সোয়েতা ভট্টাচার্য, কলকাতা: বাংলাদেশে ইয়াবা মাদক পাচার করতে শহর কলকাতাকেই ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে মাদক পাচারকারীরা। এই মাদকের চাহিদা সব থেকে বেশি বাংলাদেশে।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে এক মহিলা খেলোয়ারকে ১৪ হাজার ইয়াবা মাদক সহ ধরা হয়েছিল। মায়ানমার থেকেও বাংলাদেশে রমরমিয়ে ইয়াবা মাদক পাচার হয়। সেই ইয়াবা মাদক সহ ছয় মাদক পাচারকারীদের গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের এসটিএফ।

Advertisement

পড়ুন: ২০০০ ইয়াবা সহ শহর থেকে গ্রেফতার ছয় যুবক

ধৃতদের মধ্যে এক বাংলাদেশিও রয়েছে। ধৃত এই বাংলাদেশি মাদক পাচারকারি মহম্মদ রাডু আহমেদ সেদেশের চাপাই-নবাবগঞ্জের বাসিন্দা বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারিরা। এই রাজুই দলের পান্ডা বলে অনুমান করছেন এসটিএফ কর্তারা। তার নেতৃত্বেই এই মাদক বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে অনুমান। তাদের কাছ থেকে ২০০০ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

কি এই ইয়াবা ট্যাবলেট??
এসটিএফের এক কর্তা জানান, এই ইয়াবা ট্যাবলেট ‘ক্রেজি ড্রাগস হিসেবেও পরিচিত। ইয়াবা’ নামে ওই ড্রাগের বাংলাদেশে প্রবল চাহিদা আছে বলে জানা যায়। এতে Mathamphetamine ও caffeine থাকে। এটিকে ‘ম্যাডনেস ড্রাগও’ বলা হয়। এগুলি আকারে ছোট দানার মত হওয়ায় সহজেই পাচার করা সম্ভব।

বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে এই ড্রাগের ব্যবহার বেড়েছে। এগুলি মূলত মায়ানমার থেকে আনা হয়। উত্তর-পূর্ব অর্থাৎ অসম, মণিপুর হয়ে ভারতে ঢোকে এগুলি। তারপর কলকাতা হয়ে যায় বাংলাদেশে। এর আগেও একাধিকবার এই ধরনের পাচারচক্রের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। বাংলাদেশে এই ড্রাগগুলিকে ‘পিল’, ‘লাল’, বাবা’, ‘চাক্কা’, ‘গুটি’ বা ‘বড়ি’ হিসেবেও ডাকা হয়।

২০১৬ তে ৩৫৯ জন রোহিঙ্গাকে এই ইয়াবা পাচারের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই ড্রাগসের চৃহিদা যুব সমাজে সব থেকে বেশী বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

----
--