে লরি, সাইকেল সবই সেখানে চলেছে পালকি চালে। দোদুল্যমান সড়ক ভরতি খানা খন্দে। তার উপর জমা জলে থেকে থেকে চারিদিকে জমে গিয়েছে কাদা। তার উপর দিয়েই দিনের পর দিন যাতায়াত করছে এলাকার মানুষ। নরক যন্ত্রণা ভোগ করছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া থেকে শুরু করে কাজের সূত্রে আসা মানুষ। প্রত্যেকেরই অভিযোগ গত মাস দুয়েক ধরে এই অবস্থা হয়ে রয়েছে জিঞ্জিবাজার এলাকার এই রাস্তার। কিন্তু প্রশাসন নির্বিকার।

- Advertisement -

পথ চলতি অটোচালক বলেন , “আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি। দিনের পর দিন এই অবস্থা চলছে। কারোর কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই।” এক স্কুল ফেরত ছাত্র বলেন, “আমরা রোজ স্কুল যাওয়া আসার পথে ভয়ে ভয়ে যাতায়াত করি। বৃষ্টি হলে অবস্থা আরও খারাপ হয়।”

রাস্তা সারাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে কিছু ইট ফেলে। এক রাস্তা সারাইয়ের কর্মী বলেন, “একুশে জুলাইয়ের আগে কাজ শুরু করেছি। অনেকটা বড় রাস্তা। তারাতারি কাজ করার চেষ্টা করছি।” রাস্তা সারাইয়ের দায়িত্বে থাকা এক কনট্রাক্টর বলেন। “এখন জলের লাইন ঠিক করা হচ্ছে। তারপরে রাস্তা সারাইয়ের কাজে হাত পড়বে। এখন দশ পনেরো দিন সময় লাগবে রাস্তা সারাইয়ের আসল কাজ শুরু হতে।”

বাম আমলের শেষের দিকের অন্যতম ট্রেডমার্ক ছিল খারাপ রাস্তা। সেই ছাপ যেন আবারও ফিরে আসছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও অনেকেই এই রাস্তা নিয়ে সরব হয়েছেন। কলকাতার একটি জনৈক দৈনিক সংবাদপত্রের এক সাংবাদিক লিখেছেন, “জিনজিরিয়া বাজার থেকে শম্পা-মির্জানগর আবাসন।

বাজি রাখতে পারি, এ রাজ‍্যের কোথাও কোনও রাস্তার পরিস্থিতি এমন প্রাণঘাতি নয়। ছোট গাড়ি তো দূরস্থান, বাস পর্যন্ত আটকে যাচ্ছে গভীর গর্তে। একবার বামদিকে একবার ডানদিকে হেলে যাচ্ছে বাস। ড্রাইভার কন্ডাক্টরকে ডেকে বলছে, গেটের সিঁড়ি এবার ধাক্কা খাবে। প‍্যাসেঞ্জার ভেতরে ঢোকা। যাত্রীদের মধ‍্যে তখন ‘ত্রাহি ত্রাহি’ রব। যে কোনও দিন বড় দুর্ঘটনা ঘটবেই।”

এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ রতন দে বলেন, “ওই রাস্তা পোর্টের দায়িত্বে রয়েছে। আমরা পোর্টকে বলেছি কাজ করতে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের পোর্টের সঙ্গে মিটিং হয়েছে। ওদের বলেছি কাজ না করতে পারলে আমাদের দায়িত্ব দিন। আমরা করে নেব। কিন্তু ওঁরা বলেছে নিজেরাই ওই রাস্তা সারাবে।

Advertisement ---
---
-----