একসময় গোটা মন্ত্রিসভাকে গুলিতে ঝাঁঝরে করে দিয়েছিলেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট

সানা: ইয়েমেনের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট সালে নিহত হয়েছেন। সালের সময়েই উত্তর এবং দক্ষিণ ইয়েমেন এক হয়েছিল। বাকি আরব দুনিয়ার মত, ইয়েমেনও একসময় ছিল অটোমান তুর্কি সাম্রাজ্যের অধীন। ১৯১৪ সালে তুরস্কের সঙ্গে এক চুক্তির বিনিময়ে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেন ভাগ হয়ে যায়। উত্তর অংশ তুরস্কের অধীনে থাকে, দক্ষিণ ইয়েমেনসহ ৩২টি শেখশাহী ব্রিটেনের করতলগত হয়। সালের আমলেই দুই ইয়েমেন একত্র হয়েছিল। সালের মৃত্যুতে একটি দীর্ঘ পর্ব শেষ হয়ে গেল।

আরব দুনিয়ার অন্যান্য রাষ্ট্রের মতই ইয়েমেনেরও শাসককুলে হত্যালীলার ঘটনা এই প্রথম নয়। উত্তর ইয়েমেনের প্রথম স্বাধীন শাসক ইমাম ইয়াহিয়ার হত্যা-কাণ্ড দিয়ে সেখানে এই ধরনের অপঘাতের সূচনা হয়েছিল। ইয়েমেনকে নিয়ে বরাবরই সৌদি আরবের সমস্যা রয়েছে। মূলত, ভূখণ্ড নিয়েই তাদের মধ্যে ঝামেলার সূত্রপাত। ইয়াহিয়ার পর উত্তর ও দক্ষিণ উভয় ইয়েমেনেই রক্তপাতের ঘটনা বহুবার দেখা গিয়েছে। দক্ষিণ ইয়েমেন, যেটাকে স্বাধীনতার আগে ব্রিটিশরা এডেন প্রোটেক্টরেট বলত, সেখানে গৃহযুদ্ধের সূত্রে এমন রক্ত ঝরেছিল যে শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশরা এডেন ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল।

ইদানীং, ইয়েমেনে যে গৃহযুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হয়েছে তার জন্য সেখানকার পাহাড়ি উপজাতি হাউতিদের সঙ্গ সৌদি আরবের সংঘর্ষই মূলত দায়ী। এই অবস্থা অবশ্য ইয়েমেনকে যে নতুন করে সমস্যায় ফেলেছে তেমন নয়। পাহাড়ি উপজাতি সহ বিভিন্ন উপজাতীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে সেখানকার রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের ঝামেলা কখনই মেটেনি। তার উপর শাসককুলের অন্তর্কলহ তো রয়েইছে। সালে উত্তর ইয়েমেনের ক্ষমতায় এসেছিলেন ১৯৮০ সাল নাগাদ। তাঁর ক্ষমতায় বসার কারণও ছিল পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টের অপঘাত মৃত্যু। ঠিক একইভাবে ১৯৮৬ সালে দক্ষিণ ইয়েমেনের প্রায় গোটা মন্ত্রিসভা শেষ হয়ে গিয়েছিল এক অভ্যুত্থানে। ওই মন্ত্রিসভা যখন মিটিং-এ বসেছিল তখন তাঁদের সাবমেশিনগানের গুলিতে ঝাঁঝরা করে ক্ষমতায় এসেছিলেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। যদিও কিছুকাল বাদেই তিনি পালিয়ে উত্তর ইয়েমেনে আশ্রয় নেন।

সুতরাং, সালের মৃত্যু যে ইয়েমেনের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক কোনও ঘটনা তা নয়। সালে ক্ষমতায় থাকতে একটা বড় কাজ করেছিলেন। দুই, ইয়েমেনকে তিনি জোড়া লাগিয়েছিলেন। কিন্তু, ২০১২ সালে ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর নিজের অস্তিত্বরক্ষায় তিনি সৌদি আরবের দিকে এতটাই ঝুঁকে পড়েন যে, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই তাঁকে তার মূল্য চোকাতে হল।

----
-----